গাজীপুরে শিল্প পুলিশের গুলিতে পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশ:| সোমবার, ১৮ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:০৮ অপরাহ্ণ

গাজীপুরের আশুলিয়ার পার্শ্ববর্তী সারদাগঞ্জ এলাকায় জিএমএস কম্পোজিট নিট ইন্ডাস্ট্রির প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশের গুলিতে আহত শ্রমিক বাদশাহ মিয়া (২৬) মারা গেছেন। আজ সোমবার সন্ধ্যায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সকেরা বাদশা মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।মৃত্যু রক্ত নিহত
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাদশা মিয়া ছাড়াও আরও ১০ জন পোশাকশ্রমিক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, আজ দুপুরে জিএমএস কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একজন ওই কারখানার এক নারী শ্রমিককে লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই কারখানার পোশাকশ্রমিকেরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন। ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানার প্রধান ফটক দিয়ে বের হতে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ফটকে তালাবদ্ধ করে দেন। এ সময় শ্রমিকেরা তালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলে থাকা শিল্প পুলিশের সঙ্গে তাঁদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিল্প পুলিশ একপর্যায়ে শ্রমিকদের ওপর গুলি চালালে ৩০ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয় বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকেরা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, নারী সহকর্মীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ করায় পুলিশ তাঁদের ওপর গুলি চালিয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাকিদের স্থানীয় কোনাবাড়ী ও গাজীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ
এদিকে এর আগে আজ সকাল থেকেই সম্ভাব্য শ্রমিক বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্য সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায় বিপুলসংখ্যা পুলিশ, বিজিবি ও শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এদিকে নতুন মজুরি কাঠামো চলতি মাস থেকে বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া টঙ্গীতে আজও পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ হয়েছে। এ অসন্তোষের কারণে ওই এলাকার কয়েকটি কারখানায় আজ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, আজ সকাল নয়টার দিকে আউচপাড়া এলাকায় পার্ল প্রিন্স পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকার দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে সামনের সড়কে বিক্ষোভ করতে থাকেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা একই এলাকায় অবস্থিত কমপক্ষে ১০টি কারখানার শ্রমিককে কাজ বন্ধ করিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিতে বাধ্য করেন। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা চেরাগ আলী-দেওড়া সড়ক আধা ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আসাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
টঙ্গীর আরও কয়েকটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে।