ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেই আস্থা বেড়েছে মানুষের

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৫:৩১ অপরাহ্ণ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেই আস্থা বেড়েছে মানুষের। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে এখনো যথেষ্ট বিভক্তি রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন এক গবষেণা প্রতিষ্ঠানের মতামত জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। গত মে ও জুন মাসে আড়াই হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে এই জরিপের ফলাফল গত বুধবার প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)। তাদের হয়ে জরিপ পরিচালনা করেছে নিয়েলসন-বাংলাদেশ। এ জরিপে মানুষ বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি। তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মনে করেন অধিকাংশ নাগরিক।

জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচনা হলেও গত দেড় বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের প্রতি জনসমর্থন যথাক্রমে ৬৭ ও ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। মতামত দাতাদের ৬০ শতাংশ বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেন। একই সংখ্যক মতামত দাতা জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে অপছন্দ করেন বলে জানিয়েছেন। আর বিএনপিকে পছন্দ করেন ৪২ শতাংশ মানুষ কিন্তু অপছন্দ করেন তারও বেশি, প্রায় ৪৬ শতাংশ।

নেতৃত্বের বলিষ্ঠতা, তরুণদের অংশগ্রহণ, নারীর প্রতি দায়িত্ববোধ, বিশ্বাসযোগ্যতা, ইতিবাচক নীতি, গণতান্ত্রিক সংস্কার, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দুর্নীতি দমনে আস্থা প্রশ্নে প্রতিটি ভাগেই বিএনপির চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ। যেখানে ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা আওয়ামী লীগে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আছে বলে মনে করেন, সেখানে বিএনপির পক্ষে বলেছেন ২২ শতাংশ। শিক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাতিগত বিভাজন দূর করার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগকে বিএনপির তুলনায় বেশি সক্ষম বলে মনে করেন অধিকাংশ মতামতদাতা।

অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি আস্থা জানালেও আগামী নির্বাচনের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে গতবছরের তুলনায় অবস্থানে পরিবর্তন এনেছেন। ৪৩ শতাংশ বলেছেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব’ বাংলাদেশে পরবর্তী নির্বাচন হওয়া উচিৎ। অন্যদিকে ৪০ শতাংশ বর্তমান সংসদকে পুরো মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে দেওয়ার পক্ষে। যেখানে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আইআরআইয়ের  জরিপে একই প্রশ্নে ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা বর্তমান সংসদের মেয়াদ পূর্ণ করার পক্ষে বলেছিলেন; আর ৪০ শতাংশ বলেছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন চান।

এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পক্ষে জনসমর্থন কমেছে। তবে এখনও অধিকাংশ মানুষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন দেখতে চায়। ৬৭ শতাংশ বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা উচিৎ। অন্যদিকে ২২ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে যখন নির্বাচন হয়, ওই মাসে আইআরআইয়ের জরিপে ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে এবং ১৮ শতাংশ বিপক্ষে বলেছিলেন।

দেশ সঠিক পথেই চলছে বলে মনে করেন অধিকাংশ উত্তরদাতা। ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে, যেখানে ৩৬ শতাংশ তা মনে করেন না।  ২০১৩ সালের নভেম্বরে এই প্রশ্নে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভুল দিকে যাচ্ছে। অন্যদিকে ইতিবাচক মত দিয়েছিলেন ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘খুব ভালো’ বলেছেন ২৮ শতাংশ উত্তরদাতা; ৪৪ শতাংশ বলেছেন ‘ভালো’। ১২ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ে একেবারেই সন্তুষ্ট নন। আর মতামত দাতাদের ৬৮ শতাংশ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ৬৪ শতাংশ মনে করেন, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। এই স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশা করছেন ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ দুর্নীতিকে বাংলাদেশের ‘প্রধান সমস্যা’ বলে মনে করেন। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবকে ১৬ শতাংশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ১৫ শতাংশ উত্তরদাতা বড় সমস্যা বলে মনে করন। ১১ শতাংশ বলেন, সরকারি সেবা নিতে তাদের ঘুষ বা উপহার দিতে হয়েছে। তাদের ৫৩ শতাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘুষের অংক ছিল পাঁচ হাজার টাকার বেশি।

সরকার গণতন্ত্রের আগে উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বললেও ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা উন্নয়নের চেয়ে গণতন্ত্রকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পক্ষে। জাতীয় সংসদ যেভাবে চলছে তাতে সন্তুষ্ট নন ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা। ৪৮ শতাংশ উত্তরদাতা বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট। আর পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট নন ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

সেনাবাহিনী, র‌্যাব, আদালত ও নির্বাচন কমিশন যেভাবে চলছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যথাক্রমে ৮৬, ৭৬, ৭৩ ও ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা। গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের কাজকে ৮৩ ও ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘ইতিবাচক’ বলে মনে করছেন।