ক্র্যাকডাউনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার

প্রকাশ:| শনিবার, ৯ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:৩৩ অপরাহ্ণ

মানবজমিন>>Road-তিসিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার। ব্যাপক ধরপাকড়। বিরোধী নেতার বাসা ঘিরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি। দলীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ। মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা। পিকেটিং এ কড়াকড়ি। নেতাদের বাসায় বাসায় তল্লাশি। সব মিলিয়ে বিরোধী দলকে ক্র্যাকডাউনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের এ কঠোরতায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা গুঞ্জন-আলোচনা। প্রধান দুই দলের মধ্যে সংলাপের বিষয়ে আলোচনা চলার মধ্যে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তারে হঠাৎ উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনীতিতে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন দিনের হরতাল বাড়িয়ে চারদিনে টেনে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের সব ধরনের তৎপরতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে সরকারি তরফে। সমঝোতার আহ্বান ও নির্বাচনকালীন তোড়জোড়ের মধ্যে দুই পক্ষের এমন কঠোর অবস্থানে রাজনৈতিক অবস্থা আরও ঘোলাটে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুক্রবার বিকালে টানা ৭২ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণার চার ঘণ্টার মাথায় বিএনপি’র তিন সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে হরতালের সময় বাড়িয়েছে বিরোধী দল। আজ থেকে শুরু হওয়া হরতালের মেয়াদ ১২ ঘণ্টা বাড়িয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি’র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি ও গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের মুক্তি না দিলে রাজপথেই সঙ্কটের সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বিরোধী নেতারা। এদিকে গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের দুই মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে নেতাদের ২০দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত আগামী বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে নেতাদের জেলে পাঠায়। শুক্রবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকসহ বিএনপি ও অঙ্গদলের শীর্ষ নেতাদের বাসা-বাড়িতে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে বিরোধী নেতা খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয় ও বাসা এবং বিএনপি’র নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। গতকাল গ্রেপ্তার আতঙ্কে দলীয় ও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের খুব একটা দেখা যায়নি। এসব ঘটনার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধসহ যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদে গতকাল ভোলা, পাবনা, নোয়াখালী ও কুমিল্লার একাংশ এবং রাজধানীর মিরপুর-পল্লবীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছেন স্থানীয় বিরোধী দল।
জনগণের ভাগ্য নিয়ে তামাশা করছে সরকার: ফখরুল
বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশির মাধ্যমে সরকার জনগণের ভাগ্য নিয়ে তামাশা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় চার নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি, এম কে আনোয়ার এমপি, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবনে যাতায়াতে বাধাদান, চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়, নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসভবনে শুক্রবার থেকে পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মির্জা আলমগীর বলেন, আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম ভরাডুবির বিষয়টি মাথায় রেখেই বর্তমান সরকার নিজেদের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধান থেকে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়েছে। এজন্য স্বৈরাচারীর ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী গণমানুষের দাবিকে নির্দয়ভাবে দমন করছেন। গায়ের জোরে জনগণের রায় ছিনিয়ে নেয়ার জন্যই নিজের অধীনে নির্বাচন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের নেতারা একদিকে সমঝোতা ও সংলাপের অস্পষ্ট কথা বলছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেপ্তার ও বাড়িতে বাড়িতে হামলা করে আসলে জনগণের ভাগ্য নিয়ে তামাশা করছেন। দেশের মানুষ এখন বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কটে একটি সমঝোতার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। সন্ত্রাস-সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার বর্তমান পরিবেশ থেকে পরিত্রাণের প্রহর গুনছেন। এ অবস্থায় শুক্রবার জাতীয় নেতাদের গ্রেপ্তার করে সরকার তার একগুঁয়েমির পুরনো পথেই হেঁটেছেন। একতরফা একদলীয় নির্বাচনের নীল-নকশা বাস্তবায়ন থেকে তারা সরে আসেনি। তবে কোন নীল-নকশাই কাজে আসবে না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে স্বস্তি, শান্তি ও আস্থার ভাব সৃষ্টি করতে সংবিধানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে সংলাপের পথে আসুন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। তা না করলে আর কোনদিন জনগণের সমর্থন লাভ করতে পারবেন না। বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার, তল্লাশি ও বাসাবাড়ি ঘেরাওয়ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অবিলম্বে গ্রেপ্তারকৃত বিএনপি নেতাদের মুক্তি দাবি করেন। সেই সঙ্গে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে যাতায়াতে বাধা, গুলশান কার্যালয় ও নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে পুলিশি অবস্থান তুলে নেয়ার দাবি জানান।
