খেলাঘরের প্রত্যাশা ছিল একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষানীতির

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ০৯:১২ অপরাহ্ণ

আলোচনা চক্রে বক্তারা

খেলাঘর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটি আয়োজিত “ খেলাঘরের শিক্ষা ভাবনা ” শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনা চক্রে বক্তারা বলেছেন ১৯৫২ সালের ২ মে প্রতিষ্ঠার পর পথচলার এই দীর্ঘসময়ে খেলাঘরের শিক্ষা ভাবনা সবসময়ই স্পষ্ট ও দ্বিধাহীন। তাই জীবনবিমুখ, বৈষম্যমূলক ও সাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে যখন ১৯৬২ সালে এদেশের ছাত্রসমাজ রুখে দাঁড়িয়েছিল, তাদের কাতারে সামিল হয়েছিল খেলাঘরের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীবন্ধুরা। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে খেলাঘরের প্রত্যাশা ছিল একটি যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষানীতির, যা একটি সুশিক্ষিত, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক, দেশপ্রেমিক, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
গতকাল ২০ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকালে পটিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে খেলাঘর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ বি এম আবু নোমানের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত আলোচনা চক্রে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. রোকেয়া পারভীন,বিশিষ্ঠ শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক কানাই দাশ,খলিলুর রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুহম্মদ আবু তৈয়ব । খেলাঘর সংগঠক অধ্যাপক ভগীরথ দাশ এর সঞ্চালনে খেলাঘরের শিক্ষা ভাবনা উপস্থাপন করেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বিপ্লব বসু । বক্তব্য দেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক রেজাউল কবীর, সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, খেলাঘর জাতীয় পরিষদ সদস্য ওসমান গনি চৌধুরী বাবুল,আবুল ফজল বাবুল, জেলা কমিটির সম্পাদক নাছির উদ্দিন,সজীব নাথ,ইসমত আরা দিলশাদ,বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু তাহের, খেলাঘরের উপদেষ্ঠা তাজুর মুল্লুক,ডা.চায়না বড়–য়া,ডা.জয় দত্ত বড়–য়া সুমন,শিক্ষক সমিতি পটিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,সাধারন সম্পাদক অরুন মিত্র,সংস্কৃতি কর্মী অধ্যাপক অভিজিৎ বড়–য়া মানু , প্রেসক্লাব সভাপতি নুরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, আবদুল জলিল, আবদুল গনি, আশরাফ আহমেদ,জামাল উদ্দিন,সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল আমিন,শিক্ষক আজাহার উদ্দিন,কাজল দাশ,মনি পুরোহিত,আবদুল মন্নান,সুনিল বিশ্বাস,আনোয়ার হোসেন,নাসিমা আকতার ।
বক্তারা আরো বলেন স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের সতের নম্বর অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের শিক্ষানীতির কথা বিধৃত। সংবিধানে সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করে একটি গণমুখী ও সর্বজনীন যে শিক্ষাব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তাতে দেশের মানুষে আশা-আকাঙ্খা, দেশের ইতিহাস-সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিফলিত হবে এটাই প্রত্যাশিত। একই সঙ্গে সমকালীন বিশ্বে জ্ঞানের যে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার পর্যায়ে উন্নীত হতে হলে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক ও গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন।স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে ৪২ বছরে ছয়টি শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার কোনটিই প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।
একটি দেশের শিক্ষাদর্শন সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত হয় দেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতির দ্বারা। আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এতটাই পরিবর্তিত হয়েছে, সংবিধান এতটাই বদলে গেছে, মানসিকতা এতটাই বৃত্তাবদ্ধ হয়ে পড়েছে যে, আমারা সমষ্টিগতভাবে আর এগোতে পারছি না।


আরোও সংবাদ