মুক্তিযোদ্ধা নয়, পুরো দেশকেই অপমান করা হবে

প্রকাশ:| শনিবার, ১ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:১১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ঐক্যমঞ্চ’র মানববন্ধনে বক্তারা
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শুধু মুক্তিযুদ্ধ কিংবা

মুক্তিযোদ্ধা নয়, পুরো দেশকেই অপমান করা হবেবয়স মেপে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি ঘোষণার বিষয়কে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবান্ধব সরকারকে বিতর্কিত করতে একশ্রেণীর আমলাদের অনৈতিক গাঁজাখুরী সিদ্ধান্ত হবে এটি-এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শুধু মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধা নয়, পুরো দেশকেই অপমান করা হবে।
অবিলম্বে এসব সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই হোক-এটি আমরাও চাই, তবে বয়স মেপে যে প্রক্রিয়ায় এটি করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে সেটি শুদ্ধ প্রক্রিয়া নয়।
বয়স মেপে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ঐক্যমঞ্চ’র উদ্যোগে গতকাল ১ নভেম্বর শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা বাতিল করে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের এককালীন সাহায্য-সহযোগিতার জোর দাবিও জানান তাঁরা।
বক্তারা আরো বলেন, যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধারা কোন অভিলাষে কিংবা কিছু পাওয়ার আশায় মুক্তিযুদ্ধে যাননি, গিয়েছেন দেশমাতৃকার টানে। সুতরাং কোন প্রকার দান-দক্ষিণা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে অপমানকর। জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করে অসচ্ছলদের স্বচ্ছলতা আননয়নে বর্তমান সরকারকে ভূমিকা রাখার আহবান জানান তাঁরা। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিতকরণের দাবির সাথে আমরা একমত তবে প্রক্রিয়ার সাথে নয়। ভূয়া নির্ধারণের জন্যে বয়সের মানদণ্ড অপমানযোগ্য বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাশেম, মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক ড. ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল হক সৈয়দ ও খলিল উল্লাহ সর্দ্দার, চট্টগ্রাম পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিমুদ্দিন শ্যামল, চ্যানেল আই ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, সাংবাদিক সৈয়দ আলমগীর সবুজ, আজাদ তালুকদার, সাইদুল ইসলাম, আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফরিদ মাহমুদ, সদস্য হাসান মুরাদ বিপ্লব, এসএম সাঈদ সুমন, দেলোয়ার হোসেন দেলু, চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত পিপি সিরাজুল মোস্তফা মাহমুদ, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আবুল হোসেন, সংগঠক মঈনুদ্দিন কাদের লাভলু, মহানগর ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান রুমি, সহ-সভাপতি আবু মোহাম্মদ আরিফ, উপ-দপ্তর সম্পাদক সনেট চক্রবর্তী, সদস্য আসাদুজ্জামান জেবিন, চবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ মাহমুদ, ওমর ফারুক, দেলোয়ার হোসেন দিপু, তৃণমূল ছাত্রলীগ নেতা নিখিলেশ সরকার রাজ, মিথুন নাথ রনি, কামাল উদ্দিন চৌহানী, মো. রানা, মো. বিজয়, মো. আরিফ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ সভাপতি শেখ মহিউদ্দিন বাবু, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রবিন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক তরুণ লীগ সাধারণ সম্পাদক এসএম নাসির, দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন ভূইয়া, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত দত্ত, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মহানগর কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক হোসেন সরওয়াদী, মিরসরাই উপজেলা সভাপতি নয়ন কান্তি ধূম প্রমুখ।
এদিকে, মানববন্ধনে মুঠোফোনে একাত্মতা প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অধ্যাপক এ.কে.এম নাসিমুল কামাল, মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন, মহানগর কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ১৩ নভেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)’র ২৫তম সভায় ১৫ বছরের নিচে রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের আলোকে উপর্যুক্ত বিষয়ে ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক। সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন হলে শহীদুল ইসলাম লালু, তারামন বিবি ও আবু ছালেক বীরপ্রতিক, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল জলিল মন্ডল এবং কাদেরীয়া বাহিনীর প্রায় অর্ধেক সৈনিক মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।


আরোও সংবাদ