গল্প: নিস্তেজ নিস্তব্ধতা

প্রকাশ:| বুধবার, ২৭ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১০:৫১ অপরাহ্ণ

নিপা

নিপা সিকদার

যেমন বন্যা, তেমন বাতাস চারদিকে থৈ থৈ পানি।
আকাশে এমন জোরে বিদুৎ কম্পন হচ্ছে এই বুঝি আকাশটা ভেঙে পড়লো পৃথিবীর বুকে।
সবাই ইন্নালিল্লাহি দোয়া পড়ছে।
কেউ কেউ ব্যাগ, বস্তা গুছিয়ে চিড়া,গুঁড়, মুড়ি নিয়ে তৈরি হচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য।
মানুষ,কুকুর,বিড়াল কেউ নেই রাস্তায়। স্কুলের বারান্দায় চুপচাপ বসে আছি। সময় শেষে ঘরে ফিরি। যতক্ষণ স্কুলে ততক্ষণই শান্তি। ঘরের সব কাজকর্ম সেরে স্কুলে যাই। স্কুলে যাওয়ার সময় বান্ধবীরা ডাকতে আসলে মা রাগারাগি করে, মা ওদের আমার সাথে মিশতে মানা করতেন, আমার সাথে মিশলে ওরা খারাপ হয়ে যাবে। ওদের সামনে আমায় মারধোর করতো। আর এ নিয়ে ওরা বলাবলি ঠাট্টা বিদ্রূপ হাসতো। নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত ছিলাম তাই শিক্ষকরা অনেক ভালোবাসতেন। কখনো বেতনের জন্য চাপ দিতনা। তাহলে হয়তো মা আমার স্কুল বন্ধ করে দিতে পারে।টিফিনে সময় ব্যাগে মুখ লুকিয়ে বসে থাকতাম।অন্যের খাওয়ার সময় তাকালে হয়তো ওদের পেট খারাপ হতে পারে। ভাগ্য আমার কোনদিন একটা টিফিনের টাকাও জোটেনি। শিক্ষকদের সহায়তায় s.s.c পাশ করি। পরীক্ষায় বি গ্রেট পাই। এতে মা আরো উত্তেজিত হয়ে যায়। অবাক হয় যে মেয়েকে পড়তে দিতাম না, প্রাইভেট শিক্ষক নাই,ঠিকমতো বই পযন্ত নেই সে কিভাবে পাশ করলো?তুই নকল করে পাস করছিস নাকি।নিশ্চয়ই বোর্ডের ভুল আছে,মায়ের মনে ভিবিন্ন প্রশ্ন এরপর হতে জ্বালানি মাত্রা বেড়ে গেলো মা আমার ছায়াও সহ্য করতে পারতো না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে আমার মৃত্যু কামনা করতো। দুর হ আমার ঘর হতে- অলক্ষি,অপয়া তুই বের না হলে আমিই বেড়িয়ে যাব,তুই তোর বাপকে নিয়ে সংসার কর। মা সবসময় বাবাকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করে।কথায় কথায় বাবার সাথে মেয়ের বিয়ে দেয়।মায়ের সুখের কথা ভেবে যন্ত্রনায় অতিস্ট হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাই!

(২)
বান্ধবীর বাসায় আশ্রয় নেই।অনেক কষ্টে ছোটখাটো চাকরি যোগাই। অসুস্থতায় ভুগছি একদিন গেলে দুদিন যাইনা। কলিগ জয়ের সাথে পরিচয় হয়। ভালো বন্ধু হয়!আমি না গেলেও সে আমার কাজগুলো করে রাখে।যে কোন কাজে সহযোগিতা পাই। এক পযায়ে সে বিদেশে চলে যায়। ওখান থেকে প্রতিদিন তিন চার বার ফোন করে।মোবাইল বন্ধ থাকলে পাগলের মতো করে এর ওর কাছে খোঁজ নেয়।এতে আমি প্রচুর বিরক্ত হই। এবং ফোন না করতে অনুরোধ করি- জয় তার ভাললাগা ব্যক্ত করে।
আমি সরাসরি না করে দেই।
এবং সে এতবেশি ফোনে বিরক্ত করে বাধ্য হয়ে সিমটা বন্ধ করে দিলাম।
এবার সে অন্য কলিগদের ফোন করে তাদের বিরক্ত করে।লজ্জায় ওখান থেকে চাকরিটা ছেড়ে দিলাম। অতঃপর সে ভিবিন্ন লোকের মাধ্যমে আমার ঠিকানা সংগ্রহ করে।
জয় :-জান আমি তোমায় ছাড়া বাঁচবো না।আমি তোমায় বিয়ে করবো নয় দেশে চলে আসবো!আর তা না হলে তোমাকেও বাঁচতে দিবেনা সমাজে এমন কলংকিত করবো এই সুন্দর মুখ দেখাতে পারবেনা। ভিবিন্ন হুমকি।
প্রতিদিন একইভাবে একই প্রলাপ তো কি করা যায়?
