গণতন্ত্র আজ আওয়ামীলীগ দ্বারা লুণ্ঠিত ও ধর্ষিত

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৭:২৪ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল আয়োজিত শহীদ জিহাদের স্মরণ সভায়-রুহুল কবির রিজভী আহমেদ

সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাহ পাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শহীদ কে.এম. নাজির উদ্দিন জিহাদের রক্তের স্রোতধারায় অর্জিত বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ আওয়ামী পুলিশের পদতলে পিষ্ট উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ৯০’র স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের রূপকার ছিলেন শহীদ জিহাদ। বিপ্লবী জিহাদের রক্ত মাখা রাজপথ সেদিন প্রকম্পিত হয়েছিল লাখো ছাত্র-জনতার পদধ্বনিতে। তাঁর রক্তের স্রোতধারায় পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের। শহীদ জিহাদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ আওয়ামীলীগ দ্বারা লুণ্ঠিত ও ধর্ষিত। অসংখ্য বিপ্লবীর রক্তের সাথে বেইমানি করে গণতন্ত্রের কবর রচনা করার পথে র্নিলজ্জভাবে হেঁটে চলেছে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার। শহীদ কে এম নাজির উদ্দিন জিহাদের ২৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদল আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। অদ্য ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১২ ঘটিকার সময় নগরীর নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে নগর ছাত্রদল সভাপতি গাজী মুহাম্মদ সিরাজ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলুর সঞ্চালনায় উক্ত স্মরণ সভার প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ বক্তা ছিলেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও বিশেষ অতিথি ছিলেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল সভাপতি কাজী বেলাল, নগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন,সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সম্পাদক আলী মর্তুজা খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য জায়েদ বিন রশিদ, শেখ রাসেল প্রমুখ।
শহীদ জিহাদের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে প্রধান অতিথি রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে। ১০ অক্টোবর ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোটের পল্টন ময়দানে মহা সমাবেশ ও সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি। নেতাকর্মীদের নিয়ে জিহাদ রাতে ঢাকায় আসেন এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বিকাল ৪ টায় পল্টনে শুরু হয় পুলিশী এ্যাকশান, গুলি বিদ্ধ হউন জিহাদ। ডা. মিলন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথেই তিনি তারা যান। ৯০’র স্বৈরসরকার বিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অকুতোভয় বীর শহীদ নাজির উদ্দিন জিহাদ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ জিহাদ যুগে যুগে আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবে। আমরা তার আরাধ্য স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে না পারলে তার ত্যাগকে অস্বীকৃতি জানানো হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী আহমেদ আরও বলেন, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রহীন করার জন্য আওয়ামীলীগ বারবার ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে। কিন্তু এদেশের স্বাধীনচেতা জনগণ প্রতিবারই তাদের সে ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে। তাই বলছি এদেশের জনগণের সাথে প্রতারণা করে পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সময় হলে গণতন্ত্রকামী জনগণই আপনাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে এবং আপনাদের সকল অপকর্মের বিচার নিশ্চিত করবে। জনগণের অধিকার আদায়ের ক্ষমতা বিএনপির আছে। আগামী দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাই সকলকেই সজাগ থাকতে হবে, যাতে আওয়ামীলীগ জনগণের বিরুদ্ধে নতুন কোন ষড়যন্ত্র করতে না পারে। তাদেরকে রাজপথে থেকেই প্রতিহত করতে হবে।
প্রধান বক্তা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নাজির উদ্দিন জিহাদ মরে নাই। তিনি বেঁচে আছেন আমাদের মাঝে, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের মাঝে। বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল নাম শহীদ কে.এম. নাজির উদ্দিন জিহাদ। তার আত্মত্যাগ আমাদের উৎসাহ যোগায়, অনুপ্রাণিত করে। গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য শহীদ জিহাদ অনুকরণীয় এক আদর্শ। তার গণতন্ত্র মুক্তির চেতনায় হউক বাকশালী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলনের শক্তি। প্রয়োজনে আরও অসংখ্য জিহাদ প্রাণ দিতে প্রস্তুত আছে, তারপরও জনগণের হারানো গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার আমরা ফিরিয়ে আনবোই।