খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প আলোর মুখ দেখচ্ছে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৮ মার্চ , ২০১৮ সময় ১২:২৯ অপরাহ্ণ

নানা বাধা কাটিয়ে অবশেষে নগরীর দুঃখ খ্যাত জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) মেগা প্রকল্পের দুয়ার খুলেছে। ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবছরে (২০১৭–২০১৮) ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে।

রোববার (১১ মার্চ) প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা ডাকা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, ‘প্রকল্পের অনুমোদনের পর প্রক্রিয়া ঠিক করতেই তিন মাস পেরিয়ে গেল। আর দেরি করার সময় নেই। সামনেই বর্ষা মৌসুম শুরু হবে। এ প্রকল্পের সফলতা পেতে হলে কাজ শুরু করাটা জরুরি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক) প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গভর্নমেন্ট অর্ডার (জিও) প্রদান করেন। একই দিন চট্টগ্রামের মানুষকে ভালোবেসে ও প্রকল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে একনেক সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিও পাওয়ার পরপরই ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক হওয়ার পর শিগগিরই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। শুরুতেই ৩৬টি খালের মধ্যে ১৬টি খালের কাদা পরিষ্কার ও খননে জোর দেওয়া হবে। পরে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোর প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের করণীয় নির্ধারণে মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা ডাকা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোববার সকালে মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দফতরের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ ইঞ্জিনিয়ার প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন। সভায় কোন প্রক্রিয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘অনেক বাধা কাটিয়ে এ প্রকল্প আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন। এ প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনেক প্রধানমন্ত্রী আসবেন, যাবেন। কিন্তু শেখ হাসিনার মতো চট্টলদরদি প্রধানমন্ত্রী আর পাওয়া যাবে না।

এর আগে ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকে শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একনেকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আহ্বায়ক, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রীকে সদস্য করে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের

প্রতিনিধি নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়।টেকনিক্যাল কমিটির প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকবার সভা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেন।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় শুরুতেই ১৬টি খালের কাদা পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু হবে শিগগিরই। সেগুলো হলো- চাক্তাই খাল, বির্জা খাল, রাজাখালী খাল–১, মির্জা খাল, রাজাখালী খাল–২, রাজাখালী খাল–৩, মরিয়মবিবি খাল, হিজরা খাল, মহেশখাল, কলাবাগিচা খাল, ডোমখাল, বামুনশাহী খাল (কোদালাকাটা খাল, কাটা খাল, সানাইয়া খাল, মধুছড়া খালও বামুনশাহী খালের অন্তর্ভুক্ত), চাক্তাই ডাইভারসন খাল (বাকলিয়া খাল নামেও পরিচিত), নোয়া খাল (বাইজ্জা খাল ও বালু খাল নামেও পরিচিত), খন্দকিয়া খাল ও নাছির খাল।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের জুনে। প্রকল্পে ব্যয়ের মধ্যে ৩৬টি খালের মাটি অপসারণে ২৮ কোটি ৮৫ লাখ ও মাটি খননে ২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ৬ হাজার ৫১৬ কাঠা ভূমি ১ হাজার ৭২৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, নতুন ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে ৩১৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। ১৭৬ কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৪০ কোটি, ৪৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপনে ২৯৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বন্যার পানি সংরক্ষণে ৩টি জলাধার, ৬টি আরসিসি কালভার্ট প্রতিস্থাপন, ৫টি টাইডাল রেগুলেটর, ১২টি পাম্প হাউস স্থাপন, ৪২টি সিল্টট্রেপ স্থাপন, ২০০টি ক্রস ড্রেন কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

১৫ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রোড সাইড ড্রেনের সম্প্রসারণ, ২ হাজার বৈদ্যুতিক পুল স্থানান্তর, ৮৮০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন এবং ৯২টি ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরের কথা রয়েছে।

সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্পটির পরিচালক আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, মনিটরিং কমিটির

সভার পরপরেই জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। প্রথম ধাপে বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রকল্পের অধীনে ১৬টি খাল পরিষ্কার ও খননকাজ শুরু হবে।প্রকল্প অনুসারে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানান তিনি।


আরোও সংবাদ