ব্যাপক ধরপাকড়: হরতালকে সামনে রেখে গতকালও রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধরপাকড় করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল বিএনপি’র দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রুহুল কবির রিজভী আহমেদের বাসায় তল্লাশি তালিয়েছে পুলিশ। এছাড়া দলের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদের ছেলে কদমতলী থানা বিএনপি’র আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফরিদপুর শহর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জনিকে আটক করা হয়েছে। যশোর জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। চাঁদপুর, নোয়াখালী ও রাজশাহীতেও ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ।

হরতাল পূর্ব-সহিংসতা
গাড়িতে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৮৪ ঘণ্টা হরতালের আগের দিন রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যায় শাহবাগ এলাকায় পেট্রোল বোমার আঘাতে আবদুর রাজ্জাক নামের এক যুবকসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বিএনপি’র নয়াপল্টন অফিসের সামনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেলের আঘাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের দুই সংবাদ কর্মী আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বিআরটিসি’র একটি দোতলা বাসে আগুন দেয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুরে মহাখালী তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্র্থীদের বহনকারী বিআরটিসি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আশিক (২২) নামের এক যুবককে আটক করে পুুলিশে সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা। সোয়া একটার দিকে রাজারবাগ পুলিশলাইনের সামনে পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। এ সময় রাজারবাগ লাইনের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর রূপনগর আবাসিক এলাকায় আশীর্বাদ পরিবহনের একটি বাসে আগুন এবং বিকালে রাজারবাগ এলাকায় একটি দোতলা বাসে আগুন দেয় ছাত্রদলের কর্মীরা, সোয়া পাঁচটায় গুলিস্তানের রমনা টেলিফোন ভবনের পাশে ঢাকা দোহার পরিবহনের একটি বাসে, একই সময়ে গুলিস্তান গোলাাপ শাহ্‌ মাজারের কাছে ঢাকা পরিবহনের একটি গাড়িতে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ দিকে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে শাহবাগ মোড়ে যাত্রীবাহী ইটিসি পরিবহনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এতে আবদুর রাজ্জাক ওরফে মিঠু (২২) নামের এক যুবকসহ তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে আবদুুর রাজ্জাকের অবস্থা গুরুতর। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মেডিকেল বার্ন বিভাগ সূত্র জানায়, পেট্রোল বোমায় তার শরীরের ২০ ভাগ পুড়ে গেছে। আহত আবদুর রাজ্জাক আলিকো লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির এলিফ্যান্ট রোডের একটি এজেন্সি অফিস পিওন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিএনপি’র নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটে। এ সময় দুই সংবাদকর্মী আহত হন।
সরকার পতনের শেষ সাইরেন বেজে উঠেছে: বিএনপি
সরকার পতনের শেষ সাইরেন বেজে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন আর গ্রেপ্তার-নির্যাতন করে কোন লাভ হবে না। সরকারকে বিদায় করার জন্য সারা দেশের জনগণ আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। গতকাল বেলা ১২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির দপ্তরের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হরতালে যাতে নেতাকর্মীরা ঘর থেকে বের হতে না পারে সেজন্যই দলের সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় হানা দিয়েছে পুলিশ। কারণ তাদের উদ্দেশ্য হলো, নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয় পাইয়ে দেয়া। যাতে আগামী ৭২ ঘণ্টার হরতালে নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে না পারে। কোন কারণ ছাড়াই নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে রিজভী আহমেদ বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া কথা বললেও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস দলের চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী। তিনি তো কোন রাজনৈতিক কথা বলেন না। তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে? আসলে সরকারের গোপন ইচ্ছা বাস্তবায়ন করতেই দলের সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলের সিনিয়র নেতাদের গ্রেপ্তার ও বাড়ি বাড়ি পুলিশি হানার প্রতিবাদে ১৮ দল ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার হরতাল বাড়িয়ে ৮৪ ঘণ্টার ঘোষণা দেন তিনি। ‘নিজের জীবন হুমকির মুখে’-এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে রিজভী আহমেদ বলেন, গতকাল রাতে শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের খবর শোনার পর কোথাও যাওয়ার জায়গা না পেয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আশ্রয় নেই। সেখানে রাত দশটায় সংবাদ সম্মেলনের পর সরকারের অনুগত পুলিশ বাহিনী আমাকে গ্রেপ্তারের জন্য গোটা এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে যখন সেখান থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠি তখনই ‘ধর ধর’ চিৎকার করে কয়েকটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস আমার গাড়ির পিছু নেয়। কিন্তু কৌশলে আমি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে পৌঁছি। তিনি অভিযোগ করেন, আমাকে এখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য কার্যালয়ের অফিস সহকারীদের হুমকি দিয়েছে পুলিশ। এই অবস্থায় আমি নিজের জীবননাশের আশঙ্কা বোধ করছি। তাই আমিসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, চেয়ারপারসন ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিরাপত্তা জন্য গণমাধ্যম, মানবাধিকার কমিশন ও আইনজীবীদের সহায়তা চাই। বিএনপি চেয়ারপারসনের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সরকারকে দিয়ে সব কিছুই সম্ভব। তবে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে আমরা জয়ী হবো।
