গত ৪ দিনে ৭৮ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১ আগস্ট , ২০১৪ সময় ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৪ দিনে ৭৮ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুরে ১০, ফরিদপুরে ৭, নোয়াখালীতে ৭, বরিশালে ৭, সিলেটে ৪, নারায়ণগঞ্জে ৬, সিরাজগঞ্জে ৩, ভোলায় ৬, হবিগঞ্জে ২, পঞ্চগড়ে ৪, দিনাজপুরে ৬, ঠাকুরগাঁওয়ে ২, হবিগঞ্জে ২, কুমিল্লায় ২, মুন্সীগঞ্জে ২, সিরাজগঞ্জে ১, মাদারীপুরে ১, সাতক্ষীরায় ১, নীলফামারীতে ১, রাজশাহীতে ১, মৌলভীবাজারে ১ ও ঢাকার হাতিরঝিলে গাড়ি চাপায় ৯ বছরের শিশু ও যাত্রাবাড়ীতে লেগুনার হেলপারসহ নিহত ২।
রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, রামগঞ্জগামী বলাকা পরিবহনের একটি বাস রামগঞ্জে আসার পথে সোনাইমুড়ী সড়কের জয়াগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় রামগঞ্জ উপজেলার পানিয়ালা রামদেবপুর গ্রামের একই পরিবারের ৩ জনসহ ১০ যাত্রী নিহত হয়েছেন। ঈদের দিন ভোর ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনার ঘটে। সোনাইমুড়ীর জয়াগ ভাওরকোট গ্রামের রামগঞ্জ চট্টগ্রাম সড়কে বলাকা পরিবহনের চালক অন্য একটি গাড়িকে সাইট দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। আহত হন ৩৫ জন। অন্যদিকে রামগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে রামগঞ্জগামী মাইক্রোবাস বেপরোয়া গতিতে দুই সাইকেল আরোহী স্কুলছাত্র সিহাব ও শাওনকে চাপা দিলে কাওয়ালীডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র সিহাব মারা যায়।
ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার ভাঙ্গা-মাওয়া মহাসড়ক ও ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে গত দুই দিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে ভাঙ্গার মালিগ্রাম কলাতলায় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি ছিটকে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ সময় রাস্তায় থাকা পথচারী শুকুর আলী (২৮) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং মাইক্রোবাসের চালক এবং অটোরিকশার ৮ যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে একই স্থানে মাওয়া থেকে টেকেরহাটগামী যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে গেলে যাত্রী মোকসেদপুরের আলামিন মোল্লা (২৫), গোপালগঞ্জের তরিকুল ইসলাম (১৮), গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার শামিম শিকদার (২৮) মারা যান। তারা হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় আরও ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন । একই দিনে বগাইলে টেকেরহাট থেকে মাওয়াগামী মাইক্রোবাস যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে গেলে এর চালক শিবচরের রফিকুল ইসলাম (২৬) নিখোঁজ হন। বুধবার বগাইল ব্রিজের নিচ থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এদিকে একই দিনে গত মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে ভাঙ্গার সীমান্তবর্তী কাজীর ব্রিজের কাছে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার নিচে খাদে পড়ে যায়। এতে মাদারীপুরের জাহিদুল (২৩) ও একই এলাকার আল আমিন মিয়া (২২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এতে অন্তত আরও ১০ জন আহত হন। ভাঙ্গা থানার ওসি নাজমুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থালে মাইক্রোবাস চালক নিহত হন এবং হাসপাতালে ৩ জনের মৃত্যু হয়।
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, রামগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-চট্টগ্রাম সড়কের নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ পূর্ববাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘বলাকা সার্ভিসের’ একটি যাত্রীবাহী বাস খালে পড়ে দুই শিশু ও এক নারীসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। মঙ্গলবার ভোর রাত পৌনে ৪টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই বাসের সব যাত্রী চট্টগ্রাম থেকে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছিলেন। স্থানীয়রা জানান, রাতে চট্টগ্রাম থেকে রামগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাস সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ পূর্ব বাজারে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালের মধ্যে পড়ে যায়। এ সময় বাসটি সব যাত্রী নিয়ে খালের মধ্যে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় মসজিদের মাইকগুলোতে দুর্ঘটনার খবর ঘোষণা করলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারের জন্য দ্রুত ছুটে আসেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৭ জনের লাশ উদ্ধার করে। সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সামাদ বলেন, বাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে, বাসের ভেতরে আর কোন মৃতদেহ পাওয়া যায়নি।
