গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে স্লিভলেস

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৫ মে , ২০১৪ সময় ১১:২০ অপরাহ্ণ

স্লিভলেস পোশাক১গরমের ফ্যাশনে পোশাকের জায়গাটা কিছুটা হলেও দখল করেছে স্লিভলেস। গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে ফ্যাশনপ্রেমী নারীরা ঝুঁকছেন হাতাকাটা বা স্লিভলেস পোশাকের প্রতি। পরতে স্বস্তিদায়ক বলে জিন্সের সঙ্গে সিস্নভলেস কুর্তি এখন হরহামেশা পরছেন নারীরা। নগরদোলার প্রধান নির্বাহী এবং ফ্যাশন ডিজাইনার আলী আফজাল বলেন, ‘গরমে থ্রি-কোয়ার্টার কিংবা ফুলহাতার পোশাকে স্বস্তি পাওয়া যায় না। এদিকটি চিন্তা করে আমরা তৈরি করেছি কিছু স্লিভলেস কুর্তি, যার স্টাইল অনেকটাই শার্টের মতো। ফ্যাব্রিক হিসেবে কটনকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যেহেতু গরম তাই রঙের ক্ষেত্রে পিঙ্ক, পার্পেলসহ হালকা সব কালারই বেছে নেয়া হয়েছে এসব পোশাকের ক্ষেত্রে। মোট ১০ রকমের ডিজাইন করা হয়েছে এ স্লিভলেস কুর্তিতে। যদি কেউ হাতাসহ পরতে চান কিংবা গরমের সময় ছাড়াও অন্যান্য সময় পরতে চান, তাদের জন্য আলাদা করে হাতা দেয়া আছে পোশাকগুলোতে।’

স্লিভলেস কুর্তির কাটছাঁট-স্লিভলেস কুর্তি হতে হবে ব্যক্তিত্ব ও শারীরিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্লিভলেস পোশাকে সবাইকে মানায় না। লম্বা, মেদহীন হাতের যে কেউ পরতে পারেন এ পোশাক। যাদের হাত মোটা, কাঁধ বেশি চওড়া, তাদের স্লিভলেস না পরাই ভালো। গরমে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বস্তির পাশাপাশি সৌন্দর্যের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য সুতি কাপড়ের ওপর বস্নকপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট ও হালকা সুতার কাজের কুর্তি পরা যায়। সুতি কাপড় কিনে নিজের পছন্দ মতো ডিজাইন, লেস, বোতাম, ইয়োক দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন সিস্নভলেস কুর্তি। লেস, বোতাম, ইয়োক ব্যবহারে নান্দনিকতা আসে পোশাকে।

স্লিভলেস কুর্তিতে অনেক সময়ই আর্মহোলে পাইপিং, বিভিন্ন ধরনের কাজ বা লেসের ব্যবহার দেখা যায়। তবে সিস্নভলেস পোশাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্মহোলের কাট, যা হওয়া উচিত আর্মহোলের মাপ মতো। আর্মহোলের কাট ঠিক না হলে দৃষ্টিকটু লাগে। তাই যে কোনো পোশাকের চেয়ে সিস্নভলেস পোশাক নির্বাচনে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে কাঁধ থেকে আর্মহোলের কোনো কাটিং হয় না। ফলে তা দেখতে ক্যাপ সিস্নভের মতো হয়। অনেকের কাছে সিস্নভলেসের পরিবর্তে ক্যাপ সিস্নভের মতো কাটই প্রিয়। তবে আর্মহোলের কাট যেমনই হোক, নেকলাইনের পরিবর্তনে বদলে যায় এ পোশাকের লুক। সিস্নভলেস কাটের ভেরিয়েশন বেশি নেই, তবে মূল পোশাকটির নকশায় ভেরিয়েশন থাকতে পারে। আমাদের দেশে সাধারণ কাটের সিস্নভলেস কুর্তির প্রচলন বেশি।

যারা স্লিভলেস পরে অভ্যস্ত নন কিন্তু আগ্রহী, তারাও সিস্নভলেস কুর্তি পরতে পারেন। সেক্ষেত্রে সাধারণ যে কোনো স্লিভলেস কুর্তি পরতে পারেন। কলারসহ ছোট গলার সিস্নভলেস কুর্তিও পরতে পারেন। তাতে শুধু বাহু উন্মুক্ত থাকলেও শরীরের অন্য অংশ ঢাকা থাকবে।

রঙ বাছাই-গরমে সাদা ও অন্যান্য হালকা রঙের পোশাক শুধু তাপ শোষণই করে না, সেই সঙ্গে দেয় চোখের প্রশান্তি। তবে গরমকালে সাদা রঙের পোশাকের চাহিদা সব সময়ই। সাদার পাশাপাশি গোলাপি, জলপাই সবুজ, আকাশি, হালকা হলুদ, ঘিয়া, হালকা মেজেন্ডা, হালকা নীল, ফিরোজা, হালকা সবুজ, পেস্ট ধরনের উজ্জ্বল কিন্তু হালকা রঙগুলো বেছে নেয়া যেতে পারে। কালো বা গাঢ় রঙের পোশাক অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে। তাই এ রঙের কাপড় না পরাই ভালো।

সাজ-গরমে হালকা রঙের পোশাকের সঙ্গে মেকআপ ও গহনাটাও হতে হবে হালকা। গরমে বেশি মেকআপ না নেয়াই উত্তম। বাইরে বের হওয়ার আগে মুখে ভালো সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পাশাপাশি দুই বাহুতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। হাতে কাঠের বালা বা সুতার চুড়ি পরা যেতে পারে। গরমে ধাতুর তৈরি গয়না না পরাই ভালো। এর বিকল্প হিসেবে পরতে পারেন প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি গয়না।