দেশজুড়ে পুলিশের ধরপাকড়
বাংলারজমিন ডেস্ক: বিএনপি’র ডাকা টানা ৮৪ ঘণ্টার হরতালের আগের দিনও দেশের বিভিন্ন জেলায় ধরপাকড় অব্যাহত রাখে পুলিশ। এতে হরতাল সমর্থনকারীদের মধ্যে দেখা দেয় গ্রেপ্তার আতঙ্ক। অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশের ভাষ্য, হরতালের আগে নাশকতা ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট বিস্তারিত-
রাজশাহীতে আটক ১৭
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, হরতালের সমর্থনে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে মহানগর ১৮ দল। শনিবার বেলা ১২টার দিকে নগরীর ভুবনমোহন পার্ক থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপি’র কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে সংক্ষিপ্ত সমবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবি জানিয়ে মেয়র বুলবুল বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের আটকের মধ্যদিয়ে সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের হরতাল পালনের আহ্বান জানান। এদিকে, শুক্রবার রাতে রাজশাহীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৭ নেতাকর্মী আটক হয়েছেন।
শরণখোলায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক, নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, শরণখোলায় বিএনপি’র নেতা কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়েছে। উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি খান মতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের বাড়িতে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ব্যর্থ হয়। নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান ও উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদকসহ তিন জন পুলিশের হাতে আটক হওয়ায় বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্গে আত্মগোপন করেছে। এর আগে বুধবার রাতে রায়েন্দা সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মোল্লার বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে পায়নি। এদিকে, হরতালে পিকেটিং করার অভিযোগে পুলিশ বুধবার রাতে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য কাওসার আহমেদ, যুবদল কর্মী রিয়াজ ঘরামী ও ছাত্রদল কর্মী জিয়াউদ্দিনকে আটক করে।
নরসিংদীতে বিএনপি’র ১৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার রাত থেকে পুুলিশের অভিযানে এ পর্যন্ত জেলা ওলামা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলামসহ ১৪ জনকে আটক হয়েছেন। তাদেরকে গত হরতালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১৮ দলের টানা হরতালের সমর্থনে নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সভাপতি খায়রুল কবির খোকন-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করলে তা পুলিশের বাধার মুখে পড়ে ।
মুন্সীগঞ্জে ছাত্রদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার
নাসিরউদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর রায়ের প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জে ছাত্রদলের মিছিল ও সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রদলের ২ নেতাকে পুলিশ আটক করেছে।
মাগুরায় ৫ বিএনপি’র নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি জোয়ারদার আশরাফুল আলম, সদর উপজেলার যুবদলকর্মী সুমনসহ ৫ বিএনপি নেতা কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া অপর চারজনকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
বগুড়ায় থানায় ককটেল, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া থেকে জানান, হরতালের সমর্থনে বগুড়ায় ১৮ দলের মিছিল থেকে থানার মধ্যে ও সামনে উপর্যুপরি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় পুলিশ দুই শতাধিক টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে শহর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিল্পী বেগম ও অপর এক মহিলা কর্মীসহ ১২ জনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় ১০-১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়। জেলা বিএনপি থেকে দাবি করা হয়, জেলা বিএনপি’র সভাপতি ভিপি সাইফুলসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র ৫ নেতা গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, শুক্রবার রাতে ঢাকায় বিএনপি’র ৫ শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর থেকে নারায়ণগঞ্জেও পুলিশ বিএনপি’র নেতাদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে জেলার ৩টি থানা এলাকা থেকে ৫ বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের শহরের মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরি এলাকার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না।