সিলেট অফিস জানায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দাদী-নাতনীসহ ৪ যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার ভোররাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অতিরবাড়ী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নূর আনন্দ পরিবহনের বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব ১১-১৮৮০) ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের উদ্দেশে যাচ্ছিল। অতিরবাড়ী এলাকায় আসার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ২০ যাত্রী। নিহত সবার বাড়ি দিরাইয়ে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোরছালিন জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানায় রাখা হয়েছে। লাশ নিতে তাদের স্বজনরা থানায় এসেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে ঘটনাাস্থলে ৪ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের পরদিন মঙ্গলবার ভোরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিঙ্ক রোডের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চালকসহ ৬ জনকে বহনকারী একটি প্রাইভেটকার সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দিকে যাওয়া পথে জালকুড়ি এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তা রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জন নিহত ও দু’জন আহত হন। ?আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জ সদর ও উল্লাপাড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অটোবাইকের চালকসহ ৩ জন নিহত ও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও উল্লাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুরে একটি ব্যাটারিচালিত অটোবাইক বেলকুচি থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে অটোবাইকটি বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের সয়দাবাদে পৌঁছলে ঢাকা থেকে বগুড়াগামী রিতু এন্টারপ্রাইজের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোবাইকের চালক উজ্জ্বল ও যাত্রী শাহিনের (৩০) মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ৩ যাত্রী। হতাহতদের উদ্ধারের পর সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতরা সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই। অন্যদিকে, একই সময়ে উল্লাপাড়ার কয়ড়া বাজার এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও শ্যালোচালিত নসিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নছিমনযাত্রী সিদ্দিক হোসেন নিহত ও অপর ৩ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি জানান, চরফ্যাশনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অটো চালকসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। ঈদের দিন সকালে চট্টগ্রাম থেকে চরফ্যাশন গামী ভোলা ট্রান্সপোর্ট নামের একটি বাস কর্তারহাটের দক্ষিণে এসে চাকা পাঙ্কার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের যাত্রী হেলাল (১৭) সালাউদ্দিন (৩০) ও অজ্ঞাত এক যাত্রীসহ ৩ নিহত হন। বুধবার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে বেলাল (৩৫) ও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আলাউদ্দিন (৩৬), নামের আরও দু’যাত্রী মারা যান। এ ঘটনায় বাসের ড্রাইভারকে আসামি করে চরফ্যাশন থানা উপ-পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে ঈদের আগের দিন সোমবার সকালে অটোরিকশা ও টেম্পোর সংঘর্ষে বাবুল (৩০) নামে এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশালে পৃথক দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী। ঈদের পরের দিন আগৈলঝাড়া উপজেলায় ও আগের দিন সোমবার রাতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার ভূরঘাটা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় পৃথক দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতদের শেবাচিম ও গৌরনদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্র জানায়, ঈদের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গৌরনদী-পয়সারহাট সড়কের গৈলা বাইবাস এলাকায় অজ্ঞাত একটি মোটরসাইকেল ওই এলাকার অমিয় মণ্ডল (৭৫)কে চাপা দেয়। গুরুতর অবস্থায় শেবাচিমে ভর্তির পর বুধবার ভোরে তিনি মারা যান। এছাড়া, ঈদের আগের দিন কাওড়াকান্দি থেকে যাত্রী নিয়ে সাউদিয়া পরিবহনের একটি বাস বরিশালে আসার পথে গৌরনদীর ভূরঘাটা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের ধান ক্ষেতে উল্টে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার মণ্ডল শেখ (২৫) নিহত হন। আহতদের গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যাত্রী সৈয়দ রনি মারা যান।
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, আড়াইহাজার উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সোমবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৫ জন। যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আড়াইহাজার থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো জ ৫৫৭৫) আড়াইহাজারের সাতগ্রাম ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মৃত্যু ও ৩৫ জন আহত হন। নিহত দুই শিশু কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম এলাকার হোসেন মিয়ার দুই বছরের ছেলে শাহীন ও একই জেলার মিঠাইন গ্রামের বকুল মিয়ার ৬ মাসের মেয়ে শিশু নাসিমা। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, হবিগঞ্জ জানান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নছরপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজির (অটোরিকশা) ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুর দেড়টায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার এসআই কামাল হোসেন জানান, শায়েস্তাগঞ্জ থেকে একটি সিএনজি মাধবপুরের (ঢাকামুখী) দিকে যাচ্ছিল। সিএনজিটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নছরতপুর এলাকায় পৌঁছলে পেছন দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই সিএনজিটি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে রাজই মিয়া মারা যান। এর মধ্যে ৩ যাত্রীকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোজিনা মারা যান। ঘটনার পরপর স্থানীয়রা ঘাতক কাভার্ড ভ্যানকে আটক করে। তবে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনার পরপর স্থানীয়রা মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়।
