খাগড়াছড়ি সংবাদ

প্রকাশ:| রবিবার, ২৭ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়িতে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
খাগড়াছড়ি:- ১৮ দলের ডাকা টানা ৬০ ঘন্টা হরতালের প্রথম দিনে খাগড়াছড়িতে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যদিয়ে হরতাল পালিত হয়েছে। জেলার মহালছড়ি উপজেলায় হরতালের পে বিপে মিছিল ও পিকেটিং করার সময় আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৭জন ও বিএনপি’র ৬নেতা আহত হয়েছে বলে জানাগেছে।খাগড়াছড়ি২৭
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, হরতাল সমর্থকরা উপজেলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের অফিস ও আওয়ামী লীগের দুই নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে। পরে হরতাল বিরোধীরা বিএনপি’র সভাপতির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এসময় পুলিশ ও হরতাল সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এঘটনায় উভয় দলের ৬জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে গ্রেফতার করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে।
মহালছড়ি থানার ওসি সেমায়ন কবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল অব্যহত রয়েছে।
এদিকে রবিবার সকালে হরতালের সমর্থনে পিকিটিং করার সময় রামগড় উপজেলা হাফছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী মোঃ শফি ও পরিবারের ৩সদস্য’কে পিটিয়ে আহত করে ক্ষমতাশীল দলের কর্মীরা। এর প্রতিবাদে বিকেল ৩টায় জালিয়াপাড়া বিএনপি’র কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধাঁয় তা পন্ড হয়ে গেলেও সন্ধ্যায় তৈকর্মা এলাকায় হরতালকারীরা একটি জীপগাড়ি ভাংচুর করে। এসময় পিকেটাররা গাড়ীর চালক ও সেচ্ছাসেবক দলের গুইমারা থানার নেতা উত্তম(৩০) পিটিয়ে আহত করে এবং তার সহকর্মী মোঃ হাসেম (১৭) নামের এক ব্যাক্তি’কে মাথা পাঠিয়ে দেয়। এঘটনার জের ধরে সন্ধ্যা ৭টায় ঘটনাস্থলের পাশ্ববর্তী এলাকা বড়পিলাকে মোঃ নুর নবী (২২) নামের একব্যক্তি’কে পিটিয়ে আহত করে হরতাল বিরোধীরা। তবে আহত মোঃ নুর নবী ছাত্রদলের কর্মী বলে দাবী করে গুইমারা থানা ছাত্রদল।
অন্যদিকে জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় রাজনৈতিক কর্মসুচীকে গৃহবন্দি করলো আওয়ামীলীগ-বিএনপি‘র স্থানীয় শীর্ষ নেতারা। রোববার দুপুরে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে শাসকদল আওয়ামীলীগ ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপি‘র স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে দুই দলের তৃণমুল নেতারা এ সিদ্ধান্তে ােভ প্রকাশ করে বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ নেতাদের নিজেদের স্বার্থের কারণেরই করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতি তৃণমুলের কোন সমর্থন নেই।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহে আলম এর সভাপতিত্বে দীর্ঘ সোয়া দুই ঘন্টার বৈঠকে মাটিরাঙ্গায় রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল ইউনিটে দলীয় কার্যালয় কেন্দ্রীক দলীয় কর্মসুচী পালনের বিষয়ে একমত হন উভয় দলের নেতারা।
এছাড়াও খাগড়াছড়ি পৌর শহরে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। জেলা-বিএনপি, পৌর বিএনপিসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবিদল, বাস্তহারাদল, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম ও মহিলাদলের নেতাকর্মী মিছিলে অংশ গ্রহণ করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদণি শেষে জেলা বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে এসে আলোচনা সভায় মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।


