‘গণজাগরণের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হয়েছে’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২২ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

গণজাগরণ মঞ্চের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী বলেছেন, সরকার সেই মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে।  গণজাগরণ মঞ্চই দাবি তুলেছিল কাদের মোল্লা কসাই, তার ফাঁসি হতেই হবে।  অবশেষে ফাঁসি তো হলো।

‘গণজাগরণের কারণে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হয়েছে’শুক্রবার (২২ এপ্রিল) নগরীর নজরুল চত্বরে (ডিসি হিল) চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোগের ৮৬তম বার্ষিকীতে যুব ইউনিয়ন আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কামাল লোহানী বলেন, ব্লগার তারাই যারা দিনলিপি লেখেন।  দেশের অন্যায় সম্পর্কে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন।  আজ পর্যন্ত ব্লগার হত্যার ঘটনার একটিরও বিচার হয়নি।  এটা বিচারহীনতার সংস্কৃতি নয়, দুর্নীতি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন সব ধর্মের মানুষ স্বাধিকারের জন্যে লড়াই করলেও স্বাধীনতার পর সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগ করতে হলো কেন?

মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা সফল হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষকে বারবার বোকা বানানোর চেষ্টা হয়েছে।  কিন্তু এদেশের মানুষ কখনো বোকা বনেনি।  আমরা বারবার দাবি করছি জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে।  মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে কথা বলা আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে।  মুক্তিযুদ্ধের ওপর ১০০ নাম্বারের পরীক্ষা নিতে হবে।

সংগঠনের সভাপতি রিপায়ন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে যুব সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী, যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল কাফী রতন, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ চৌধুরী।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদারের সঞ্চালনায় সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।  যুব ইউনিয়ন সাংস্কৃতিক স্কোয়াড পরিবেশিত গণসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।  যুব সমাবেশ পরবর্তী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে রক্তকরবী, ব্যান্ড দল শহুরেগান, প্রমা আবৃত্তি সংগঠন আবৃত্তি এবং বিশিষ্ট গণসঙ্গীত শিল্পী ঝুমা দত্ত ও ইউসুফ আলী গান পরিবেশন করেন।

সমাবেশ থেকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক জালালাবাদ পাহাড়টি অধিগ্রহণ করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার এবং সেখানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের প্রকৃত ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্তসহ যুব বিদ্রোহের মহানায়কদের স্মরণে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের নামকরণেরও দাবি জানানো হয়।

১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল অপার সাহস ও মাতৃভূমির প্রতি অসীম কর্তব্যনিষ্ঠা নিয়ে বিপ্লবী মহানায়ক, অগ্নিপুরুষ মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে একদল অসম সাহসী যুবক চট্টগ্রামকে চার দিনের জন্য ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করেছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী যুব বিদ্রোহের অনুপ্রেরণাই পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছিল। সূর্য সেনের নির্দেশে চট্টগ্রামের বিপ্লবীরা সেদিন দামপাড়া পুলিশের অস্ত্রাগার ও পাহাড়তলী অক্জিলিয়ারি ফোর্সের অস্ত্রাগার দখল করেন।  টেলিফোন ভবনের টেলিফোন বোর্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ করে পেট্রল দিয়ে জ্বালিয়ে দেন।  বিপ্লবীরা ধূম ও লাঙ্গলবন্দ রেলস্টেশনের নিকটবর্তী রেললাইনের ফিসপ্লেটতুলে ফেলেন এবং টেলিগ্রাফের তার কেটে দেন।  বিদ্রোহের আগে ব্রিটিশ সরকারের নিষ্ঠুর অত্যাচার হতে দেশকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বিপ্লবীরা ইশতেহার বিলি করেন।  অভ্যুত্থান শেষে বিপ্লবীরা দামপাড়া পুলিশ অস্ত্রাগার মাঠে সমবেত হয়ে অস্থায়ী সরকার ঘোষণা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সর্বাধিনায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনকে গার্ড অব অনারদেন।  এ অভ্যুত্থানই চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহহিসেবে পরিচিত।  চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত রাখার শেষদিন, ২২ এপ্রিল পাহাড়তলীর জালালাবাদ পাহাড়ে ব্রিটিশ সৈনিকদের সঙ্গে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণকারী ৫৮ জন বিপ্লবীর মধ্যে ১১ জন শহীদ হন এবং ৮০ জন ব্রিটিশ সেনা মারা যান।


আরোও সংবাদ