গুঁড়ো দুধ আমদানি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ৮ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১০:১৩ অপরাহ্ণ

আগামী বাজেটে শুল্কহার বাড়িয়ে বিদেশ থেকে মানহীন গুঁড়ো দুধ আমদানি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের (মিল্কভিটা) চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু।

রোববার (৮ এপ্রিল) কর্ণফুলী উপজেলার সাইন্যারটেকের একটি কমিউনিটি সেণ্টারে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে গবাদিপশু লালন-পালন বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিল্কভিটা চেয়ারম্যান এ তথ্য জানান।

এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কম দামে আমদানি করা বিদেশি মানহীন গুঁড়ো দুধের কারণে দেশি খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমদানি করা মানহীন দুধের কারণে দেশে উৎপাদিত দুধ থেকে তৈরি গুঁড়ো দুধ বাজারে টিকতে পারছে না। দেশে এক কেজি গুঁড়ো দুধ বাজারজাত করা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ টাকা খরচ হয়। অথচ বিদেশি গুঁড়ো দুধ বাজারে এর অর্ধেক দামে মিলছে। এতে সহজেই বোঝা যায় এসব দুধের মান কেমন বা কী দিয়ে তৈরি।

মিল্কভিটার পরিচালক নাজিম উদ্দিন হায়দারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আতাহার আলী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফরহাদ হুসাইন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রিয়াজুল হক, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনি, পটিয়া দুগ্ধ কারখানা স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পটিয়া দুগ্ধ কারখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ রফিক, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জীবন মঞ্জু, খলিল আহমদ, জাফর ইকবাল, মোহাম্মদ ইকবাল, হাজি শরিফ, ডা. ফোরকান, ডা. মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ বেলাল, মাসুদুল ইসলাম, মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ জাহেদ প্রমুখ।

শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে ১৫ কোটি হাতকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য যে কাজ শুরু করেছিলেন মিল্কভিটা তারই একটি অংশ। এদেশ গ্রামভিত্তিক। তাই তিনি গ্রাম পর্যায় থেকে উন্নয়নের কাজ শুরু করেছিলেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহের পর এখনো ঢাকায়

নিতে পাস্তুরিত করে তা বাজারজাত করতে হয়। এ কারণে খরচ বেশি হয় এবং প্রাইভেট কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারা যাচ্ছে না। এখন চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে ৩৭ কোটি টাকায়। এটি বাস্তবায়িত হলে এখান থেকেই চট্টগ্রাম বিভাগে মিল্কভিটার সব পণ্য বাজারজাত করা হবে। বাজারজাত করা পর্যন্ত খরচ কমায় খামারিরা দুধের দাম আরও বেশি পাবেন।
অতিরিক্ত সচিব ও মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আতাহার আলী বলেন, দারিদ্র্য দূর করা ও পুষ্টির যোগান নিশ্চিত করার জন্যই বঙ্গবন্ধু এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। আর বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া এ প্রতিষ্ঠানই একমাত্র নির্ভেজাল ও প্রিজারভেটিভ ছাড়াই পণ্য বাজারজাত করে। তাই মিল্কভিটার পণ্য গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে দেরি হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য ফ্রিজ ছাড়াই দীর্ঘদিন ফেলে রাখা যায়। এটা কীভাবে সম্ভব তা গ্রাহকদের বুঝতে হবে।