গার্মেন্টস ব্যবসা ছেড়ে ইয়াবা কারখানা গড়লেন শ্যামল

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

ফারুক মুনির, নিউজচিটাগাং: ৩৭ বছরের যুবক শ্যামল মজুমদার, আজ হাতকড়া পরা অবস্থায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রেস কনফারেন্সরে মূল বিষয়। চেহারায় প্রচন্ড আত্ম প্রত্যয়ী। যে অপকর্মের জন্য তার মুখে ক্যামরার ক্লিক-ফ্ল্যাশ তা সর্বনাশা মাদক ইয়াবা তৈরী আর বাজার জাত করণের অপরাধ। গতরাতে তাকে তার তিন সহযোগীসহ নগর গোয়েন্দা শাখার পশ্চিম জোন গ্রেফতার করে।

একটু পিছনে ফিরি, এক সময় ৪০টি মেশিনের সমন্বয়ে শ্যামল গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট একটা গার্মেন্টস। সঙ্গ দোষ তাকে সেই মূলধারা থেকে টেনে নেয় অন্ধকার জগতে। মাদক পাপী রাখাল চন্দ্র ধরের হাত ধরে শ্যামল প্রবেশ করে এই অন্ধকার জগতে। রাখাল ১৯ জানুয়ারী ২০১২ গ্রেফতার হয়ে কারাগারেই মারা যায়। আজ শ্যামল যদি শুধু নিজেই অন্ধকারে যেতো সমাজ শুধু এক শ্যামলকে হারাতো। অথচ সেই অন্ধকার পথে সে তার সঙ্গী করেছে এ দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের একটা অংশকে। কাঁচা টাকার লোভ সামলে শ্যামল যদি গার্মেন্টস নিয়ে থাকতো গল্পটা হতে পারতো ভিন্ন।

শ্যামল ২০১২ সালে নগরীর রসুলবাগ আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার হয়েছিল। তখন সে ইয়াবা পাচার করতো। ২০১৪ সালের শেষ দিকে জামিনে বের হয়ে ইয়াবা পাচার নয়, একেবারে কারখানাই গড়ে তুলেছে। নগরীর ডবলমুরিং থানার মোল্লাপাড়ায় ভাড়া বাসায় কয়েকজন সহযোগীর সমন্বয়ে সে সর্বনাশা মাদক ইয়াবা তৈরী করতো। যে বাসা থেকে শ্যামল গ্রেফতার হয় সে বাসায় বিগত সাত মাস এবং এর পূর্বের বাসাসহ প্রায় তিন বছর ইয়াবা তৈরী করে।

শ্যামলের কারখানা দৈনিক ৫ হাজার ইয়াবা তৈরীতে সক্ষম। তার কারখানা থেকে ২৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে আড়াই লাখ তৈরীকৃত ইয়াবা, এ্যামফিটামিনযুক্ত পাউডার, দুটি মেশিন, চারটি ডাইস (যার মধ্যে একটির গায়ে R অপরটি গায়ে WY খোদাই আছে) প্রভৃতিসহ আমান, মামুন,আয়েশা ও  শ্যামলকে গ্রেফতার করে। উদ্ধারকৃত কাঁচামাল দিয়ে প্রায় দশ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরী করা যাবে। এটি ইয়াবা সংক্রান্ত সিএমপির সবচেয়ে বড় সফলতা বলে প্রেস কনফারেন্সে দাবী করা হয়।


নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এএএম হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার মঈনুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মহসীন পিপিএম ও মোঃ কামরুজ্জামান, এসআই আব্দুর রবসহ প্রমূখ অভিযানে অংশ নেন।

সিএমপির প্রেস কনফারেন্স শেষে ডিসি ডিবি পশ্চিমের কক্ষে গণমাধ্যম কর্মীদের শ্যামল মজুমদার জানায় ইয়াবা থেকে তার মাসে আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু তার সহযোগী মার্কেটিংএর দায়িত্বে থাকা আমান জানায় মাসে ‘লাখ খানেক টাকাতো থাকতোই’।

শ্যামল নগরের একটা ওয়ার্কশপ থেকে মেশিন এবং ডায়াসগুলো তৈরী করে নিয়েছে। সে নিজে কাঁচামাল সংগ্রহ করতো। ইয়াবা তৈরীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যারাসিটামল ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বডির পাউডার ব্যবহার করতো। এই বিদ্যার গুরু ছিল প্রয়াত রাখল ধর।

মোল্লা পাড়ার ভাড়া বাসায় তৈরী হওয়া ইয়াবা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতো আমান। আমান ২০০২ সালে নগরীর একটি বেসরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে দুবাই চলে যায়। ২০০৮ সালে ফিরে চকবাজারের মোবাইলের ব্যবসা শুরু করে। সেই দোকানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যবসায়।

অবলিলায় স্বীকার করে, কাস্টমার এসে ফোন করলে আমান শ্যামলের কারখানা থেকে নিজে নিয়ে কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিতো। কখনো কোন হোটেলে অপেক্ষা করতো কাস্টমার, কখনো কারখানার কাছাকাছি কোথাও আসতে বলতো কাস্টমারকে। তবে আমানের আরেকটি নাম আছে তা হলো খোকন। খোকনকে গ্রেফতার করতে হয়েছে শ্বশুর বাড়ি থেকে। গ্রেফতার করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে। শ্বশুর পক্ষ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় তারা পুলিশের উপর দলীয় ভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম জোন) এ. এম হুমায়ুন কবির নিউজচিটাগাং২৪কে জানান, এই সংঘবদ্ধ চক্রকে পুরোপুরি পাকড়াও করতে পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ধৃত আসামীদের রিমান্ড চাওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্যের ভিত্তিতে আগে-পিছে থাকা মাদক সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করা হবে।


আরোও সংবাদ