তার কথামতো ভুয়া কাবিননামা কাগজপত্র পাঠিয়ে দিলাম।ভিসা দিল চলে গেলাম। জয়ের দুলাভাই মাস্কেটের ইমাম সে শরীয়ত মোতাবেক আমাদের বিয়ে দেন।ওমান হাফা নামক স্তানে ঘর ভাড়া নেই। যদিও পুড়ানো বাড়ি তবে সুন্দর।জয় অফিসের যাওয়ার সময় তালা মেরে যেতো কারণ আশেপাশে বেশিরভাগ ছিলো ব্যাচেলর। সুখে সংসার করতে থাকি।একাএকা সময় কাটেনা টুপির এমব্রয়ডারি কাজ শিখি,খুব অল্প দিনে কাজ হাতে নেই। প্রচুর অর্থ উর্পাজন করি। তার টাকা বাড়িতে পাঠায় আমার টাকায় সংসার চলে।স্বামীকে বিশ্বাস করে সব টাকা তার হাতে তুলে দিতাম।বিয়ের তিন মাস পার হলো জয় দুপুরে বাসায় ভাত খেতে আসলো, খেয়ে দেয়ে চলে গেলো। আমি জোহরের নামাজ পড়ে খাওয়া শেষ করে টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পরি।হঠাৎ জোরে একটা আওয়াজ ঘুমের ঘোরে এতটুকু আন্দাজ করছি কে যেন আমায় টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে।চোখ খুলে দেখি অন্ধকার আর অন্ধকার আমি মাটির নিচে,মাথার অংশ ছাড়া পুরোটাই স্তুপে।ভাগ্য ভালো মোবাইলটা বালিশের নিচে ছিলো,অনেক কষ্টে জয়কে ফোন দিলাম আমাকে বাঁচাও আমাকে বাঁচাওওওও এরপর অজ্ঞান। বাহিরে তালা মারা তাই সাহস করে কেউ আসেনি। জয় তারাতারি আসলো সবই মিলে মাটির নিচ হতে উদ্দার করলো।জয় প্রায় পাগল অবস্থা।আমার তেমন কিছু হয়নি শুধু পায়ে,কোমরের অংশে একটু আঘাত পেয়েছিলাম।বাসা বদলে অন্য জায়গায় চলে গেলাম।আর কখনো দরজায় তালা দিতো না। জয় অফিস থেকে এসে অজু করিয়ে আমার মাথায় কোরআন শরীফ তুলে দিয়ে জিজ্ঞেস করতো কোন পুরুষ আসছে কিনা? প্রথম প্রথম যদিও অবাক হতাম কাঁদিতাম আল্লাহ এসব কি আলামত? রাগন্বিত হয়ে অনেকবার মরতেও চেয়েছিলাম।পরে এসব নিয়মিত রুটিং।পাগলকে যেভাবে ভালো রাখা যায়।ভবিষ্যতের চিন্তায় মগ্ন,সুখের স্বপ্ন বিভোর আমি।সুখ দুঃখ মিলিয়ে চলছে দিন। জয় রাত করে বাসায় ফিরে উসিলা নেশিনের আওয়াজ কান ঝালাপালা। জয় এ আওয়াজ সহ্য করতে পারেনা।তাই দেরী করে আসে। পাত্তা দিতাম না দেরিতে আসলে বরং আমার কাজ শেষ করতে পারি। প্রতিদিন দেরিতে আসা দেখে আমার সন্দেহ হয়। চলনবলন কেমন যেন চোর চোর ভাব। কিছু লুকাচ্ছে মনে হয়। পুরাই চেইঞ্জ সে আগের মত নেই। টাকা,পয়সা কোন হিসাব নাই। বাজার সাজার করে না।নাই নাই। কারণে অকারণে খুত খুজেঁ ঝগড়া মারামারি অশান্তি।তরকারিতে নুন কম,,ভাত নরম ভিবিন্ন বায়নায় গায়ে হাত তোলে, রাতে অনেক সময় ঘরেও আসেনা। পরদিন এসে উল্টো গ্যান্জাম।তার সামনে কোন কথাই বলা যায় না। ফোন আসলে এক দৌড়ে বাহিরে।আমার সামনে কোন কথা বলবেনা। একদিন রাত তিনটায় ফোন এলো সে বাহিরে চলে যায়। আমি বাধা দিলে আমার হাত এমন জোরে মোচর মারে ধাক্কা মেরে চলে যায়। আমি পিছন পিছন যাই জয় আমাকে দেখে যায়। সাথে সাথে চুল হেঁচকিয়ে ঘরে এনে আমার গলা পাড়িয়ে ধরে। আমার নিশ্বাস বন্ধ হওয়া উপক্রম।আমি চিৎকার মারি পাশের বাসার ভাবিরা ছুটে আসে,
