খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুম-খুন হওয়াদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ

প্রকাশ:| রবিবার, ১৫ জুন , ২০১৪ সময় ১১:২৫ অপরাহ্ণ

খালেদাখালেদা জিয়াপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারকে প্রয়োজনে দেখাশোনার যে কথা বলেছেন কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের গডফাদারের দায়িত্ব নেয়, আশ্রয় দেয়। আওয়ামী লীগ নেত্রীই (শেখ হাসিনা) হলো গডফাদারের মা। যে গডফাদারকে আশ্রয় দেয় তার কাছ থেকে মানুষ ভালো কিছু আশা করতে পারে না।’

আন্দোলনে লক্ষীপুর জেলা বিএনপির যেসব নেতা-কর্মী নিহত ও গুম হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা আজ রোববার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান কার‌্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

আবার র‌্যাবের বিলুপ্তি দাবি করেন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি তিনি র‌্যাবের কর্নেল জিয়ার গ্রেপ্তার দাবি করেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় কর্নেল জিয়া জড়িত। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন অভিযোগ করেন, সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব থেকে অবসরে পাঠানো তিন সদস্যকে রিমান্ডের নামে জামাই আদর করা হচ্ছে। তাদের সত্যিকারের রিমান্ডে নেওয়া হলে, জিয়ার নাম আসবে, তার ওপরে হাসিনার নাম আসবে। হাসিনা কোনোভাবেই এ থেকে রক্ষা পেতে পারে না।

পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগের গুন্ডাবাহিনী মিরপুরের পল্লবীতে বিহারি ক্যাম্পে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে বলে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, এর চেয়ে বড় অপরাধ আর কি হতে পারে? এর বিচার অল্লাহ যেমন করবে, পৃথিবীতে বিচার হবে। আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচার হবে।

বিএনপি চেয়ারপারসন নেত-কর্মীদের উদ্ধেশে বলেন, সুদিন আর দুরে নয়, আওয়ামী লীগ বিদায় হবে, শান্তি আসবে। ঘরে-বাইরে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। তিনি বলেন, এখন দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার, জানমালের নিরাপত্তা নেই। গণতন্ত্র তো নেই। আওয়ামী লীগের সমালোচা করে তিনি বলেন, এরা মানুষ নয়, পশু, বানর। এরা শুধু মানুষ খুন ও গুম করতে জানে।

ক্ষমতাসীন সরকারকে অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
অনুষ্ঠানে গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইকবাল মাহমুদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মো. সোলায়মানের স্ত্রী সালমা ইসলাম, ছাত্রনেতা মো. রুম্মানের মা পারভীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত লক্ষীপুর জেলায় বিএনপির ২২ নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। আর গত বছরের ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত আরও ১৭ জন খুন এবং ছয়জন গুম হয়েছে। তাদের স্বজনেরা এ সময় উপন্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাবেক সাংসদ আবুল খায়ের ভূইয়া, দলের যুগ্ম মহসচিব মো. শাহজাহান, সাবেক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি প্রমুখ।

তারেক রহমান সম্পাদিত শহীদ প্রেসিডেন্ট ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক’শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পাদিত শহীদ প্রেসিডেন্ট ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বইটি প্রকাশের মাধ্যমে তারেক রহমান আওয়ামী লীগের মুখোশ উন্মোচন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন তরিকুল ইসলাম। বইটিতে মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার বিভিন্ন দলিল, মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা বইয়ের উদ্ধৃতি, পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। বইটিতে দাবি করা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে (২৫শে মার্চ মধ্যরাতে) তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এবং মেজর জিয়া অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল জানজুয়াকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর তিনি অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়ন অফিসার জেসিও ও জওয়ানদেরকে একত্রিত করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের তা জানানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তরিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা যখন চারদিকে মিথ্যার বেসাতি ছড়াচ্ছিল, সত্যকে মিথ্যা বানানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল তখন তারেক রহমান এই বইটি প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন। বইটিতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান যেসব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছিলেন সেসব ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের সফলতা ছিল আকাশচুম্বী। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আর শেখ মুজিবুর রহমান তা না দিয়ে পকিস্তানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন আর শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবার পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে ভাতাসহ ভরণ-পোষণের সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তরিকুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা দলটির নেতাকর্মীদের কুরে কুরে খাচ্ছে। এজন্যই জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে তারা সহ্য করতে পারে না। তিনি বলেন, তারেক রহমান সম্পাদিত এই বই থেকে প্রতিজ্ঞা-প্রতিশ্রুতি নিতে হবে। দলকে সুসংঘবদ্ধ, ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এসময় সরকার পতনের আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে সমস্ত বিভাজন ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার আহ্বান জানান বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।