খালেদা জিয়ার কত লাশ লাগবে? শেখ হাসিনা

প্রকাশ:| বুধবার, ৪ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:২৯ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘তাঁর আর কত লাশ লাগবে? আর কত লাশ হলে তাঁর আত্মা শান্তি পাবে? অবরোধ দিয়ে তিনি ঘরে বসে সুপ খান, মুরগির রোস্ট খান; আর বলেন, আন্দোলন সফল হয়েছেন। তাদের রাজনীতি লাদেনের মতো, ভিডিও টেপ করে কর্মসূচি দেয়।’

আজ বুধবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে হত্যা ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির জন্য বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করতেই হিংসাত্মক কার্যকলাপ চালানো হচ্ছে। তবে মানুষ হত্যা করে বিরোধীদলীয় নেতা কিছুই অর্জন করতে পারবেন না। এ জন্য একদিন তাঁকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

বিএনপির কর্মসূচিতে কোনো মানুষ নেই

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের জনগণের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তারা মানুষ হত্যা করছে। জনগণের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে। যেসব রাজনীতিবিদ দেশের জন্য কাজ করেন, তাঁদের নামে বদনাম ছড়ানো হচ্ছে। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচির নামে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হচ্ছে। ট্রেনের ফিশপ্লেট খুলে দুর্ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ড্রাইভার ও যাত্রীদের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুনে পোড়ানো হচ্ছে। তাদের কর্মসূচিতে কোনো মানুষ নেই। তিনি বলেন, সত্যিকারের রাজনীতি করলে কেউ মানুষ হত্যা করে না। যারা মানুষ করছে, তারা রাজনীতিবিদ নয়, খুনি। রাজনীতির নামে তারা মানুষ খুন করছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা এভাবে মানুষ খুন করছে, তাদের হাতেনাতে ধরিয়ে দিন। ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের প্রতিরোধ করুন।’ তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, কে আগুন লাগাচ্ছে তার ছবি ছাপান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় খালেদা জিয়ার ছেলে ও তাঁর মন্ত্রী জড়িত। তাঁর ছেলে জড়িত মানে তিনি জড়িত। অথচ তিনি বলেন, আমি গ্রেনেড মেরেছি। তিনি গ্রেনেড হামলায় বিশেষজ্ঞ হতে পারেন। আমরা নই।’ তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট আমার মা-বাবা ও ভাইদের হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি উত্সব করে জন্মদিন পালন করেন। যিনি এটা করতে পারেন, কারণ তাঁর কাছে মানুষ খুন কিছুই না।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বৈঠকে ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়।