কি হয়েছে ভাই এমন ভাবে মারছেন কেন? জয় জবাব দেয়-( ও একটা মাঘি, বেস্যা) আমার অনউপস্থিতিতে ও ঘরে পুরুষ ডুকায়। তাই ওকে শাসন করছি।আপনার আমাদের স্বামী স্ত্রীর মাঝে আসবেন না। ভাবিরা ছি, ছি বলে চলে যায়। আমি অনুরোধ করি এভাবে অত্যাচার না করে হয়তো মেরে ফালাও, নয় আমাকে দেশে পাঠিয়ে দাও। এভাবে দু বছর বেদম অত্যাচার চালায়। দেশে পাঠাতে বললে সেই পাঁচশো টাকার স্টাম্প সই করতে বলে জোর করে স্ট্যাম্প সই নেয়। সইয়ের চেয়ে জীবন বাঁচানো ফরজ।
আমার এম্বোডারির টাকায় প্লেনের টিকেট করে দেয়! তার বাড়ির সমস্ত কিনা কাটা আমার টাকায় করে। যাইহোক বাংলাদেশে চলে আসি। তার কেনাকাটার জিনিসগুলো তার ছোটবোনকে দেই।
গাড়ি ভাড়া ছাড়া সে একটা টাকাও দেয়নি। এক কাপড়ে আসি।
আশ্রয় নেই সেই সৎ মায়ের ঘরে। বিদেশী কসমেটিকস জিনিসপত্র দেখে খুশিই হয়। দু দিন পর শুরু হয় আগের মত ব্যবহার। স্বামী পরিত্যক্ত মনে করে মা আমায় যা -তা ব্যবহার করে।আমি আবার চাকরি নেই। মনস্থির করি জয়ের সাথে আর যোগাযোগ রাখবোনা।কিন্তু আবার সেই বিরক্ত। ফোন রিসিভ না করলে বাবাকে ফোন করতো,চেনামানুষ সবাইকে বিরক্ত করতো। মনের কষ্টে তার ফোন রিসিভ করতাম না। সারাক্ষণ তদারকি করতো। আত্মীয় সজনের ঘুম হারাম ফোন আর ফোন।সবাই আমায় গালি দেয় স্বামীর সাথে কথা বলতে অনুরোধ করে। আমার জন্য কি সবাই সিম চেইঞ্জ করবে?তারপর নিয়মিত কথা বলি দু “চার টাকা পেলেও মন্দ কি? হঠাৎ যে মানুষ ঘন্টায় ঘন্টায় ফোন করে সে দুদিন যাবত খবর নাই। আমি চিন্তায় অস্থির।কল দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন বুদ্ধি করে তার বন্ধুকে ফোন করি। সে জানায় আমি আশার তিন দিন পরে জয় বাংলাদেশে আশে।এবং নিজের পচ্ছন্দের মেয়েকে সে বিয়ে করে।তার সাথে মোবাইলে প্রেম হয়েছিল।আমি ব্যাপারটা আগেই আচ করেছিলাম কিন্তু আমার কাছে সে অস্বিকার করেছিল। যাক তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। তারপর ও আমি মুক্তি হই। তার মোবাইল বন্ধ।কয়েকদিন পর জয় আমার নাম্বারে কল দেয় আমার কাছে আশার জন্য পাগলামী শুরু করে।
বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করলাম সে অস্বিকার করে।আল্লাহর কছম খোদার কছম দির্ব্য কাটে এসব মিথ্যা কথা আমি কেন বিয়ে করবো? আমি সব বুঝেও না বুজার ভান করি।
