গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন: প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ১১:০৩ অপরাহ্ণ

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রের অক্ষুণœ রাখতে ও সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে সংবাদপত্রগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সংবাদপত্রের ওপর যে কোনো ধরনের আক্রমণের অর্থ গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ। অপশক্তির মোকাবিলায় সাংবাদিকদেরও এক হয়ে লড়াই করতে হবে। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদপত্রকে দেশের আয়না অভিহিত করে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ বলেন, গণমাধ্যমে প্রকৃত উন্নয়নে তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও বাকস্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে কারণে সরকার তথ্য অধিকার আইন পাস করার পাশাপাশি সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা মানেই যা খুশি তাই করা নয়।
পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালিদের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে সরব ছিল সংবাদপত্রগুলো। তারা সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের মুক্তির সংগ্রামের পক্ষে বৈশ্বিক জনমত তৈরি করতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিল। স্বাধীনতা অর্জনের পর সংবাদপত্রগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত জাতির পুনর্গঠনের জন্যও নিজেদের সৃজনশীলতা দিয়ে নিয়োজিত ছিল। দেশের বিভিন্ন সঙ্কটকালে সংবাদপত্রগুলোর বেশিরভাগই ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক অবস্থান নিয়ে দেশপ্রেমিকের ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, শহর ও গ্রামের উন্নয়নের মতো বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকার কথা সর্বজনবিদিত।’
প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের গণমাধ্যমের দৃশ্যপটে ইংরেজি সংবাদপত্রগুলোর বিশেষ একটি স্থান রয়েছে। এসব সংবাদপত্র বিশ্ববাসীর সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগের সূত্র এবং দেশের সাফল্যের কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন করে থাকে। এসব সংবাদপত্রের মধ্যে ডেইলি স্টার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এটি দেশ-বিদেশের মানুষের মনে বিশেষভাবে স্থান করে নিয়েছে।’ সংবাদ ও মতামত ছাপার বাইরেও জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ, নারী ও শিশু অধিকারসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক আন্দোলনে এই ইংরেজি দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট বলেন, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার মতো সাহস থাকতে হবে গণমাধ্যমের। আর এই চর্চার মাধ্যমেই একজন সাংবাদিক তার পেশাজীবনে উৎকর্ষ অর্জন করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকার এবং আমার সমালোচনা করবেন। তবে এসব সমালোচনার যথার্থ ভিত্তি থাকতে হবে। এটা কোনোভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট হলে চলবে না। সরকার পরিচালনা ও জাতি গঠনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গঠনমূলক সমালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এখন কোন নির্দিষ্ট দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রযুক্তি-নির্ভর সুসংবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধ ও এগুলোর খবর উদঘাটনে গণমাধ্যমকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশকে ধর্মীয় সম্প্রীতির ভূখ- অভিহিত করে তিনি বলেন, আমরা এই ঐতিহ্যের সঙ্গে কখনই আস করব না। ধর্মের অপব্যবহারের মাধ্যমে যাতে কেউ ফায়দা না লুটতে পারে, সেদিকেও গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আফজাল রহমান। অনুষ্ঠানে ডেইলি স্টার দেশের প্রথিতযশা ২৪ ব্যক্তি ও সংগঠনকে সমাজের প্রতি তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজীবন সম্মাননাও প্রদান করে।