খাল, নদী ও চরাতে দখলকারীর থাবা!

প্রকাশ:| সোমবার, ৩ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:৪১ অপরাহ্ণ

খাল-নদী-চরা
মো: ফারুক,পেকুয়া
পেকুয়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান নদনদী ও চরাগুলো অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে। দখলকারীরা প্রশাসনের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে নদী ও চরা দখল করে প্রতিদিন বসতঘর নির্মাণসহ অবৈধ পন্থায় বালু উত্তোলণ করে চলছে। যার কারণে প্রবাহমান নদী ও চরা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে পানি চলাচল করতে না পারায় পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানি উপকূলের উপর প্রবাহিত হয়ে বন্যা ও জলোশ্বাস মারাত্মক আকার ধারণ করে। যা বিগত দুই দফা বন্যায় এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিগত বন্যায় বাঘগুজরা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকলেও উপজেলার প্রবাহমান নদী ও চরা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে পানি প্রবাহিত হলে এরকম মারাত্মক ক্ষতি পেকুয়ায় হতো না বলে পরিবেশবিদের ধারণা।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চারপার্শ্বে বি¯তৃত সবচেয়ে বড় ভোলার খাল ও মাতামুহুরী নদীর শাখা প্রশাখা। রয়েছে ছোট বড় অনেক চরা। ওই দুইটি ছাড়াও রয়েছে, চিলখালী খাল, রপাই খাল, দক্ষিণ মেহেরনামা হইতে নুন্ন্যা মুইন্যার খাল, নুন্ন্যার মুইন্যার ফুল হইতে মিয়া পাড়া হয়ে পেকুয়া বাজারের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া খাল, ঝাদুখালী চরা, সুনাইছড়ি চরার মুখ থেকে গুদিকাটার ঠেক, মিয়ারখাল, জারুলবনিয়া চরা, হাজ্বি বাজার খালসহ অসংখ্যা নদনদী ও চরা। আর ওই নদনদী, খাল ও চরা দখল করে রেখেছে একশ্রেনীর প্রভাবশালীরা। তারা বিভিন্ন কৌশলে নদনদী ও খালে বাদ দিয়ে চর তৈরি করে বিক্রি করছে অসহায় লোকদের। তাদের কাজ থেকে কোন ধরণের কাগজ পত্র না পেলেও সহায় সম্বল হিসাবে মৌখিক ভাবে ক্রয় করে বসতঘর তৈরি করছে। এমনকি সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করছে পুরো ভোলা খাল ও দক্ষিণ মেহেরনামা হইতে মিয়া পাড়া হয়ে পেকুয়া বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বেও খালটি। বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী জেগে ওঠা চর দখল করে দোকান ঘর ও বড় বড় দালান নির্মাণ করছে। আরো মারাত্মক ব্যাপার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ডেভলাপার কোম্পানীগুলো খাল ও নদী দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করছে। নামমাত্র পুরো নদী দখল করে একটি নালার মত করে রেখেছে তারা। তা দিয়ে পানি চলাচলতো দূরের কথা হোটেলের ফেলে দেওয়া পানি পর্যন্ত চলাচল করতে পারেনা। অন্যদিকে চরাগুলো দখলে মেতে ওঠেছে প্রভাবশালী বালু খেকুরা। তারা চর দখল করে বড় বড় মেশিন বসাইয়া বালু উত্তোলন করে চলছে অবলিয়ায়। বর্তমান উপজেলা প্রশাসন কয়েকবার বালু উত্তোলনে অভিযান চালালেও অবৈধরা আবারো দখলে নিয়েছে চরাগুলো। যার কারণে পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পানি প্রবাহিত হতে বাধার সৃষ্টি হয়।
এক অনুসন্ধানে জানা গেছে বিগত বিএনপি সরকারের আমলে টইটং এর একটি খাল খনন করতে ২৮ লাখ টাকার বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। তা জমির নামের এক প্রভাবশালী পুরোটায় লোপাট করে দেয়। ঝাদুখালী চরা খনন করতে বর্তমান সরকার বরাদ্ধ দিয়ে কাজ শুরু করলেও অল্প পরিমাণ খনন করে চলে যায়। এদিকে পেকুয়ার বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বেও খালটি অবৈধ দোকানদারেরা একটু একটু ভরাট করতে করতে পুরোটায় গিলে ফেলেছে। পানি চলাচালতো দূরের কথা খাল বা নদীর চিহ্ন পর্যন্ত নাই। এ যদি হয় তাহলে পাহাড়ি ঢলে পেকুয়া ডুববেনা কেন এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর।
টইটং এলাকার বাসিন্দা ও আঞ্চলিক মহাসড়ক বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক এম. আজিজ মাহবুব আজিজ জানান, টইটং এলাকাসহ পুরো উপজেলার চরা, নদী ও খালগুলো দখল মুক্ত করতে ইতিমধ্যে প্রশাসনের উর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষ জানানো হয়েছে। দ্রুত সরকার এ বিষয়ে উদ্দেগ নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
পেকুয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো: ফারুক নদী, খাল ও চরাগুলো দখল মুক্ত করতে সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সাথে এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে স্বারকলিপিসহ লিখিত অভিযোগ জানাবে জানায়।