কথা বলার ক্ষেত্রে পুলিশকে সতর্ক হতে হবে

প্রকাশ:| রবিবার, ২৪ মে , ২০১৫ সময় ০৭:৩৯ অপরাহ্ণ

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও পুলিশ প্রধানের পক্ষ থেকে দেয়া বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। রোববার সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে তাদের বক্তব্যের মধ্যে মিল নেই বলে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে কমিটির সভাপতি টিপু মুন্সি বলেন, ‘শাহবাগে যৌন নিপীড়ন নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সাথে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে বেমিল রয়েছে।’ একই সঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বৈঠকে যৌন নিপীড়ন ছাড়াও ব্লগার অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। যেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল না। বৈঠক শেষে টিপু মুন্সি বলেন, ‘প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনা দুটি আরো গভীরভাবে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, পহেলা বৈশাখে যৌন নিপীড়নের পর আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেছিলেন, ‘পহেলা বৈশাখে কিছু ছেলে দুষ্টুমি করেছে।’ একই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পহেলা বৈশাখের ঘটনায় পুলিশের ভিডিও ফুটেজে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ওই নারীকে পুরোপুরি উলঙ্গ করা হয়নি।’

এছাড়া রোববারের বৈঠকে দশ বিশিষ্ট নাগরিককে হত্যার হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সভাপতি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে যে দশজন ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে তারা কমবেশি সবার কাছেই পরিচিত। তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বে সাথে দেখতে বলা হয়েছে। পুলিশকে বলা হয়েছে কোরো ঘটনা ঘটার আগেই তাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর নিরাপত্তা বাড়িয়ে লাভ কী?’

রাজধানীতে গারো তরুণীকে মাইক্রোসাবে তুলে নিয়ে ধর্ষণের বিষয়ে কমিটিতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। এজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে কমিটিতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গণমাধ্যমে কথা বলার ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করতে বলেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, কোনো ঘটনা ঘটার পরেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা নানা মন্তব্য করে বসেন। তাই মিডিয়াতে কথা বলার ক্ষেত্রে সর্তক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের সরকার নীতিগত সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে।

এছাড়া কমিটি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ৫০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে।

বৈঠকে পুলিশ বাহিনীর যানবাহন সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘসূত্রিতা অবসানের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে যানবাহন ক্রয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে কমিটি সদস্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, শামসুল হক টুকু, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম, কামরুন নাহার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।