খাগড়াছড়ি সংবাদ

প্রকাশ:| সোমবার, ২৮ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৯:১৭ অপরাহ্ণ

মহালছড়ি ও মানিকছড়ি থানায় পৃথক ৩টি মামলা,বিএনপি’র ৬শ নেতা-কর্মী’কে আসামী,আটক ২০
নির্দলীয় নিরপে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবীতে টানা ৬০ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনে খাগড়াছড়ি’র বিভিন্ন উপজেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের হরতাল চলাকালে জিলা-উপজেলার কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হরতালের প্রথম দিনে জেলার মানিকছড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করে জেলা হাজতে প্রেরণ করেছে।
এছাড়াও মহালছড়ি উপজেলা বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ অফিসে হামলা ও নেতাকর্মীদের আহত করার ঘটনায় প্রায় ৩শ নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় বিএনপি ও ছাত্রদলের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অনেকেই আত্মগোপনে রয়েছে বলে জানাগেছে।
মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন বাবু অভিযোগ করে বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ যাকে যেখানে পাচ্ছে গণহারে গ্রেফতার করছে।
অন্যদিকে মানিকছড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে। পুরো উপজেলায় ১৪৪ ধারা অব্যাহত থাকলে ও থেমে-থেমে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছেই।
জানাগেছে, হরতালের প্রথম দিনে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় মহামুনি থেকে বিএনপির একটি বিােভ মিছিল নিয়ে বাজারে আসার সময় আমতল এলাকায় আসলে মিছিলে কে বা কারা ঢিল মারে। এতে নেতা-কর্মী ও সর্মথকরা উত্তেজিত হয়ে ব্যাপক ভাংচুর শুরু করে। এ সময় ৪টি মোটর সাইকেল ভাংচুর ১টিতে আগুন দেওয়া হয়। এতে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজীদা শরমিন রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলা সর্বত্র ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে পুলিশ বাজার ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৯ জন’কে আটক করে।
এ ঘটনায় রাতে ভাংচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মানিকছড়ি থানায় ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা ২৫০-৩০০ জনকে আসামী করে ২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ৪। গ্রেপ্তারকৃত ৯ জনকে উভয় মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ তাদের আদালতে প্রেরণ করে।
তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সব ধরনের সহিংসতা এড়াতে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
পিকেটিং
খাগড়াছড়ি’র মহালছড়িতে ১৮ দলীয় জোটের টানা ৬০ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন জায়গায় পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থকেরা। তবে কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অফিস আদালত খোলা থাকলেও সদরের এলাকার দোকান-পাট বেশীর বন্ধ ছিল। দুরপাল্লার কিংবা স্থানীয় কোন যানবাহন চলাচল করেনি।
সারাদিন থমথমে পরিস্থিতি । সহিংস ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাবণী চাকমা জানান, পরিস্থিতি একটু থমথমে তাই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। উশৃংখলকারী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পরিস্থিতি আইন শৃংখলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
মহালছড়িতে আওয়ামীলীগের অফিস ভাংচুর মামলা, গ্রেফতার ৪
মহালছড়িতে গত ২৭ অক্টোবর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘন্টার হরতালের ১ম দিনে বিএনপি-আওয়ামীলীগ সংঘর্ষের ঘটনা ও আওয়ামীলীগ অফিস ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার শীল বাদী হয়ে ৭৯জনকে নাম উল্লেখ পূর্বক এবং অজ্ঞাতনামা ১ শ’ থেকে দেড়শ জনকে আসামী করে মহালছড়ি থানায় মামলা হয়েছে। উক্ত মামলার এজাহার ভুক্ত ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার কৃতরা হলেন, আবুল হোসেন পিতা- আবদুর রশিদ, সহিদ উল্যাহ পিতা-আবদুল মোতালেব, মো: ওমর আলী পিতা মৃত আবুল কাশেম, মো: বশির পিতা- আবুল হোসেন লিডার। গ্রেফতার কৃতরা সবাই মহালছড়ি উপজেলা সদর এলাকার। যদিও উপজেলা বিএনপি দলীয় সূত্র থেকে ১৫জন নিরীহ ব্যক্তিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে মহালছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ সেমায়ুন কবির জানান, ১৫ জন আসামী গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যাা। তবে, ৭ জন ব্যক্তিকে সন্দেহ জনক ভাবে ধরে আনা হলেও এর মধ্যে ৪ জন এজাহার ভুক্ত আসামী। বাকী ৩ জনকে তদন্ত করে থানায় কোন অভিযোগ পাওয়া না গেলে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ৪জন আসামী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীদের মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।