কয়েক যুগ ধরে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত উত্তর ধুরুংবাসী

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

লিটন কুতুবী।
কুতুবদিয়া:

এক যুগেরও অধিক সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি আকবরবলী জেটি নির্মাণ কাজ। অবশেষে ভেঙ্গে ফেলা হবে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেটিটি। একদিনের জন্যও জনগণের উপকারে আসেনি এ জেটিটি। বর্তমানে জেটির পিলার ও জেটির ছাঁদ ভেঙে পড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেটি ভেঙে ফেরার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের কুতুবদিয়া উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে। কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন বাসীর প্রত্যশা পূরণে ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপের আকবরবলী ঘাটে (নৌযানে) যাত্রী উঠানামার সুবিধার্থে বিগত ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষের অর্থ ব্যয়ে জেটি নির্মাণের মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ এক যুগের বেশী সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও অধ্যবদি পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি। যার ফলে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত মানুষ যুগের পর যুগ ধরে যাত্রী দূর্ভোগ শেষ হচ্ছে না। সে সময় থেকে নির্মিত জেটি এ পর্যন্ত এলাকাবাসীর কোন উপকারে আসেনি। কুতুবদিয়া উপকূলের উত্তর ধুরুং আকবরবলী জেটিঘাট দিয়ে চ্যানেল পার হয়ে বাশঁখালী উপকূল দিয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শহরে আসা যাওয়ার একমাত্র পথ।
উত্তর ধুরুং ইউপির চেয়ারম্যান আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধূরী জানান, কুতুবদিয়া দ্বীপের নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য বিগত ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরের জনদূর্ভোগ নিরসনের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষ অর্ধ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন জেটি নির্মানের জন্য। কিন্তু বরাদ্দকৃত টাকা অপ্রতুল থাকায় তৎসময়ে জেটি নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেনি কর্র্তপক্ষ। ফলে প্রাক্কলন অনুযায়ী জেটির নির্মাণ কাজ অসর্ম্পূণ থেকে যায়।
কুতুবদিয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডির) মুহাম্মদ মহসিন জানান, আকবরবলী জেটি নিমার্ণের জন্য ২০০৩ সনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দপ্তর থেকে ১৬৪ মিটার র্দীঘ জেটি নিমার্নের জন্য প্রাক্কলন তৈরী করা হয়েছিল। তখনই প্রাক্কলিত জেটিটি নির্মাণ করার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯০ লাখ টাকা। কিন্তু ২০০৪ সনে এ জেটি নিমার্ণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া যায় ৫০ লাখ টাকা। প্রক্কলিত প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ কম পাওয়া গেলে জেটি নির্মাণের আয়তন ছোট করে ৯০ মিটার কাজ করতে হয়েছে। জেটির বাকি অংশের কাজ শেষ করার জন্য কর্র্র্তৃপক্ষের নিকট ৮০ লাখ বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা হলে কর্তৃপক্ষ ঐ ভাঙ্গা জেটি মেরামত না করে ঐ এলাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুনভাবে জেটি নির্মানের জন্য প্রাক্কলন তৈরী করে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ,টি,এম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, আকবরবলী ঘাটে জেটি নিমার্ণের সময় প্রাক্কলন অপরিকল্পিত ছিল। প্রাক্কলন তৈরী করার সময় বরাদ্দের পরিমান কম হলেও বেড়িবাঁধ থেকে জেটিটি নিমার্ণ কাজ শুরু কর্তৃপক্ষ। প্রক্কলনের মধ্যোংশে জেটি নির্মাণ কাজ শুরু করলে বরাদ্দের অর্থ শেষ হয়ে যায়। পূনরায় জেটি বাকি নিমার্ণ কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দ আর পাওয়া যায়নি। পারাপারে যাত্রীরা জেটি ব্যবহারে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে দূভোর্গ পোহাচ্ছে। সে সময়ে অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত জেটিটি যাত্রীদের কোন উপকারে আসেনি।