গত ২ বছরে ৩ হাজার ৫৩টি দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করেছে দুদক!

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৪:০১ অপরাহ্ণ

দুদকদুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ২ বছরে ৩ হাজার ৫৩টি দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। এর মধ্যে কমিশন মাত্র ৫২১টি অভিযোগ গ্রহণ করেছে। যে মামলাগুলোয় অভিযোগ গৃহীত হয়নি, তার অধিকাংশই ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগসমূহ নথিভুক্ত করা হয়েছিল, সেগুলোর তদন্ত চলছে। ২০১২ সালে দুদক ১ হাজার ৮৪২টি দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল। এর মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পেশের আগেই ১ হাজার ৪৭টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার পর আরও ৩৮২টি অভিযোগ বাতিল করা হয়। একই বছর ১১৬ ব্যক্তিকে তাদের সম্পদের হিসাব পেশ করতে নোটিশ জারি করে কমিশন। ২০১৩ সালে ১ হাজার ৬২৪টি অভিযোগের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পেশের আগেই দুর্নীতির ১ হাজার ২১৫টি অভিযোগ বাতিল করে দুদক। ৪০৯টি অভিযোগ বাতিল করা হয় প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করার পর। গত বছর ৩৫০টি অভিযোগ গ্রহণ করে কমিশন। ১০৫ জনকে সম্পদের হিসাব দাখিলের নোটিশ জারি করে দুদক। ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মূলত দুটি কারণে দুদক অভিযোগসমূহ বাতিল করেছে। একটি হচ্ছে, তাদের পেশাগত অদক্ষতার কারণে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থতা বা বিভিন্ন মহল থেকে রাজনৈতিক চাপ। তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে অনৈতিক সুবিধাদি পাওয়ায় কিছু অভিযোগ বাতিল করা হয়ে থাকতে পারে। দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান জানান, তার কাছে মনে হয়েছিল কমিশনের তদন্ত কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা না পাওয়ায় কিছু অভিযোগ দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। ২০১৩ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগসমূহ আনা হয়েছিল, সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি। এইচবিএম ইকবালের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের অর্থ-আত্মসাতের যে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেগুলো খারিজ করে দেয় কমিশন। ২০০২ সালে অভিযোগ দুটি নথিভুক্ত করা হয়। আবুল হাসনাত আবদুল্লাহকেও দুর্নীতির দুটি অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দেয় কমিশন। ২০০২ সালে অবৈধ সম্পদ জমা করার অভিযোগ দুটি আনা হয়েছিল। ২০১৩ সালের জুন মাসে মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে দুর্নীতির একটি অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দেয় দুদক। কমিশনের পক্ষ থেকে ২০০৭ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি আনা হয়েছিল। ২০১৩ সালে দুদক যাদের অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছিল, সে তালিকায় আরও রয়েছেন এটি এম গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সাবেক আইনপ্রণেতা আবদুল কাদের খান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সচিব এম আবদুল মতিন ও চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপারইন্টেনডেন্ট ইফতেখার আহমেদ। অন্যদিকে যে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমলে নিয়ে তার তদন্ত অব্যাহত রেখেছে দুদক, সে তালিকায় রয়েছেন বিএনপি’র মওদুদ আহমেদ, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, সাবেক স্পিকার জমিরুদ্দিন সরকার, আলি আসগর লবি ও তার পরিবারের সদস্যবর্গ, মোসাদ্দেক আলি ফালু, এহসানুল হক মিলন, একেএম মোশাররফ করিম, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার পরিবারের সদস্যবর্গ ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা ও তার পরিবারবর্গ।
সূত্র: নিউ এইজ