গরমে কী খাবেন ও কেমনে ঘুমাবেন

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১০:৫২ অপরাহ্ণ

ইমদাদুল হক/ কুমুদিনি>>
তপ্ত প্রকৃতি। দুপুর বেলায় প্রখর রোদে রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কাহিল বেসরকারি চাকরিজীবী আফসানা খান। রাস্তার ধারে খোলা পরিবেশে কোমল পানীয়। হাতের কাছে পেয়ে ঢকঢক করে গিলে ফেলেন দুই গ্লাস। সাময়িক তৃপ্তি পেলেও এ ধরনের খাবার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। জানালেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিউরোসায়েন্টিস্ট অধ্যাপক ডা. তাসনুভা সাফিনম। তার মতে, গরমকালে অল্পতেই যে কোনো ধরনের খাবারে শরীর খারাপ করে। সুস্থতায় খাবার গ্রহণে এ সময়ে সতর্কতা জরুরি। গরমের অস্বাভাবিকতায় শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম কমে যাওয়া, বমি, খাদ্য হজমে সমস্যাসহ ও পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর প্রভৃতি হতে পারে। শরীরের পুষ্টি পূরণে নিয়মিত খাদ্য গ্রহণও চালিয়ে যেতে হবে। এগুলো প্রতিরোধে তাসনুভার পরামর্শ, বাইরের খোলা জায়গার পানি, শরবত, আখের রস খাওয়া পরিহার করতে হবে। নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি পান, ঘরে তৈরি শরবত, পানিজাতীয় শাকসবজি ও ফল বেশি খাওয়া উচিত। এছাড়া ডাব, তরমুজ, বাঙ্গি, বেলের শরবত এগুলো হাত ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে খাবারের জন্য উপযোগী করা। গরমে মাছ, মাংস, ভুনা, ভাজি, খিচুড়ি, পোলাও, ফাস্টফুড কমিয়ে পাতলা আম, ডাল, পাতলা দুধ, টকদই, করল্লার ঝোল তরকারি, লেবু-চিনির শরবত, সালাদ, রসালো ফল খাওয়া; পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি পরাটা থেকে অনেক বেশি উপকারী। শারীরিক ব্যয়ামের ক্ষেত্রে সকালে না হেঁটে বিকাল/ সন্ধ্যার পর হাঁটা আরামদায়ক।

গরমকালে পুষ্টির ব্যাপারে সচেতনতা শরীরের সুস্থতার জন্য পূর্বশর্ত। গরমকাল ওজন কমানোর জন্য সহায়ক। উচ্চ ক্যালরি পরিহার করে কম ক্যালরির খাদ্য গ্রহণ করলে ওজন কমবে। তরমুজ, বাঙ্গি, জাম, জামরুল, ডাবসহ লাউ, পেঁপে, ঝিঙা, কুমড়া ইত্যাদি সবজি খেতে হবে। খাদ্য তালিকায় তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। গরমে তেলের ব্যবহার একেবারেই কমিয়ে দেয়া উচিত। অতিরিক্ত তেল গ্রহণ বা ডুবো তেলে ভাজা খাবার, ঘি, মাখন, পনির, মেয়নেজ, ফাস্টফুড, কোল্ডড্রিঙ্কস, পোলাও, কাচ্চি, গরু ও খাসির মাংস বা ভুনা খাবার কমাতে হবে। অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার বা অতিরিক্ত গরম ওঠা খাবারও পরিহার জরুরি। কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ডাবের পানি গ্রহণ করা উচিত, ফ্রিজের ঠা-া তরল না খাওয়াই ভালো। তরমুজের শরবত, বাঙ্গির শরবত, টকদইয়ের শরবত, বেলের শরবত পান করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

বাইরের খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে ভাজাপোড়া। তবেই না শরীর থাকবে ঝরঝরে। যারা কর্মজীবী, বৃদ্ধ অথবা অসুস্থ, তাদের জন্য আছে নির্দিষ্ট রুটিন। রুটিনমাফিক জীবনযাপন করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সুষম খাদ্যাভ্যাস। আর তাই এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডায়েট কাউন্সিলিং সেন্টারের সিও শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, এ গরমে পানি খাওয়া বাড়াতে হবে। সাধারণত দিনে সাত থেকে আট গ্লাস পানি খাওয়ার কথা থাকলেও এ সময় ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

এ গরমে হিটস্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এর কারণ হচ্ছে লোডশেডিং বেড়ে যায় গরমে। আবার এসি দেয়া থাকলে অনেক সময় লোডশেডিংয়ে গরমে গুমোট আবহাওয়া তৈরি হয়। এ বিপদ থেকে মুক্ত থাকতে প্রচুর পানি খেতে হবে। ভাজা খাবার একদমই এড়িয়ে যেতে হবে। তবে আপনার বাচ্চার জন্য বাসায় ভাজা খাবার তৈরি করতে পারেন। ফুড পয়জনিংটা এড়িয়ে যেতে হবে। যারা বয়স্ক, তারা মাছ-মাংস এড়িয়ে চলবেন। প্রোটিন কম দিতে হবে। প্রাণিজ প্রোটিন না খেয়ে প্লান্ট প্রোটিনের দিকে নজর দিতে হবে। যদি এসিডিটি না থাকে তাহলে পাঁচমিশালি ডাল দিতে পারেন। আর যদি ডাল রান্না করার আগে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারেন, তাহলে ডাল থেকে এসিডিটি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। বাচ্চাদের জন্য ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর পর প্রোটিনের ব্যবস্থা করতে পারেন_ সেটা মাছ অথবা মাংসও হতে পারে। আলমন্ড নাট, কাজু নাট মিঙ্ড করে দিতে পারেন। তবে চীনাবাদাম বেশি না দেয়াই ভালো।

