খেজুরের রস আহরণ

প্রকাশ:| বুধবার, ২২ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১১:২৯ অপরাহ্ণ

খেজুর গাছগাছিরা হাতে দা নিয়ে ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেজুর গাছে উঠে নিপুন হাতে গাছ চাঁছাছোলা ও নলি বসানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গাছিদের মাঝে শুর“ হবে খেজুররস সংগ্রহের প্রেিযাগিতা। শীত মৌসুম এলেই দণি-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বত্র শীত উদযাপনের নতুন আয়োজন শুর“ হয়। খেজুরের রস আহরণ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ অঞ্চলের গাছিরা। মুখে ফুটে উঠে রসালো হাসি।
শীতের দিন মানেই গ্রামাঞ্চলে খেজুর রস ও নলেন গুড়ের মৌ মৌ গন্ধ। শীতের সকালে খেজুরের ঠান্ডা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে শেষ করা যায় না। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েসতো খুবই মজাদার। এ কারনে শীত মৌসুমের শুর“তেই গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি খেজুর রসের ীর, পায়েশ ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। প্রতিদিনই কোন না কোন বাড়িতে আয়োজন চলে খেজুর রসের তৈরি খাদ্যের। শীতের সকালে বাড়ির উঠানের রোদে বসে গাছ থেকে সদ্য নামিয়ে আনা খেজুরের ঠান্ডা মিষ্টি রস যে পান করেছে তার স্বাদ কোন দিন সে ভুলতে পারবে না। এ রস থেকে তৈরী হয় গুড়, সুস্বাদু পাটালি ও সন্দেশ। খেজুরগুড় বাঙালির সংস্কৃতির একটি অবি”েছদ্য অংশ। খেজুরের নলেন গুড় ছাড়া শীতকালীন পিঠা উৎসবের কথা ভাবাই যায় না।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগুড় আজ বিলুপ্তির পথে। কারন, আগের মতো খেজুর গাছ আর নেই। ইটভাটায় জ্বালানির কাজে ব্যবহার করতে নিধন হ”েছ এলাকার শত শত খেজুর গাছ। ফলে দণি-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরপরেও গাছিরা তাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যা”েছন।
কেবল গুড়, সূস্বাদু খাবার ও শুধু রসনা তৃপ্তির সুমিষ্ট রসের জন্যই নয়, আমাদের জীবনের প্রয়োজনে পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য রায় আমাদেরকে খেজুর গাছ বাঁচিয়ে রাখতে সচেষ্ট হতে হবে।


আরোও সংবাদ