বরিশালে ককটেলসহ ছাত্রদল নেতা আটক
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোড ঝাউতলা দ্বিতীয় গলি থেকে ৭টি ককটেলসহ ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম টিপুকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বিকালে এ গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৮ দলের মিছিলে পুলিশের হামলা
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে জানান, ১৮ দলের ডাকা হরতালের সমর্থনে গতকাল বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে শহরের রেল গেইট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময়ে মিছিলকারীরা বেশ কয়েকটি দোকান, অফিস, অটোরিকশা ভাঙচুর করে। মিছিলটি টিএ রোড এলাকায় পৌঁছলে পুলিশ পিছন থেকে অতর্কিত লাঠিচার্জ করে। শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। মাদ্‌রাসা রোডের কান্দিপাড়া এলাকায় ১০/১২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ এ সময় টিয়ার গ্যাস ও গুলিবর্ষণ করে। সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতা সালাউদ্দিন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ৩ জনকে আটক করে।
আশুলিয়ায় ৯ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, ১৮ দলের ডাকা হরতালকে সামনে রেখে সারা দেশের মতো সাভারের আশুলিয়ায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত আশুলিয়া থানা এলাকার বিভিন্ন মহল্লা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে তাদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গোপালগঞ্জে যুবদল নেতা আটক
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান নাশকতার অভিযোগে গোপালগঞ্জ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজকে বেদগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ধামরাইয়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, আটক ৩
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, হরতালের সমর্থনে ও বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর সাজার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদের পক্ষে ধামরাই পৌরসভা, জয়পুরা, কালামপুর, নান্নার, ভাড়ারিয়া ও বালিয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। কালামপুরে মিছিল শেষ হওয়ার পর পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ছাত্রদলের ৩ কর্মীকে আটক করেছে।
বরিশাল ১৮ দলের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে, আটক ১৬
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে জানান, শুক্রবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপি’র ১৬ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। বরিশাল মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ারের গুলশানের বাসভবনে রাতে পুলিশ হানা দিয়েছিল বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। এছাড়া মহানগর জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুয়াযযম হুসাইন হেলালের বাসাসহ বিএনপি’র অনেক নেতা-কর্মীর বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পিন্টুর কাঠপট্টি রোডের বাসভবনে পুলিশ হানা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া মাহফুজুর রহমান নামে অপর এক যুবদল কর্মীকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। অপরদিকে কাউনিয়া থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি’র ৮ নেতাকর্মীকে এবং বিমানবন্দর থানা পুলিশ ৬ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের গতকাল আদালতে পাঠানো হয়। মহানগর জামায়াতের একটি সূত্র দাবি করেছে শুক্রবার রাতে পুলিশের একটি দল মহানগর জামায়াতের আমীর হেলালের বাসভবনে হানা দিয়েছিল। কিন্তু ওই সময় তিনি বাসায় না থাকায় তাকে আটক করা যায়নি। এদিকে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এমপি সরোয়ারের স্ত্রী নাসিমা সরোয়ার দাবি করেছেন- শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পুলিশের বেশ কয়েকটি দল সরোয়ারের গুলশানের বাসা ঘিরে রাখে। তারা বাসার গেটে গিয়ে সরোয়ারকে খোঁজ করে।
লোহাগড়ায় চেয়ারম্যানসহ বিএনপি’র ৪ নেতা আটক
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি জানান, নড়াইলের লোহাগড়ায় উপজেলার দিঘলিয়া ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিএনপি’র ৪ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তাদেরকে গতকাল সকালেই জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
মেহেরপুর পৌর-বিএনপি’র সহ-সভাপতি আটক
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপি’র সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত একটার দিকে শহরের কাঁসারীপাড়ার বাসভবন থেকে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। তার নামে সুনির্দিষ্ট কোন মামলা না থাকলেও নাশকতা সৃষ্টির আশঙ্কায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজুল ইসলাম। একই রাতে জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনের গাংনীর বাসভবনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশের কয়েকটি দল।
সিরাজগঞ্জে বিএনপি’র ৩ নেতা গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জে বিএনপি’র ৩ নেতাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলেন, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মকবুল হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুুল কাদের এবং সলঙ্গা থানা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল লতিফ। শুক্রবার রাতে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।