কয়লা বিদ্যুৎ নয়, অন্য শিল্প স্থাপন করুন বাঁশখালিবাসী সহযোগিতা করবে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ

বাঁশখালি..বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে ইপিজেডসহ শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আহবান জানিয়েছেন ‘বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির আহবায়ক লিয়াকত আলী।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার হাদিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ি ‘বসতভিটা ও গোরস্থান রক্ষা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে এ আহবান জানান তিনি।

লিয়াকত আলী তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। কিন্তু এটি কোনো দলের আন্দোলন নয়। জনগণের আন্দোলন।

বাঁশখালীর গণ্ডামারায় পরিবেশ বিধ্বংসী কোনো প্রকল্প জনগণ হতে দিবে না। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) জনগণের পক্ষে অবস্থান নিবেন। কোনো রাঘববোয়ালের পক্ষ নিবেন না। গণ্ডামারাবাসী দেশের উন্নয়নের বিপক্ষে নয়। তাই এখানে বিদ্যুৎপ্রকল্পটি বাতিল করে ইপিজেডসহ শিল্পকারখানা স্থাপন করুন।

বিদ্যুৎপ্রকল্পটির উদ্যেক্তা এস আলম গ্রুপকে উদ্দেশ্যে করে লিয়াকত বলেন, এস আলম প্রকল্পটি বাতিল করে গণ্ডামারায় যদি অন্য কোনো কারখানা করেন, তাহলে এলাকার লোকজন দুইমাস কোনো টাকা ছাড়া কাজ করে দিবে।

লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, খনিজ সম্পদ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য হাসান মারুফ রুমী, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব সুমন, স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকারিয়া, হেলাল উদ্দিন সিকদার ও শফকত হোসেন প্রমুখ।

কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন নিয়ে ৪ এপ্রিল প্রকল্পবিরোধী স্থানীয় চারজন লোক নিহত হন। এরপর প্রকল্পবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। গোরস্থান রক্ষা কমিটি ও ‘ গণ্ডামার ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলন’ নামের দুটি সংগঠন আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু আজকের এ সমাবেশে ইউনিয়ন বাঁচাও আন্দোলন কমিটির কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

লিয়াকত আলী তার বক্তব্যে গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের বলেন, গণ্ডা মারাবাসী কী চান তার সঠিক প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গেলে ৪ এপ্রিল চারজন লোক নিহত হতেন না। আপনারা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে সঠিক প্রতিবেদন পাঠান। সামনে কিছু ঘটলে আপনার রক্ষা পাবেন না।

কোনো চাপ প্রয়োগ ও আন্দোলন থেকে পিছু হঠতে হুমকি ধমকি ও ফোন না করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেন লিয়াকত আলী।

গণ্ডামারায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকলে আন্দোলনও বন্ধ থাকবে বলে লিয়াকত সমাবেশে জানান। তিনি বলেন, কাজ শুরু করলে কঠোর কর্মসূচি আসবে। তবে এলাকায় প্রকল্পটি বাতিলের দাবিতে মিছিল সমাবেশ অব্যাহত থাকবে। আগামী ১৫ মে পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়া ও বাঁশখালীতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য হাসান রুমী বলেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে খুনের বিচার ও খুনীদের গ্রেফতার করতে হবে। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুরোধ জানান।

তেল, গ্যাস রক্ষা কমিটির আরেক সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব সুমন বলেন, উন্নত বিশ্বে পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনা করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প করা হচ্ছেনা। পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনা করে গণ্ডামারায় সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে এস আলম গ্রুপকে অনুরোধ জানান।

দুপুরের পর থেকে গণ্ডামারার পাশ্ববর্তী শেখের খীল, সরল, চাম্বল ও শিলকুপ ইউনিয়ন থেকে স্থানীয় লোকজন সমাবেশস্থলে মিছিল সহকারে শ্লোগান দিয়ে যোগ দিতে থাকেন।