মহালছড়িতে পিকেটিং, বিএনপি-আওয়ামীলীগ সংঘর্ষ, ভাংচুরের মধ্য দিয়ে শেষ

১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘন্টার হরতালের ১ম দিনে মহালছড়িতে পিকেটিং, বিএনপি-আওয়ামীলীগ সংঘর্ষ, ভাংচুরের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে উভয় পক্ষের ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ৮ জন বিএনপির পক্ষ থেকে ৪ জন আহত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানিয়েছে। আওয়ামীলীগের গুরতর আহত ৩ জনকে প্রথমে মহালছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসামহালছড়িতে পিকেটিং,  বিএনপি-আওয়ামীলীগ সংঘর্ষ, ভাংচুরের মধ্য দিয়ে শেষ দিয়ে অবস্থার অবনতি দেখে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আহতরা হলেন, আওয়ামীলীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার শীল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দীপন ধর, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মন্টু মিয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আজাদ ও ব্যবসায়ী কাজল চৌধুরী। বিএনপির দলের ৪জন আহতদের নাম জানা যায়নি। আওয়ামীলীগের অফিসে হামলা ও ভাংচুর, দোকানপাট ভাংচুর ও শ্রী শ্রী দক্ষিনা কালী মন্দিরে হামলার ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ,কে,এম হুমায়ুন কবির। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকাল ৪টার দিকে অর্তকিত ভাবে চর্তুদিক থেকে বিএনপি কর্মীরা এসে আওয়ামীলীগ অফিসে হামলা ও ভাংচুর, ৪টি দোকানে হামলা ও ভাংচুর, শ্রী শ্রী দক্ষিণা কালী মন্দিরে ইটপাটকেল ছুড়েছে। এদিকে উপজেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক জহিরুল হক হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, শান্তিপূর্ণ হরতালের সমর্থনে বিএনপির মিছিলে আওয়ামীলীগ কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালালে এ ঘটনার সুত্রপাত হয়। আওয়ামীলীগ নিজেরা ভাংচুর করে বিএনপিকে ফাঁসানোর জন্য এ নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।
তাৎক্ষনিক নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এখন পরিস্থিতি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেনাবাহিনী, এপি ব্যাটালিয়ন ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এব্যাপারে জানতে মহালছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ সেমায়েত কবিরকে মুঠোফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবেনা
মাটিরাঙ্গা-খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী বলেছেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হতে দেয়া হবেনা। খালেদা জিয়ার রূপরেখা মেনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের দাবী আদায়ে যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে ওয়াদুদ ভুইয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহবান জানান তিনি।
তিনি আজ বিকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল’র ৩৫ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো: বদিউল আলম এর সভাপতিত্বে ও পৌর যুবদলের সাধারন সম্পাদ খোন্দকার জয়নাল আবেদীন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মো: নুরুল আলম রানা, মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: তাজুল ইসলাম তাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: তৈয়ব আলী কোম্পানী, পৌর যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও প্যানেল মেয়র মো: নুরুল আমিন নুরু।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম চৌধুরী, পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: বাদশা মিয়া, সহ-দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ উল্যাহ, মাটিরাঙ্গা পৌর যুবদলের সভাপতি মো: আবুল কালাম আযাদ, মাটিরাঙ্গা উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক মো: হারুন অর রশীদ, সিনি: সহ-সভাপতি মো: জয়নাল আবেদীন সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ফারুক হোসেন, পৌর যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক মো: শাহজালাল কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: ইব্রাহিম পাটোয়ারী, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মো: জিয়াউর রহমান, সদর ওয়ার্ড যুবদলের মো: আবদুল হান্নান, মো: বাবুল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে যুবদলের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বেলা তিনটার দিকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ধলিয়া ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। দিবসটি পালন উপলে সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশ যখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে তখন যুবদল তাদের ৩৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করছে। প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলকে ওয়াদুদ ভুইয়ার নেতৃত্বে অবিচল থেকে যেকোন কর্মসুচী রাজপথে থাকার আহবান জানান বক্তারা।
আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদল, তাতীদল, মৎস্যজীবিদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনাসভা শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী আমন্ত্রিত অতিথি ও যুবদলের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন।


আরোও সংবাদ