খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স’র সভা

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৮ সময় ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) মাধ্যমে যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে তার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। এ নিয়ে জনগণ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে ভুল বুঝুক তা আমি চাই না। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল সমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সু-স্পষ্ট বক্তব্য প্রয়োজন। যাতে করে এ কার্যক্রমে কোন ওভারলেপিং না হয়। তিনি আজ সকালে কর্পোরেশনের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল সমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের ২য় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আজকের সভায় আলোচ্য বিষয় ছিল মহানগরীর প্রাকৃতিক খাল সমূহ হতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, এর দু’পাশে বেদখলী সরকারি জায়গা উদ্ধার, খাল সমূহ হতে মাটি উত্তোলন, খাল খনন ও ভরাটকৃত খালের মাটি-আবর্জনা নিস্কাশন করে খাল সমূহে স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখা, অবৈধ দখলদারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন এবং উচ্ছেদকৃত জায়গায় পুনরায় যাতে অবৈধ স্থাপনা নির্মিত না হয় সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং এর ব্যবস্থা ও এর পাশে উন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ। অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর এম আশরাফুল আলম,্ এ এইচ এম সোহেল, নাজমুল হক ডিউক, ইসমাইল বালী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুস্তাফিজুর রহমান, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিয়া শিরিন, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান,বিভাগীয় কমিশনার প্রতিনিধি হিসেবে সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক এর প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের ভু-সম্পত্তি বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার জিল্লুর রহমান,বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ সচিব ও বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা, চসিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট ও যুগ্ম জেলা জজ জাহানারা ফেরদৌস, উপ পুলিশ কমিশনার (সদর) শ্যামল কুমার নাথ, চসিক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর এসএসও নিউটন দাস, পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা খন্দকার মো. তাহাজ্জুত আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম নগরী পাহাড়ী এলাকা। এই এলাকার ৪৭ শতাংশ পাহাড় বালি মাটির। তাই বৃষ্টি হলে পাহাড়ী বালি বৃষ্টি পানির সাথে ধুয়ে নালা নর্দমা ও খাল ভরাট হয়ে জলযটের সৃস্টি হয়। তিনি সিলট্রেশন বন্ধ করা না গেলে এ সমস্যার সমাধান টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেন। ইতোমধ্যে আমরা ১৫ টি খাল থেকে মাটি উত্তোলন এর কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও নগরীতে আরো ২২ টি শাখা খাল রয়েছে। সবগুলো খাল পরিষ্কার হলে জলাবদ্ধতার স্থায়িত্ব কমবে। মেয়র খাল সমূহের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে মূল কাজ যেহেতু সিডিএ বাস্তবায়ন করবে, সেহেতু খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এর ক্ষেত্রে কিছু আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় এর সু-স্পষ্ট নির্দেশনা ও চউক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গেলে এ কার্যক্রমের সুফল মিলবে বলে আশা করা যায়। তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে খালের মাটি উত্তোলন,অবৈধ দখল উচ্ছেদে সিডিএ কর্তৃপক্ষের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা তা সিডিএ প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ এর কাছে জানতে চান। চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের ভু-সম্পত্তি বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন, অপচনশীল বর্জ্য জলাবদ্ধতার জন্য দায়ি উল্লেখ করে বলেন এ ধরনের বর্জ্য ভাটার সময় নদীর তলাতে আটকে থাকে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইচ গেট এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সংকটের নিরসন প্রকল্প নিয়েও দ্বিমত পোষন করেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ সচিব ও বিভাগীয় ভু-সম্পত্তি কর্মকর্তা ইশরাত রেজা বলেন, নগরীর ১৬ টি খালের পাড়ে রেলের জায়গা রয়েছে তাতে যদি অবৈধ স্থাপনা থাকে তা আমরা উচ্ছেদ করব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা বলেন, সিডিএ’র প্রকল্পের সাথে আমাদের গৃহীত অনেকগুলো প্রকল্পের ওভারলেপিং আছে যা আমরা সংশোধন করব।