গণমাধ্যমকে বশীভূত করতে সম্প্রচার নীতিমালা

প্রকাশ:| সোমবার, ১১ আগস্ট , ২০১৪ সময় ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, সরকার ব্যর্থতা আড়াল করতে গণমাধ্যমকে বশীভূত করতে সম্প্রচার নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংগ্রাম করেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। সংগ্রাম করেই তা ধরে রাখতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা, গণমাধ্যমের গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিলস্বাধীনতা ও গণতন্ত্র শীর্ষক বৈঠকে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য এডভোকেট আবদুস সালাম সভাপতিত্ব করেন। সভা সঞ্চালনা করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনামূলক নিবন্ধ উপস্থাপন করেন আবুল হাসান রুবেল। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সব সরকারই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণœ করতে চায়, সরকারের এই বাসনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অগ্রসর হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল বলেন, সরকারি এই কমিশন ব্যর্থ হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু সরকার গণমাধ্যমের জবান বন্ধ করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে তাদের যে আড়াল করার অনেক কিছু আছে, সেটাই পরিষ্কার করেছে। অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থরক্ষার নাম করে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনের যে রাজত্ব চলছে, সে বিষয়ে জনগণ যেন জানতে না পারে, সেই চেষ্টাটিই সরকার করছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, সাংবাদিকতার প্রাথমিক শিক্ষাই হলো সরকার মিথ্যা কথা বলে, আর গণমাধ্যম তা উন্মোচনের চেষ্টা করে। ‘প্রথম আলো’র যুগ্মসম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের সংশ্লিষ্টতার কথা আলোচিতই হতো না এই নীতিমালা বহাল থাকলে। ডেইলি স্টার পত্রিকার সাংবাদিক সৈয়দ বদরুল আহসান এই নীতিমালার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদ গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহবান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিম উদ্দীন খান বলেন, সরকার যেটাকে জাতীয় স্বার্থ বলে মনে করে, জনগণ যে সেটাকে না-ও মনে করতে পারে, তার উদাহরণ তো সাম্প্রতিক তোবা গার্মেন্টের ঘটনাতেও পরিষ্কার। মানবাধিকার কর্মী ও লেখক ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া বলেন, এই সম্প্রচার নীতিমালা যে কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আইন ও চেতনার লঙ্ঘন। এবিসি রেডিও’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সানাউল্লাহ লাভলু বলেন, এই নীতিমালা কার্যকর হলে কোন গণমাধ্যমই সরকারি প্রেস নোটের বাইরে আর কোন কিছু প্রচার করতে পারবে না। গণতান্ত্রিক বামমোর্চার সমন্বয়কারী শুভ্রাংশু চক্রবর্তী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও তাকে বিস্তৃত করার সংগ্রামে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রগতিশীল শক্তিকে পাশে পাবেন। সিপিবির কেন্দ্রীয় সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসেই সরকারের এই চক্রান্ত রুখে দাঁড়াতে হবে। জোনায়েদ সাকি বলেন, স¦াধীন মতো প্রকাশ গণতন্ত্রের ভিত্তি, সেই ভিত্তিটাকে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই গণমাধ্যম দমনের যে তৎপরতা সরকার দেখাচ্ছে, তা প্রতিহত করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।


আরোও সংবাদ