গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে – ফখরুল

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:২১ অপরাহ্ণ

fakrul-মির্জা ফখরুলঅত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সুচতুরভাবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘৭১-এর ভোট ডাকাতদের অধীনে নির্বাচন নয়, নির্বাচন হবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম।

পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতার জন্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর যখন গার্মেন্টস খাত শান্ত, তখন একজন মন্ত্রী এই খাতের শ্রমিকদের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন। জোর করে শ্রমিকদের নিয়ে এসে সমাবেশ করলেন, গোলযোগ সৃষ্টি করলেন। এরই ফলে এই নৈরাজ্য। দেশের অর্থনীতি যাতে দাঁড়াতে না পারে, মুখ থুবড়ে পড়ে যায় সেজন্য এই মন্ত্রীর নেতৃত্বে নতুন খেলা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্প টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে আজ সংশয় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ বর্তমান সরকার চায় না বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নতি হোক। আর এখন নৌপরিবহনমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার নতুন করে এই শিল্পকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের সমাবেশের কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, শ্রমিক সমাবেশে নৌপরিবহনমন্ত্রীর নেতৃত্বে শ্রমিকদের জোর করে আনা হয়েছে। আর এর পেছনে সরকার কাজ করেছে।

তিনি বলেন, ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সংসদ অধিবেশন চলবে এবং তার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। অথ্যাৎ এই সরকারের আর সময় আছে মাত্র ৪ সপ্তাহ। তিনি সরকারকে এই সময় শেষ হওয়ার আগে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপকে উপেক্ষা করে সরকার বলছে সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা নয় শরণার্থী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের মুখোশ পড়ে তলে তলে এক নায়কতন্ত্র কায়েম করে স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

’৭৫-সালে বঙ্গবন্ধু বাকশাল কায়েম করে সংবাদপত্র বন্ধ করেছিল ঠিক একই প্রক্রিয়া তার সন্তান শেখ হাসিনা সংবাদপত্র বন্ধ করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শ্যামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল বীরবিক্রম, খালেদা ইয়াসমীন প্রমুখ।


আরোও সংবাদ