খালেদা-তারেককে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে

প্রকাশ:| বুধবার, ১৯ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ

মরহুম ছালেহ জহুর স্মারণসভায়- মহিউদ্দিন চৌধুরী
মহিউদ্দিন চৌধুরী

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম ছালেহ্ জহুরের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার ভাষণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, মরহুম ছালেহ্ জহুর দুর্দিনে দলের কান্ডারী ছিলেন। নির্লোভ এই রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দলীয় নীতি থেকে কখনও বিচ্যুত হননি। সর্বোপরি রাজনীতিকে অর্থ ও বিত্ত অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি। আজ বিকালে মরহুমের ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডস্থ বাস ভবন প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, সালেহ জহুরের মত পরীক্ষিত নেতা কর্মীরাই দল ও জাতির সম্পদ। কারণ তাঁরা জনগণের ভালবাসা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছিলেন বলেই জনগণ দলের প্রতি আস্থাশীল হয়েছে। তিনি দু:খ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাশীন দলের রাজনীতিতে কিছু সুবিধাভোগী লোক অনুপ্রবেশ করে নিজের অর্থবিত্ত বৃদ্ধি করছেন এবং জনগণের কাছে দলের ভার্বমুতি ক্ষুন্ন করছেন। এ ধরনের সুবিধাভোগী দুর্বত্তদের চিহ্নিত করে দলকে পরিশুদ্ধ করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য সাবেক সংসদ ইসহাক মিয়া বলেন, মরহুম ছালেহ্ জহুর ছিলেন নিরহংকারী, নির্লোভ, গরীব দুঃখী মেহনতী মানুষের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক ছিল। আমরা যারা দল করি তাঁদেরকে জনগণের ভালবাসা ও আস্থা অর্জন করতে হবে এবং জনকল্যাণমূখী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে। তাহলেই দলের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদেরকে স্থানীয় জণগণের সাথে যোগাযোগ বৃ্িদ্ধ এবং বর্তমান সরকারের নজিরবিহীন সাফল্য ও অর্জনগুলোকে পৌঁছে দিয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী মহল নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি সরল ধর্মপ্রাণ মানুষকে তাদের অশিক্ষার কারণে ধর্মীয় উন্মদনা সৃষ্টি করে সরকারের সাফল্যগুলো নসাৎ করা অপচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধাপরাধীনের বিচার ও শাস্তি কার্যকর করার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে যখন ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখে চলেছেন তখন দেশী-বিদেশী চক্রান্ত শুরু হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, ছালেহ্ জহুর ছিলেন দলের দুর্দিনের কান্ডারী এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতকার্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীনের রক্ষায় যারা নাশকতা ও অরাজকতা করছে তারা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। এদের মদদ দিচ্ছেন পাকিস্তান প্রেমিক খালেদা জিয়া ও তাঁর দুর্নীতিবাজ লুঠেরা, পলাতক পুত্র তারেক জিয়া। এ দু’জনকে আইনের আওতায় এনে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, নোমাল আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, এডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ, হাজী মোহাম্মদ ইয়াকুব, আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম, শফিউল আলম ছগির, এডভোকেট এম.এ. নাছের, পিযুষ বিশ্বাস, কাজী রাশেদ আলী জাহাঙ্গীর, জামাল উদ্দিন, আতিকুর রহমান আতিক, দলিলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ নুরু, মহিলা কাউন্সিলর জাহানারা মোস্তাফিজ, আবুল কাশেম, মো: ইয়াকুব, শেখ সরওয়ার্দ্দী, আবদুর রহিম, আবদুর শুক্কুর ফারুকী, আবদুল মালেক, নুরুল আনোয়ার, সাইফুল ইসলাম, হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নুরুল আজিম রনি, সোহেল মাহমুদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভার আগে সকালে মরহুম সালেহ জহুর কবরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং কবর প্রাঙ্গণে কোরআর খানি, মিলাদ ও দোয়ামাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম।