ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, দিশাহারা নাবিকের মতো মাঠ ছাড়া…

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৮ মার্চ , ২০১৪ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

আরও একটি পরাজয়। আরও একবার ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, দিশাহারা নাবিকের মতো মাঠ ছাড়া। এবার তবু ব্যাটিংয়ে কিছুটা লড়াই হলো। বোলিংয়ে অসহায় আত্মসমর্পণ। ৮ উইকেটের বিশাল জয় নিয়ে ভারত যেমন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে নাম লেখাল, তেমনি সুপার টেন থেকে বাংলাদেশেরও ছিটকে পড়া একদম নিশ্চিত।
আইপিএলে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় হচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট অঙ্গন। বিসিসিআইয়ের সভাপতির পদ থেকেও সরে দাঁড়াতে হয়েছে শ্রীনিবাসনকে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে এসবের কোনো প্রভাবই বুঝতে দিচ্ছেন না মহেন্দ্র সিং ধোনিরা। পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর আজ ভারতের কাছে ধরাশায়ী হলো স্বাগতিক বাংলাদেশও। টানা তিনটি ম্যাচ জিতে শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত।
১৩৯ রানের লক্ষ্যটা ভারতের জন্য কঠিন কিছু না। তার পরও তৃতীয় ওভারে শিখর ধাওয়ানকে আউট করে বাংলাদেশ শিবিরে আশা জাগিয়েছিলেন আল-আমিন। সে সময় ভারতের সংগ্রহ ছিল ১৩ রান। কিন্তু এরপর মুশফিকদের শুধু হতাশই করেছেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। তাঁদের ব্যাটে ভর করেই জয়ের পথে হেঁটেছে ভারত। ১৬তম ওভারে রোহিতকে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন মাশরাফি। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েই গেছে।
দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রানের জুটি গড়ে জয়ের কাজটা প্রায় সেরেই রেখেছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে রোহিত করেছেন ৫৬ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন কোহলি। ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মাঠ ছেড়েছেন দলকে জিতিয়েই। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২২ রান।
অবশ্য ম্যাচসেরা কোনো ব্যাটসম্যান নন। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে দুই উইকেট নেওয়া অশ্বিন হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। অশ্বিনই বাংলাদেশকে বিনা উইকেটে শূন্য থেকে হুট করে ৩ উইকেটে ২১ বানিয়ে ফেলতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। শুরুর এই ধাক্কা কোনো মতে সামলে উঠলেও চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। ১৩৯ রানের পুঁজি দিয়ে ভারতের মতো দলের বিপক্ষে লড়াইয়ের আশা করাও তো বাড়াবাড়ি!
বাংলাদেশ দলের পরাজয়ক্লিষ্ট মুখগুলো দেখে দেখে দর্শকেরাও নিশ্চয়ই ক্লান্ত। বিশ্বকাপে আর কিছু হারানোর নেই। সেই তাগিদ থেকে শেষ দুই ম্যাচে এবার যদি আত্মবিশ্বাসের জ্বালানিটুকু জুটিয়ে নিতে পারে মুশফিকের দল, সমর্থকদের প্রত্যাশার আয়তন এখন এতটাই ক্ষুদ্র।


আরোও সংবাদ