খাগড়াছড়িতে সংবাদপত্রের এজেন্টকে হুমকি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:১৭ অপরাহ্ণ

 

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
জেলার প্রবীণ ও একমাত্র সংবাদপত্রের এজেন্ট রতন কুমার দে কে জাতীয় এবং আঞ্চলিক বেশ কিছু পত্রিকা বিক্রী না করতে উড়ো চিঠি দিয়ে হুমকি প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় এ অভিযোগের কথা জানান রতন কুমার দে।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে দোকান খোলার পর চারটি খাম দেখে দোকান স্টাফরা। খামগুলোতে একই লেখার বেনামি চিঠি ছিল। চিঠিতে দৈনিক প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, যুগান্তর, ইত্তেফাক, সুপ্রভাত বাংলাদেশসহ বেশ কিছু পত্রিকায় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে দাবী করে এসব পত্রিকা খাগড়াছড়িতে না আনতে ও বিক্রী না করতে হুমকি প্রদান করা হয়।

করা হলে এর দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে বলেও হুশিঁয়ারী দেয়া হয় চিঠিতে। আমি তাৎক্ষনিভাবে বিষয়টি জানাতে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো: মজিদ আলীর সাথে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি জানাই। এসময় পুলিশ সুপারের পরামর্শ অনুযায়ী সদর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করি ।

খাগড়াছড়ি সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ তারেক মো: আব্দুল হান্নান জানান, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে দেখে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় বাইছে। সাংবাদিক প্রদীপ চৌধুরী লিখেছেন,খাগড়াছড়িতে বেশ কয়েকটি পত্রিকা বিক্রির উপর নিষেধজ্ঞা দিয়ে উড়োচিঠি। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বনামধন্য সংবাপত্রসেবী রতন কুমার দে’ এইমাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিশ্চয়,সামনে টেলিভিশন বন্ধের খবরও আসতে পারে। প্রবীন সাংবাদিক ও দৈনিক ইত্তেফাকের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি তরুন কুমার ভট্টচার্য়্য লিখেছেন, মগের মুল্লুকে তুগলকি শাসন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের লজ্জার মাথা খেয়েছে—-। জুপিটার চাকমা জুপ লিখেছেন,সম্ভবত,খাগড়াছড়ি দ্বিতীয় লক্ষ্মীপর হতে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর চেঙ্গী নদীতে বালু তোলার ছবি তুলতে গেলে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের অনুসারী ক্যাডার কসাই দিদারসহ কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে পৌরভবনে সচিবের কক্ষে নীবর চৌধুরীকে নিজ হাতেই মেয়র রফিকুল আলম মারধর করেন।

এর প্রতিবাদে ২০ ডিসেম্বর শাপলা চত্বরে সাংবাদিকরা মানববন্ধন পালনকালে মেয়রের অনুগত কসাই দিদারের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী সাংবাদিকদের মানববন্ধনে সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং কর্মসূচি পালনকারী সাংবাদিকদেরকে ধরে ধরে জবাই করার হুমকি দিলে। ওইদিনই জেলায় কর্মরত ৩৫ জন সাংবাদিক প্রাণের নিশ্চয়তা চেয়ে থানায় মেয়র রফিকুল আলম ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সদর থানায় জিডি করেন । নীরব চৌধুরী নিজেও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন। যেটি আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তদন্তধীন।

এ ধরণের উড়ো চিঠির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির পেশাজীবী সাংবাদিকরা।


আরোও সংবাদ