ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা প্রয়োজন

প্রকাশ:| শনিবার, ১৬ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:২৯ অপরাহ্ণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি>.so..

বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা, দারিদ্রতা, জঙ্গীবাদ মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হলে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুেদ্ধর সঠিক ইতিহাস জানা প্রয়োজন। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১ কোটি বর্তমান প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনেছে বিভিন্ন ভাবে। তার মধ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেখানে প্রকতৃ সত্যটি সব সময় সঠিক ভাবে ফুটে উঠেনি। তাই এই ১৩ কোটি বর্তমান প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকার ইতিহাস তুলে ধরা না যায় তাহলে তারা জাতির ক্রানানত লগ্নে সঠিক দায়িত্বপালন করতে সক্ষম হবে না। তবে স্বার্থান্বেষী মহলের ষডযন্ত্র, বিভক্তি ও বিভিন্ন কারনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষয় হয়েছে আর স্বাধীনতা পরাজিত শক্তিগুলি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা কারনে শক্তি ও সামর্থে বলীয়ান হয়েছে। অন্যদিকে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ও প্রগতির কথা এবং দরিদ্র মানুষের অধিকারের কথা তারা সব সরকারের আমলে নানা বঞ্চনা ও বিঢ়ম্বনার শিকার। স্বাধনিতাত্তোর সময়ে যুদ্ধবিধ্বংস্ত দেশ পুর্নগঠনে সরকারের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানক রূপ দিতে দেশে এনজিও কর্মকান্ড শুরু হলেও এই মানবতাবাদী কার্যক্রম ক্রমশ বানিজ্যিকরণের কারনে এটি সত্যিকারের লক্ষ্য অর্জনে সফলতা দেখাতে না পেরে ভিন্ন খাতে প্রভাহিত হয়েছে। ১৬ নভেম্বর নগরীর সিএসডিএফ মিলনায়তনে জাতীয় সঞ্চালন পরিষদ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে “মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানি ও এর চেতনায় দেশ গড়ি” শীর্ষক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষন কর্মশালায় বিভিন্ন বক্তাগন উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করা হয়।

জাতীয় সঞ্চালন পরিষদের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং জাতীয় সঞ্চালন পরিষদ চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর নগর সম্পাদক এম নাসিরুল হক, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লকিয়ত উল্লাহ। সহায়ক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রশিকার এইচআরডিসির প্রশিক্ষক শুভংকর দাস। আলোচনায় অংশনেন ইলমার প্রধান নির্বাহী নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, প্রশিকার বিভাগীয় সমন্বয়কারী অজয় মিত্র শংকু, উপকারের নির্বাহী পরিচালক তপন কুমার পালিত, কর্মনীড়ের নির্বাহী পরিচালক শাহানা বেগম, আলোডনের কামাল হোসেন সিকদার, তাড়না ট্রাস্টের সোলায়মান, নির্মল ফাউন্ডেশনের নুরুল আবচার, বিবিএফ এর সোহেল উদ দোজা, প্রশিকার দেলুয়ার হোসেন, পিসিএর বাবুল চৌধুরী, সুবজের যাত্রার সায়েরা বেগম, শৈলীর নাসির উদ্দীন অনিক, স্বীকৃতির পারভীন আক্তার, ইশিকা ফাউন্ডেশনের নাসিমা আলম, সুচনার শাহীন আক্তার বিউটি, অন্বেষার আবুল কাসেম, এলবিআরপির নাসিম হাসান বাবুল প্রমুখ।

কর্মশালায় বক্তাগন অবিলম্বে দেশে অধিকার ভিত্তিক, অলাভজনক ও বানিজ্যিক ধারার এনজিওগুলির মাঝে পৃথকীকরণ করা প্রয়োজন। যাতে করে সাধারন জনগন বানিজ্যিক ধারার প্রতিষ্ঠানগুলির বিষয়ে সাধারন জনগনের সুস্পষ্ঠ ধারনা পায়। কারন দেশের ২/১টি বড় এনজিওর সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব, একছত্র বি¯তৃতি, বাংলাদেশে এনজিও সেক্টরে অসম প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের ব্যাপক প্রসারের কারনে সত্যিকার অর্থে মানবতাবাদী কর্মকান্ডে এনজিওর অবদান পুরোপুরি ভুলন্টিত হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারী ও দাতা সংস্থার তহবিল পেতে আমলা ও কনসালটেন্টস গ্রুপকে হাত করে অবৈধ ভাবে তহবিল ভাগানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা, একশ্রেনীর এনজিওগুলির সামাজিক উন্নয়নের চেয়ে ব্যবসার বিকাশে মনোনিবেশ করেছে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক, বহুজাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নে বিভিন্ন প্রকল্পে এনজিও নিয়োগে বিডিং এর নামে ক্যান্সার প্রতিরোধ প্রকল্পে কনস্ট্রাকশন কোম্পানীকে, পুষ্ঠি প্রকল্পে স্টেশনারীজ এর দোকানের মালিককে এনজিও নিয়োগ, প্রকল্পে নিয়োগ পেতে ৩০-৪০% পর্যন্ত ঘুষ প্রথা চালু, সামাজিক ব্যবসার নামে এনজিওদের মানবতাবাদী কর্মকান্ডে বানিজ্যিকীকরণে স্বার্থান্বেষী মহলের অপচেষ্ঠার কারনে তৃনমুল মানুষের ক্ষমতায়ন ও অধিকারের কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক অগ্রগতি, দারিদ্রতা বিমোচন কর্মকান্ড ব্যাহত হচ্ছে।

বক্তাগন অভিযোগ করে বলেন বহুজাতিক দাতা সংস্থা ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠি গুলো তাদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবসা ভিত্তিক ধারাকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে অধিকার ভিত্তিক ধারাকে স্তব্ধ করার জন্য বিভিন্ন ষডযন্ত্রে লিপ্ত। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠা বিভিন্ন স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগ রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। যদি এ ধারা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আর কোন সামাজিক উদ্যোগ বি¯তৃতি হবে না। তাই স্থানীয় সামাজিক উদ্যোগের প্রসারে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবী জানান। আর এ কারনে তৃণমূলে অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্য সরকার বর্গাচাষী ঋন, খাস জমি বিতরন ইত্যাদি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনীর কর্মসুচি গ্রহন করলেও কিছু সুবিধাবাদীদের কারনে এর সুফল জনগন পাচ্ছে না। একটি মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট তা দখল করে নিচ্ছে। এ কাজে অধিকার ভিত্তিক ধারার প্রতিষ্ঠানগুলিকে কাজে লাগাতে পারলেই প্রকৃত দরিদ্র জনগন উপকৃত হবে বলে সভায় মতপ্রকাশ করা হয়।

কর্মশালায় বক্তাগন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহনে দুর্বলতার কারনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী গুটিকয়েক সুযোগ সন্ধানী সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাগুলি হাতিয়ে নিয়ে সরকারকে বিপর্যস্ত করছে, আর সরকারের দীর্ঘদিনের সহযোগী সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি গুলির সাথে দুরত্ব সৃষ্ঠি করছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন থেকে সরকার দূরে সরে যাচ্ছে। এ সুবিধাবাদী চক্রের ছত্রছায়ায় দেশে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদী গোষ্টি ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিকাশ সৃদঢ হয়। এ অবস্থার উত্তরনের জন্য ১৩ কোটি নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে এবং এর চেতনায় দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।


আরোও সংবাদ