চিন্তা করলাম ভরন,পোষন যদি দেয় হাজারটা বিয়া করুক আমার কি? আমার কাছে আসলো বাড়ি হতে বউ বারবার ফোন করছে জয় ফোনে বলে বন্ধুর বিয়ায় আসছি তুমি চিন্তা করোনা খেয়েদেয়ে ঘুমাও। আড়াল হতে শুনি।জিজ্ঞেস করলাম অনেক খোঁচানোর পর স্বিকার করে তার বাবা মা জোর করে তাকে বিয়ে করিয়াছেন। আমি জানি এসব তার মিথ্যা কথা। তার সাথে বাড়াবাড়ি করার রুচিবোধ আমার নেই। বাড়ি হতে বন্ধুর বিয়ের নাম করে আসছে। রাতে সে ঘুমানোর পর আমি চুরি করে মেয়েটির মোবাইল নাম্বার নেই।পরদিন সে চলে যায়।আমি মেয়েটিকে ফোন করি,তার নাম রোমা।দীর্ঘদিন প্রেম করে বিয়ে হয়।তাকে সব জানাই সে উল্টো আমাকে বেইজ্জতি।তার স্বামীর মত ভালো দুনিয়ায় আর নাই। সব প্রমাণ দেখালাম। রোমা,জয় সংসারে অশান্তি শুরু। জয় রোমাকে বুজায় ও একটা খারাপ মহিলা ও প্রতিজ্ঞা করেছে আমার সংসার অশান্তি করবে। তাই এমন করছে। এ বলে রোমাকে থামিয়ে দেয়। বেশকিছুদিন আনন্দ,ফুর্তি করে আবার জয় বিদেশে চলে যায়। এবং আমাকে ডিস্টার্ব করতা থাকে।সে চায় তার সাথে সারাক্ষণ সেক্সজনিত কথা রসের আলাপ করি। সংসারে যখন ছিলাম অনেক সময় দুষ্টামি করে নানান রকম অঙ্গ,বঙ্গি ছবি তুলতো স্মৃতি হিসাবে ধরে রাখার জন্য।একবারও বুঝতে পারেনি জয়ের মনের উদ্দেশ্য। সে ভয় দেখায় তার কথা না শুনলে,কথা না বললে সে ছবিগুলো কাটপিছ করে আমার বাবার মোবাইলে ইমু,ভাইবারে দেখাবে তার মেয়ে কত খারাপ। নোংরা নস্টা হিসাব আখ্যায়িত করার জন্য সেই ছবিগুলো মিডিয়া এবং ন্যাটে ছেড়ে দিবে প্রতিটি মূহূর্ত আতংকে দিন কাটাচ্ছি। রাস্তাঘাটে, ফ্যাক্সের দোকান সব জায়গায় ফোন করে আমার নামে রটায়।সমাজে নস্ট নারী হিসেবে আখ্যা করাচ্ছে। কিছুদিন আগে আমার ফেসবুক স্টাট্যাসের নিচে নোংরা ছবি ট্যাগ করে, যেন আমাকে আমার বন্ধু বান্ধব খারাপ ভাবে। আবার সারাদিন ফোন করে বিব্রত করে। কোন অফিসে চাকরি করে তদন্ত করে। সে আমার চাকরি খাবে। আমায় ভিক্ষুক বানাবে। আমি জিজ্ঞেস করি কেন তুমি এসব করো তখন সে জবাব দেয় সে আমায় অনেক ভালবাসে তাই এসব করে তার সাথে কথা না বললে সে এসব করবে।আমাকে শান্তি দিবেনা।এর নাম যদি ভালবাসা হয়। ভালবাসার নাম কি? এরকম ছদ্দবেশী জানোয়ারের কি শাস্তি নেই? তার আচরণে এতোই ক্ষুব্ধ অন্য পুরুষদের দেখলে হায়েনার মনে হয়। আইনের দরজায় গিয়েছিলাম,কোন লাব হয়নি। তারা শুধু চিনে টাকা। সুন্দর মহিলার নাম্বার পেলে বিপদে রক্ষা করা দুরের কথা কিভাবে মহিলার কাছ থেকে দূর্বলতার সুযোগ নিবে সেই প্রতিক্ষায় থাকে। এই হলো আইন।
এসব লোকদের বিরুদ্ধে কি আইন কি শাস্তি আছে?
কিভাবে এসব নোংরা সয়তান হতে বাঁচা যায়?
এটা জাতির কাছে জিজ্ঞাসা।
এখন মৃত্যু আমার একমাত্র ভরসা।।


আরোও সংবাদ