খালেদা ভারতের প্রতি ভালোবাসা দেখাচ্ছেন

প্রকাশ:| সোমবার, ১ জুন , ২০১৫ সময় ০৭:৪৩ অপরাহ্ণ

খালেদা জিয়া এখন খুব ভারতের প্রতি ভালোবাসা দেখাচ্ছেন। তিনি এতোটাই ভালোবাসা দেখাচ্ছেন, যে তার মত আর ভারত প্রীতি কারো নাই।

সোমবার বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জাতীয় পার্টির (জেপি) আয়োজিত ‘নির্ভীক সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী’- উপলক্ষে আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরে ইন্দিরা গান্ধির সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি করেছিলেন। পরে এ চুক্তিকে খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান ও এরশাদ বলেছিলেন এটা গোলামী চুক্তি। সেই চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি আমরা। স্বাধীনতা ৪২ বছর পরে আজ ২০১৫ সালে ওই এলাকার সাধারণ মানুষরা স্বাধীন হয়েছে, মুক্ত হয়েছে। আলোচনার টেবিলে বসে কোন রক্তপাত না করে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে সেই চুক্তি সফল হয়েছে।’

মো. নাসিম আরো বলেন, ‘ভারতে পার্লামেন্টে বসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সব দল সেই চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছে। এ ব্যাপারে সংবিধান সংশোধন করেছেন তারা। আজ খালেদা জিয়া বলেন এর চাইতে ভালো চুক্তি আর হতে পারে না। এজন্য বেগম জিয়া মোদিকে বলেছেন আপনাকে অভিনন্দন। শেখ হাসিনা নিজেই লজ্জা পেয়েছেন এই কথায়। কেননা যারা এই চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করলো তাদের না অভিনন্দন জানিয়ে, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন। তবে এতে সমস্য নেই। এখন এটা প্রতিয়মান হচ্ছে যে- খালেদা জিয়ার চাইতে ভারত প্রীতি কারো নাই।’

আর হবেই তো বিএনপি হচ্ছে ডিগিবাজি দেওয়া দল তাই এবারও ডিগবাজি দিয়েছে- বলে যোগ করেন তিনি।

তিনি খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনাকে বলতে চাই- আপনি সব কিছু ভুল করে যাচ্ছেন। আপনার শোধরানোর জন্য একটা পথই আছে। তাই ২০১৯ সালে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। ইনশাল্লাহ মাঠে খেলা হবে। দেখবো কে গোল দেয়, আর কে গোল খায়। আমরা আবার নির্বাচনে যাবো। তবে ২০১৯ সালের আগে অবশ্যই নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।’

তিনি আগামী নির্বাচনের ভোট চেয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সবারই ভুল থাকে, আমাদের ভুল থাকতে পারে। তবে আমরা সংশোধন করতে পারি। যে ভুল করে তাদের আমরা ক্ষমা করি না। আমাদের নিজের কেউ হলেও আমরা ছাড় দেই না। তাই শেখ হাসিনাকে ভোট দেন, আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমরা যদি ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারি। তাহলে দেখবেন বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয় সম্মৃদ্ধ দেশ হবে, সবচেয়ে উন্নত দেশ হবে।’

এসময় নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে আন্দোলনে সাহস জুগিয়ে ছিলেন মুরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। মানিক মিয়া তার লিখনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। আজকে আমরা সবাই তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও সম্মান জানাচ্ছি।’

নৌ-মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আজকে তাকে স্মরণের মাধ্যমে হুশিয়ারী করে দিতে চাই, আপনারা অরাজনৈতিক আন্দোলনের নামে জনগণের প্রতি বিষাক্ত ছোবল আর মারবেন না। আমি জানি অসহায়ের আর্তনাদ আপনাদের কানে পৌছায় না। আর জনগণও বুঝে গেছে গণহত্যাকারীদের দ্বারা আর গণতন্ত্র হবে না। তাই আপনারা নিজেকে শুধরে নিন, না হলে সাবধান থাকুন।’

জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাবেক তথ্য মন্ত্রী অধ্যক্ষ আবু শহিদ, দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল এম এ রফিক মল্লিকসহ জেপির বিভিন্ন নেতারা।