ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| সোমবার, ২৬ আগস্ট , ২০১৩ সময় ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

hasina pm6প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। স্থানীয় সরকারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, তার সরকার রাজনৈতিক নয়, বরং সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করতেই ক্ষমতার এই বিকেন্দ্রীকরন করা হবে। আজ সোমবার গণভবনে জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান মোতাবেকই আগামী নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোন দুর্বলতা নেই। আমরা ইতিমধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনেক প্রমাণও দিয়েছি। মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি। নির্বাচন কমিশনকে করা হয়েছে শক্তিশালী।

প্রধানমন্পীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেলা পরিষদ প্রশাসকরা ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম কাজী জাফরউল্লাহ ও নূহ-উল-আলম লেনিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, উপ-দফতর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলা ভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী জেলা ভিত্তিক উন্নয়ন করা হবে। কেন্দ্রের কাছে কেবল বাজেট বরাদ্দ, পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। বাকি সব কাজ স্তরে স্তরে ভাগ করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে জেলা পরিষদের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হবে। এখন ডিজিটাল যুগ ঘরে বসে সব মনিটরিং করা যায়। আমরা হিসেব করেছি কোন কোন জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই। সেব জায়গায় আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। কেবল সরকারি নয়, বেসরকারিভাবেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে আমাদের পরিকল্পনা বলা দরকার, তাই বলছি। বিরোধীদলীয় নেত্রীর মতো বলবো না ভিন্নভাবে দেশ চালাবো।

তিনি বলেন, আসলে তিনি ভিন্নভাবে দেশ চালানোর নামে দেশকে আবারও দুর্নীতির আখড়া বানাবেন। হাওয়া ভবন খুলে ভিন্ন নামে ভিন্নভাবে দুর্নীতি করবেন। আগে গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু মরিনি। এখন আবার ভিন্নভাবে গ্রেনেড হামলা করবেন। এটাই তাদের ইচ্ছা। কিন্তু এদেশের মানুষ তাদের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নয়, জনগণের ভাগ্য গড়তে কাজ করে। অপরদিকে বিএনপি ক্ষমতায় আসে লুটপাট করতে। তাও আবার একা দুর্নীতি করে না, পুরো গুষ্ঠি শুদ্ধ দুর্নীতি করে।

আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের তান্ডব ও নৈরাজ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি এখন আবার বলছে তারা আমার (প্রধানমন্ত্রী) ও আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। আমার প্রশ্ন দেশের মানুষকে আর কত কষ্ট দেবেন? আমি যখন আলোচনার প্রপ্রস্তাব দিয়েছি, তখন বিরোধী দলীয় নেতা এর জবাবে গত ৪ মে ৪৮ ঘণ্টা আল্পিমেটাম দিলেন। ৪৮ ঘন্টা পর নাকি আমরা পালানোর পথ খুঁজে পাবো না। এরপর সবাই তাদের হত্যা, নৈরাজ্য দেখেছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা পরমুখাপেক্ষী হবো না। পরের কাছে হাত পাতবো না। পদ্মা সেতু আমরা শুরু করেছিলাম। কিন্তু চক্রান্তের কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত আমরা নিজেদের অর্থে এর কাজও শুরু করেছি। তিনি বলেন, আমরা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর ৯৬ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছি। ২১ হাজার ৫৬৯ কিলোমিটার রাস্তা, ৪ হাজার ৫০৭টি সেতু ও ১৩ হাজার ৭৭১ টি কালভার্ট তৈরি করেছি। ৮ হাজারের বেশি প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছি।