খাগড়াছড়িতে হরতাল

প্রকাশ:| বুধবার, ৬ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার লোগাং এ হরতাল চলাকালে পিকেটিং ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে এক শিশুসহ উভয়পক্ষের ছয় জন আহত হয়েছেন। পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে মোটরসাইকেল চলাচলে বাধা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লোগাং বাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংঘর্ষে আহত হয়েছেন থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সহ-সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন,বিএনপি নেতা কবীর হোসেন (২৮), যুবদল নেতা করিম (৪০), যুবদল নেতা হারুণ (৩৫), আরিফ (২২) ও বিএনপি নেতা সাহেব মেম্বারের ছেলে সালাহউদ্দিন (৮)। এর মধ্যে তিন জনকে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ যৌথভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
পানছড়ি থানার ওসি আবদুস সামাদ বলেন, সংঘর্ষের বিষয়ে খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

খাগড়াছড়ি জেলা
বিএনপির ডাকা দেশব্যাপী টানা ৬০ ঘন্টার হরতালের শেষ (৩য়) দিনে হরতালের সমর্থনে মিছিলে পুলিশের বাঁধার মধ্য দিয়ে রাস্তা অবরোধ ও বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং আর খন্ড খন্ড মিছিল দিয়ে শেষ হয়েছে হরতাল। শেষে দিনের হরতাল চলাকালে ঘটেনী বড় ধরনের সহিংসতা।
বুধবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে মিলিত হতে থাকে দলীয় নেতাকর্মীরা। কয়েক দফায় মিছিলের পর বেলা ১০টার জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে হরতালের পক্ষে মিছিল নিয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শাপলা চত্ত্বর অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ বাঁধা দেয়। পরে মিছিল কারীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে হরতাল পালন কারীরা। এক পর্যায়ে মিছিলটি দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে নেতাকর্মীরা সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
এদিকে হরতাল ও আগামী ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে সব ধরনের বিশৃংখলা রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সর্বোচ্চ শর্তক অবস্থায় রাখা হয়েছে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে।

খাগড়াছড়ি জেলা

মহালছড়িতে টান টান উত্তেজনা ও আতংক এবং হরতাল
খাগড়াছড়ি’র মহালছড়িতে টান টান উত্তেজনা ও আতংক এবং হরতাল সমর্থকদের কঠোর পিকেটিং এর মধ্য দিয়ে ১৮ দলের ডাকা ৬০ ঘন্টার হরতালের ৩য় দিন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো। হরতাল সমর্থকেরা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে কঠোরভাবে পিকেটিং করেছে। অফিস আদালত খোলা ছিল তবে দুরপাল্লার কিংবা স্থানীয় কোন যানবাহন চলাচল করেনি। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। যদিও সাধারণ জনগণের মনে টান টান উত্তেজনা ও আতংক বিরাজ করছিল। হরতালের ১ম দিন আওয়ামীলীগ-বিএনপি মারমূখী অবস্থানে থাকায় সংঘর্ষ এড়াতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাবনী চাকমা উভয় পক্ষের নেতাদের বৈঠকে ডেকে আইন শৃংখলা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালনের পরামর্শ দেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাবনী চাকমা’র এই উদ্যেগকে উভয়পক্ষ স্বাগত জানিয়ে উভয়পক্ষ মারমূখী অবস্থান থেকে সরে আসে। সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা আতংক কাটলেও শহরের অধিকাংশ দোকান পাট বন্ধ ছিল। উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হরতাল সফল হয়েছে। স্বত:স্ফুর্তভাবে হরতালে সমর্থন দেওয়ায় মহালছড়ি উপজেলা বাসী এবং নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘন্টা হরতাললক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘন্টা হরতাল
কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৬০ ঘন্টা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। কোথাও কোন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। ৬০ ঘন্টা হরতালে দ্বিতীয় দিন ছাত্রদল মিছিল বের করে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ দাঁড়ায় নি। কোথাও অনাকাংখিত ঘটনার খবর পাওয়া যায় নি। হরতালের শেষ দিন আগের রাতে লক্ষ্মীছড়ি-ফটিকছড়ি সড়কে ডি.পি পাড়া এলাকায় পণ্যবাহী জীপ বাজারে আসতে চাইলে হরতাল সর্মনকারীরা আটকে দেয়। লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়ক, লক্ষ্মীছড়ি-ফটিকছড়ি সড়কেও ভারি কোন যানবাহন চলাচলের খবর পাওয়া যায় নি। শতস্ফুর্ত হরতাল পালিত হওয়ায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: ফোরকান হাওলাদার ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মোবারক হোসেন সর্বস্তরের জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিও মেনে নিয়ে অবিলম্বে নির্বাচন দেয়ারও আহবান জানান এক প্রেসবার্তায়।