খেলাতে হামলায় আহত আশরাফ জুলুর অবস্থা আশঙ্কাজনক

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ০৫:২৮ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজানঃ
চট্টগ্রামের রাউজানে ক্রিকেট খেলা কে কেন্দ্র করে ঝগড়া লেগে মারামারির ঘটনায় গুরুতর আহত সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্র এখন মৃত্যু শয্যায় ডেল্টা হেলথ হাসপাতালে লাইফ সার্পোটে আছেন। লাইফ সার্পোটে থাকা ওই ছাত্রের মাথায় ও সারা শরীরে ক্রিকেট ব্যাট ও স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করেছে তার দুই নিকটত্মীয় ছাত্র। আহত ছাত্রের মাথায় প্রচন্ড আঘাত লেগেছে। তারা সেদিন একসাথে খেলছিল। খেলার এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। ছেলের মৃত্যু শয্যার খবর শুনে সুদুর আবুধাবী থেকে ছুটে এসেছেন আহত ছাত্রের পিতা।
জানাগেছে, একই বাড়ীর নিকত্মীয় কিশোরদের মধ্যে গত ১৭ দিন আগে ঘটনাটি ঘটলেও তা এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। চাপের মুখে আহত ছাত্রের পরিবারও ঘটনাটি প্রশাসন কিংবা সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করে নি।
গত ১৪ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের গশ্চি মোহাম্মদ জামান তালুকদার বাড়ীতে।
আহত ছাত্রের নাম ইয়াসিন আশরাফ জুলু। সে গশ্চি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। ওই এলাকার নানা বাড়ীতে থেকে পড়া লেখা করছিল জুলু। আহত জুলু উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের উণসত্তর পাড়া গ্রামের আবুধাবী প্রবাসি মোহররম আলীর পূত্র।
তার বাবা মোহররম আলী গতকাল বুধবার বিকেলে জানিয়েছেন তার ছেলে জুলুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। মাথায় অপারেশন হয়েছে। এখন লাইফ সার্পোট দিয়ে বাচিয়ে রাখা হয়েছে। ছেলের এমন করুণ অবস্থার খবর শুনে তিনি আবুধাবী থেকে দেশে আসেন গত ১৭ এপ্রিল। এখন ছেলের শয্যা পাশেই দিন কাটাচ্ছেন।
গশ্চি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হানিফ বলেন, বুধবার জুলুকে দেখতে আমরা শিক্ষকরা হাসপাতালে যায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি খুবই অমানবিক। শুনেছি জুলুর নিকটাত্মীয় দুই ভাইয়ের মধ্যে এক ভাই জুলুকে আটকে ধরে আরেক ভাই স্টাম্প দিয়ে মাথায় ও সারা শরীরে আঘাত করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক আহত ছেলেটার পাশে আছি। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থ করেছি। ছোট কিশোররা ক্রিকেট খেলা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে এমনটা হয়েছে। যা দু:খজনক।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভুপেশ বড়–য়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মারামারির ঘটনাটা মামাতো ফুফাতো ভাইয়ের মধ্যে হয়েছে। আহত ছাত্র ও আঘাতকারীরা নিকটাত্মীয়। তবে আহত ছেলেটার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জেনেছি।


আরোও সংবাদ