কর্মজীবী মহিলাদের জন্য এ সময়টা ওজন কমানোর জন্য উপযুক্ত। তবে সবার জন্যই সকালের নাশতাটা ঠিকমতো করাটা খুব জরুরি। সকালের নাশতায় কুসুম ছাড়া ডিম, এক গ্লাস দুধ, রুটি রাখা যেতে পারে। তবে চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে ভরপেট নাশতা করতে হবে। সেই সঙ্গে লাঞ্চ এবং ডিনারের দিকেও নজর দেয়াটা জরুরি। খাবার খেতে হবে পরিমিত এবং সুষম। ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য রোগী যারা আছেন, তাদের জন্য খাবার ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এ সময়। খাবার খেতে হবে খুব হিসাব করে নিয়ম মেনে। গরমে খাবার ব্যাপারে সচেতন হন। আর থাকুন রোগমুক্ত ও সুস্থ।

এই গরমে দিনটা তো যেমন তেমন কেটে যায়, কিন্তু রাত গুলো ভীষণ দীর্ঘ। মানুষের শরীর মাত্রই রাতে একটু বিশ্রাম চায়। কিন্তু এই বিশ্রাম নেবার সময়েই যদি অস্বস্তি হয় আর গরম লাগে? তাহলে তো ঠিক মতন ঘুমানো দূরে থাক,ঘুমটাই আসতে চায় না দু চোখের পাতায়।

আর তাই আমাদের আজকের আয়োজন ঘুম নিয়ে। এই গরমের মাঝে কি করে একটু আরামে ঘুমাতে পারবেন সেটা নিয়েই রইলো ১০টি টিপস।

– সম্ভব হলে ঘুমাবার আগে ভালো করে স্নান করে নিন। পানির স্পর্শ শরীরের মাংস পেশীকে শিথীল করে, দেহমনে ছড়িয়ে পড়ে একটা আরামদায়ক আমেজ। ঘুমাতে যাবার আগে একটা আরামদায়ক স্নান আপনাকে দেবে একটা শান্তির ঘুম।
– স্নান না করলেও ভালো করে হাত মুখ ধুয়ে নিন। এবং একদম পাতলা আর ঢিলেঢালা পোশাক পরুন ঘুমাতে যাবার জন্য।
– ইলেকট্রিসিটি থাকলে ফ্যান তো চালু অবশ্যই রাখবেন। যাদের সিলিং ফ্যানের নিচেও গরম লাগে, তারা এসি কিনতে না পারলেও একটি স্ট্যান্ড ফ্যান বা টেবিল ফ্যান কিনে নিন। আর ইলেকট্রিসিটি না থাকলে জানালা গুলো খুলে দিন। পর্দা টানা থাকলেও খোলা জানালা দিয়ে বাতাস প্রবেশ করবে ঘরে।
– সম্ভব হলে বিছানার চাদর রোজ রাতে বদলে নিন। পরিষ্কার বিছানা মনে এক রকমের প্রশান্তি তৈরি করে। আর প্রশান্ত মনে ঘুম ভালো হয়। সুতির চাদর হলেই ভালো।
– ফোমের বিছানায় গরম বেশী লাগে। তাই জাজিম ও তোশক ব্যবহার করুন। ফারের বালিশের বদলে শিমুল তুলার বালিশে দিন মাথা।
– ঘরের জানালায় হাল্কা বা পাতলা পর্দা ব্যবহার করুন। তাতে ঘরে বাতাস চলাচল ভালো হবে আর আপনিও ঘুমাতে পারবেন শান্তিতে।
– যাদের খুব বেশী ঘেমে যাবার প্রবণতা তারা ট্যালকম পাউডার মেখে নিন শরীরে। মেনথল ফ্লেভারের পাউডারও বেশ আরাম দেবে। ঘেমে নেয়ে থাকলে তো এমনিতেই ঘুম হবে না।
– ঘুমাবার বেশ খানিকক্ষণ আগে খেয়ে নিন রাতের খাবার। এবং এমন কিছু খাবেন না যাতে পাকস্থলীতে অস্বস্তি হয় বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এই গরমে রাতের বেলা চা কফি না খাওয়াই ভালো। খেতে হলে উষ্ণ দুধ খান বা কোনও হাল্কা শরবত বা জুস।
– অনেকে সন্ধ্যায় বা রাতে ব্যায়াম করেন। এই গরমে সেটা না করাই ভালো। করতে হলে ব্যায়ামের পর ভালভাবে স্নান করুন ও পোশাক বদলে নিন।
– গরমের দিনে এক বিছানায় বেশী মানুষ ঘুমাতে ভালো লাগে না, অস্বস্তি হয়। চেষ্টা করুন একটু নিরিবিলি ঘুমাবার। সেটা সম্ভব না হলে পাশের মানুষ ও আপনার মাঝে একটি কোল বালিশ রাখতে পারেন।