কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৭ এপ্রিল , ২০১৬ সময় ১১:২১ অপরাহ্ণ

কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। ফলে বৈশাখ নিয়ে রয়েছে তাদেরও আয়োজন।চৈত্রের রূঢ়-রুক্ষ রূপ আর মনের জরাজীর্ণ ক্লেদ এক লহমায় উড়িয়ে নেবে চিরতরুণ বৈশাখ। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর আবেগের আতিশয্যে ভাসবে বাঙালি। গাইবে রবি ঠাকুরের অমিয় বাণী ও সুরের ‘এসো হে বৈশাখ’। এই গানের সুরে সুর মিলিয়ে বৈশাখের শঙ্খধ্বনিতে জেগে উঠবে গ্রাম-গঞ্জ-শহর-বন্দর। বাঙালি উৎসবমুখর জাতি। তবে পহেলা বৈশাখের উৎসবের আমেজ ও প্রেক্ষাপট একটু আলাদা। এই দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উৎসবের আনন্দে ভেসে যায় মানুষ। এই দিনেই সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায় বাঙালির চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক রূপ। আর তাই পান্তা-ইলিশের ঘ্রাণ এবং উৎসবের জোয়ারে ভেসে যেতে কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ।

বৈশাখকে বরণ করে নিতে এখন জোর প্রস্তুতি চলছে ইট-কাঠ-পাথরের শহরেও। তবে রাজধানীতে মূল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। নববর্ষের প্রথম প্রহরে চারুকলা অনুষদ থেকে বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। তিন মাস ধরে দেশব্যাপী বাজছে অবরোধের দামামা। সেটাই এবার প্রতীকী আকারে মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফুটে উঠবে। এবারকার বর্ষবরণ আয়োজনের মূল সস্নোগান_ ‘অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে’।
বৈশাখ
চারুকলা শিক্ষার্থীরা কেউ ছবি অাঁকছেন, কেউ মুখোশ গড়ছেন, কেউ বা হাঁড়ি-পাতিলের ওপর কারুকাজ করছেন। সেগুলো আবার টাঙানো হচ্ছে দেয়ালে। গত ২৫ মার্চ থেকেই চারুকলার শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বাঁশের চাটাই বেঁধে তৈরি বাঘ, হাঁস, বিড়াল, শখের হাড়ি, বাঘ এবং ছোট-বড় মাঝারি পাখিসহ অসাধারণ সব মোটিফ নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় যাবেন সবাই। এসব বিক্রিও হচ্ছে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুরনো শিক্ষার্থীরা। তাদেরই একজন জানান, ‘অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে’ সস্নোগানকে সামনে রেখেই চলছে তাদের প্রস্তুতি। প্রতি বছরের মতো এবারো মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রধান একটি স্থাপনাশিল্প থাকবে। সেটা এমন_ একটি হাত মানুষ-অবয়বের গলা চিপে ধরে আছে। বিশাল উচ্চতার এই স্থাপনাশিল্পের মধ্য দিয়েই চলমান পরিস্থিতিকে বোঝানো হবে। এবারকার বৈশাখ উদ্যাপনে থাকবে প্রতিবাদের ভাষা। আর তাই রঙের ঔজ্জ্বল্যে ঝলসে উঠবে মোটিফগুলো। এছাড়াও থাকছে বিভিন্ন থিম নিয়ে ১০টি স্থাপনাশিল্প। এগুলো হলো_ টেপা পুতুল, মাছ, কাকাতুয়া, দুটি পায়রা, দুটি ছাগল, ঘোড়া এবং হাতি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সফল করতে প্রতি বছর আয়োজকদের মোটা অঙ্কের টাকা গুনতে হয়। তবু তারা কোনো কোম্পানির কাছ থেকে স্পন্সর নেন না। প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের জন্য চারুকলা প্রাঙ্গণে চলছে উন্মুক্ত শিল্পকর্ম প্রদর্শনী।