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, চৌদ্দগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়েসহ পুলিশের এক সার্জেন্ট নিহত ও অপর তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে সাতটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর ব্রিজের সঙ্গে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লেগে এ ঘটনা ঘটে। চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মনির হোসেন জানান, পুলিশ সার্জেন্ট নজরুল ইসলাম বেলাল ফেনীর ছাগলনাইয়া নিজ বাড়ি থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৮৮১৪) যোগে কর্মস্থল ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে প্রাইভেট কারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের বসন্তপুর ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই সার্জেন্ট নজরুল ইসলাম বেলাল (৫০) ও তার মেয়ে নুসরাত তাবাচ্ছুম (৩) নিহত হন। আহত হন তার স্ত্রীসহ দু’জন। আহতদের উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম ও ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, শ্রীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ নিহতদের বহনকারী পিকআপ ভ্যানটি চালকসহ আটক করেছে। তবে ঘাতক বাস পালিয়ে গেছে। গত ২৮শে জুলাই দুপুর ১২টার দিকে মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার সমষপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শ্রীনগর থানার ওসি শেখ মো. মাহবুবুর রহমান জানান, মাওয়াগামী একটি পিকআপ মালের পরিবর্তে যাত্রী বহন করছিল। দ্রুতগতিতে চালানোর একপর্যায়ে ওই স্থানে ২ যাত্রী চলন্ত পিকআপ থেকে মহাসড়কে পড়ে যায়। পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি বাস তাদের চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে দু’জনের মৃত্যু হয়। পিকআপে থাকা স্ত্রী ও সন্তান হঠাৎ দেখে মুন্না মিয়া গাড়িতে নেই। পেছনে তাকাতেই রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে পিকআপটি থামায়। তবে অপর নিহতের কোন স্বজন পিকআপে না থাকায় এখনও পরিচয় পাওয়া যায়নি। পিকআপটি যাত্রী পরিবহনের কারণে দুর্ঘটনার জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ঈদের আনন্দ করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। উপজেলার পানবাড়া গ্রামের একদল উঠতি বয়সের যুবক ঈদের আনন্দ করতে একটি পিকআপ ভ্যানে মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী ভ্রমণের উদ্দেশে রওনা হয়। পিকআপ ভ্যানটি ফেরার পথে ভোর ৪টার সময় ঠাকুরগাঁও জেলার ছোট খোচাবাড়ী নামক স্থানে পৌঁছলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি নাইট কোচ পেছন থেকে ধাক্কা দিলে পিকআপ ভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার নিচে খাদে পড়ে যায়। এ সময় পিকআপ ভ্যানের ২ যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ দুর্ঘটনায় অপর ৩১ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়।
বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, পিকনিক করতে এসে বিরামপুরে নছিমন উল্টে ২ জন নিহত ও ২০ আহত হয়েছে। ধামইরহাট থেকে শ্যালো চালিত নছিমন নিয়ে পিকনিকের জন্য স্বপ্নপুরী যাওয়ার পথে গতকাল দুপুর ১২টায় বিরামপুর উপজেলার দূর্গাপুরে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে পাশের খাদে ছিটকে পড়ে।
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকে জানান, বিরামপুরে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নসিমন ভটভটির ২ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭ জন। এর মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত ও নিহতরা একই পরিবারের সদস্য।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়খোচাবাড়ির কুমিল্লাহাড়ি এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকনিকগামী একটি পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে দু’জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতরা সবাই পিকআপ ভ্যানের যাত্রী। আহতদের মধ্যে ২২ জনকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তিনজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের সবার বাড়ি আটোয়ারী উপজেলার পানবাড়া গ্রামে। হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলা থেকে পিকনিকের উদ্দেশে একটি পিকআপ ভ্যান ৩০ জন যাত্রী নিয়ে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরীর উদ্দেশে রওনা হয়। পথে দিনাজপুরে গিয়ে গাড়িটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তারা আবার আটোয়ারীর পথে রওনা হয়। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টায় পিকআপটি ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের কুমিল্লাহাড়ি এলাকায় পৌঁছলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি নৈশকোচ পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে পিকআপটি দুমড়ে মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। পরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়ার পর আরও একজন মারা যায়।
