খালেদার ৭ দফার সবই ব্যক্তিস্বার্থে-

প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:০৪ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সাত দফার একটি দফাও জনগণের কল্যাণে নয়। সবই দাবিই ব্যক্তিস্বার্থে। এ কারণে তাঁর আন্দোলনে মানুষ সাড়া দেয়নি। সংসদের প্রশ্নোত্তরে আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সরকারি দলের মনিরুল ইসলামের এ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে জামায়াত-শিবির, বিএনপির বিপথগামী কিছু লোক ও সন্ত্রাসী দিয়ে নাশকতা চালাচ্ছেন। এ নাশকতা বন্ধ না হলে সরকার সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।
গত ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া নতুন নির্বাচনের দাবিতে যে সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেন, তা হলো: এক. জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে; দুই. নির্বাচন ঘোষণার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের সম্মতিতে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও বর্তমান আরপিও সংশোধন; তিন. নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর সম্মতিতে গঠিত’ নির্দলীয় সরকারের হাতে দায়িত্ব দেওয়া; চার. ভোটের তারিখ ঘোষণার পর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সারা দেশে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা; পাঁচ. নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগেই সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানোর পাশাপাশি ‘চিহ্নিত ও বিতর্কিত’ ব্যক্তিদের প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা; ছয়. সব রাজবন্দীকে মুক্তি এবং রাজনৈতিক নেতাদের নামে থাকা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহার এবং সাত. এ সরকারের সময়ে ‘বন্ধ করে দেওয়া’ সব সংবাদপত্র ও টেলিভিশন খুলে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নাশকতায় গত ৫২ দিনে ১০১ জন মারা গেছে। তাদের অধিকাংশকেই আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ১ হাজার ১৭৩টি যানবাহন ও ছয়টি লঞ্চে আগুন দেওয়া হয়েছে। ট্রেনে ২৫ দফায় নাশকতা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সাল থেকে জানুয়ারি ২০১৫ পর্যন্ত ৬৭ বিদ্যুৎ​কেন্দ্র হতে ৫ হাজার ২৫১ মেগাওয়াট ও ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ​সহ সর্বমোট ৫ হাজার ৭৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎ​ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছে।
আবদুর রহমানের (বদি) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে নির্মাণাধীন ২৮টি বিদ্যুৎ​কেন্দ্র থেকে ৬ হাজার ৯৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
জাতীয় পার্টির এম এ হান্নানের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ দেশের দারিদ্র্যসীমা ১৩ দশমকি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। ২০১০ সালে দারিদ্র্যসীমা ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বছরের মধ্যে দারিদ্র্যসীমার হার ২২ দশমকি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
প্রশ্নোত্তরপর্বের আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল পৌনে পাঁচটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।


আরোও সংবাদ