গাফিলতিতে লোকজন মরবে কেন প্রশ্ন ত্রাণমন্ত্রীর

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ২২ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম শহরের ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে ৬৮৪ পরিবারকে সরানো ৬ ঘণ্টার কাজ মন্তব্য করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন, ‘না সরলে, জায়গা ঠিক করার কথা বলে পুলিশের গাড়িতে করে তুলে নিয়ে আসবেন। তাদেরকে শেখ হাসিনার সরকার খাওয়াবে। তাদের খাওয়াতে শেখ হাসিনার সরকারকে কারো হাত পাততে হবে না। আমাদের গাফিলতিতে লোকজন মরবে কেন?

রোববার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নগরের সার্কিট হাউজে পাহাড়ধস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ও আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রম সম্পর্কিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে যা চাইবেন তাই পাবেন উল্লেখ করে মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কোন জিনিসের অভাব নেই। এ সরকারের আমলে আমরা বড় বড় দুর্যোগ মোকাবেলা করেছি। কেউ না খেয়ে মরেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন চাইবে দশ, দিবে বিশ। আমরা দেশের যেই জেলাতেই যাই, প্রধানমন্ত্রী সবার খোঁজ-খবর নেন। এই যে চট্টগ্রামে আসলাম; তিনি জিজ্ঞেস করবেন, চিটাগাংয়ে গিয়েছিলেন, আমার চট্টগ্রামের ভাই-বোনেরা কেমন আছেন? যদি কুষ্টিয়ায় যাই, তখন জিজ্ঞেস করবেন কুষ্টিয়ার ভাই-বোনেরা কেমন আছেন? আমার বলতে হবে আল্লাহর রহমতে, আপনার দোয়ায় চিটাগাংয়ের মানুষ খুব ভাল আছে।’

ত্রাণ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মন পরিস্কার ও কাজ করার মতো সাহস থাকলে সবকিছু করা সম্ভব। বাংলাদেশে বার মাসে বছর। বছরের চার মাস আমরা শান্তিতে থাকি। বিশেষ করে শীতকালে, সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত। দুর্যে‍াগ মোকাবেলায় সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। জেলা প্রশাসনের তালিকায় চট্টগ্রাম শহরে ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় আছে। সেখানে ৬৮৪ পরিবারের বসতি। তাদের সরানো ৬ ঘণ্টার কাজ। সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ৠাব, ফায়ার সার্ভিস পাহাড় থেকে এদেরকে সরাতে পারছেন না? কি ব্যাপার? কে মালিক, কে ভাড়া দিচ্ছে? ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ পানি, গ্যাসের লাইন কেটে দেন। তিনদিন যখন অন্ধকারে থাকবে, তারা পালিয়ে যাবে।’
ৠালি শুরুর আগেও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরী মায়া। মন্ত্রী বলেন, আমাদের গাফিলতিতে লোকজন মরবে কেন? এর দায়িত্ব কে নেবে? আসুন আমরা যারা দায়িত্বশীল পদে রয়েছি, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করি। আবহাওয়া পরিবর্তনশীল। কখন কি হবে, তা বলা যায় না। সেজন্য আমাদের সার্বক্ষনিক প্রস্তুত থাকতে হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও পাহাড়ধস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে একযোগে কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোহসীন, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মাসুদুল হাসান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, রাউজানের উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পাহাড়ধস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ও আগাম সতর্কতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৠালি বের করা হয়।

ৠালি শুরুর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘যেকোনভাবে পাহাড়ধস থেকে লোকজনকে রক্ষা করতে হবে। নির্দেশনার পর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে তারা সরে গিয়ে পুনরায় বসতি গড়ে তোলে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে লোকজনদের সরাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন সিটি মেয়র।
পাহাড় থেকে ১৫ মে’র মধ্যে লোকজন সরাতে হবে

যত প্রভাবশালী নেতাই হোক পাহাড় থেকে সরাতে হবে