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আনন্দ ভ্রমণে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ জন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। ঈদের দিন মঙ্গলবার আনন্দ করতে গিয়ে বনপাড়া মহাসড়কে ভটভটি উল্টে বিরোহালী গ্রামের আব্দুস সালাম (২২) নিহত হন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। এদিকে ঈদের দিন থেকে পরবর্তী ২ দিন পৃথক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, শিবচরে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের চালকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অপর এক আরোহী। সোমবার বিকাল তিনটার দিকে উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সূর্য্যনগর বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াগামী একটি মোটরসাইকেলকে বিপরীতমুখী একটি মাইক্রোবাস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই চালক আবু হানিফ (২৩) মারা যান। আহত হন নিহতের ভগ্নিপতি আল-মামুন (৩৩)। আহতকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। উপজেলার দত্তপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আফসার বলেন, মোটরসাইকেলের চালক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তারা ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসটিকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সোমবার রাত ৯টায় মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের আবালপুর হাই স্কুলের সামনে দ্রুতগামী একটি ট্রাক যাত্রীবাহী নছিমনকে চাপা দেয়। এ সময় নছিমনযাত্রী সোহেল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত ৫ জনের মধ্যে সাখাওয়াত ও মঞ্জুরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত সোহেলের বাড়ি সদর উপজেলার ছোট ফালিয়া গ্রামে।
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রাজবাড়ী ঈদগা ময়দানে ঈদের জামাতে নামাজ পড়া অবস্থায় এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলের চাপায় নিহত হয়েছেন। এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে বৃষ্টি হওয়ায় ঈদগা ময়দানে পানি জমে যায়। এতে মুসল্লিরা রাস্থার ওপর ঈদের নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। জামাতের শেষ কাতারে এ গ্রামের ফকির সরদারের পুত্র বেলায়েত হোসেন সরদার (৫২) জায়নামাজ বিছানোর সময় পেছন দিক দিয়ে বাদঘাটা গ্রামের মামুন নামের এক মোটরসাইকেলের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চাপা দেয়। এ সময় মুসল্লিরা গুরুতর আহত অবস্থায় বেলায়েত হোসেন ও চালককে শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় চালক মামুন বেঁচে গেলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুজিৎ রায় বেলায়েত হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলফামারী-ডোমার প্রধান সড়কের হরতকীতলা নামক স্থানে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের দিন বিকালে নীলফামারী শহরের প্রধান সড়কের ডাকবাংলা রোডে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু গুরুতর আহত হয়।
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, ঈদের পরের দিন রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যানে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বগুড়ার শেরপুরের সাঁতরা গ্রামের ২০ কিশোর ছোট পিকআপ গাড়ি ভাড়া করেছিল। সারা রাস্তায় আনন্দ আর পিকআপের খোলা পাটাতনে নাচানাচি। বুধবার বিকাল ৪টায় রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর এলাকায় তাদের বহনকারী পিকআপটির সঙ্গে একটি কোচের ধাক্কা লাগলে গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে এক কিশোরের মৃত্যু ঘটে।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, বড়লেখায় গতকাল পিকনিকের বাস ও সিএনজি সংঘর্ষে রাহেনা বেগম (৪০) নামে এক মহিলা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অপর ৪ যাত্রী। এদের মধ্যে আবদুল করিম (৪৫) নামে এক যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কের লঘাটি নামক স্থানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাধবকুণ্ডগামী যাত্রীবাহী বাসের (টাঙ্গাইল-ব-১৮৬) সঙ্গে চান্দগ্রামগামী অটোরিকশার (মৌলভীবাজার-থ-১১-৯৪৫০) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলে অটোরিকশা যাত্রী রাহেনা বেগম (৪০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং আহত হন অপর চার যাত্রী। চালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ বাস ও অটোরিকশা আটক করেছে।
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ২ জন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছে। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ জানান, গতকাল পৌনে ২টায় কুমিল্লাগামী তিশা সার্ভিসের যাত্রীবাহী বাস ও বিপরীতগামী হাজীগঞ্জের একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিশা বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে তিশা সার্ভিসের যাত্রী মো. তোফায়েল হোসেন (৩৫) ও চালক (অজ্ঞাত) মারা যান এবং আহত হন উভয় গাড়ীর কমপক্ষে ৩০ জন যাত্রী। আহতদের গৌরীপুর, ঢাকা ও কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।