ক্রীড়া জগতে আরেক সম্ভাবনাময়ী খেলা চুকবল

প্রকাশ:| বুধবার, ৩ আগস্ট , ২০১৬ সময় ০৮:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ক্রীড়া জগতে আরেক সম্ভাবনাময়ী খেলার  চুকবলবাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে আরেকটি সম্ভাবনাময়ী খেলার নাম চুকবল। ইতোমধ্যে এ খেলায় বাংলাদেশ দল ৭ম এশিয়া প্যাসিফিক চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ ২০১৬ অংশ নেয়। স্থান নির্ধারনী ম্যাচে কোরিয়া ও চীনকে পিছনে ফেলে ১১টি দলের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল প্রথমবারেই ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করে।
ঊুধবার চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান,বাংলাদেশ চুকবল ফেডারেশনের এসোসিয়েট সেক্রেটারী আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন,ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউছুফ,কল্লোল দাশ,আশ্রাফুল বশির চৌধুরী,চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ দপ্তর সম্পাদক দিদারুল আলম ।
মতবিনিময়কালে আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল বলেন, ২০১৪ সালে তাইওয়ান এ অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ এশিয়া প্যাসিফিক চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ এ বাংলাদেশ দল ১১টি দলের মধ্যে ৮ম স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে ১ম জাতীয় চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ থেকে বাছাইকৃত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়।
তিনি জানান,চুকবল খেলাটি নতুন হলেও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে খেলাটি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক সুনাম বয়ে এনেছে। ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ ২০১৩ এ বাংলাদেশ দল ৮টি দলের মধ্যে ৫ম স্থান অধিকার করে।
২০১৪ সালে তাইওয়ান এ অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ ২০১৪ এ বাংলাদেশ দল ১১টি দলের মধ্যে ৮ম স্থান অর্জন করে। এছাড়াও গত ডিসেম্বর ২০১৪ এ নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়া চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ ২০১৪ এ বাংলাদেশ দল ৫টি দলের মধ্যে রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
আন্তর্জাতিক চুকবল ফেডারেশন এর আয়োজনে আগষ্ট ২০১৫ এ তাইওয়ান এ অনুষ্ঠিত ‘ওর্য়াল্ড চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ ২০১৫’ এবং সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘ওর্য়াল্ড ইয়ুথ চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ ২০১৫’ এই দুই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল অংশগ্রহন করছে এবং সম্মানজনক ফলাফল অর্জন করে।
সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশে চুকবল এর প্রসার, সাফল্য বিবেচনায় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় চুকবল এর প্রসারে ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশ চুকবল এসোসিয়েশন (প্রস্তাবিত) এর সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম ওয়াহিদ দুলাল আন্তর্জাতিক চুকবল ফেডারেশন এর পাইওনিয়ার অর্গানাইজার এওয়ার্ড ২০১৫ অর্জন করেন।
এ সকল সাফল্যর স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ চুকবল এসোসিয়েশন গত আগষ্ট মাসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চুকবল ফেডারেশন এর সাধারণ সভায় সংস্থাটির সহযোগী সদস্যপদ লাভ করেছে। এছাড়াও ১৯ মে থেকে ২২ মে ২০১৬ ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের হরিদ্বার নগরীতে অনুষ্ঠিত ৩য় সাউথ এশিয়ান চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ এ বাংলাদেশ দল রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

সুইজারল্যান্ডের ক্রীড়া বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক হার্নান ব্যান্ডিট শারীরিক পরিশ্রম, গতি, ক্ষীপ্রতা ও চৌকস বুদ্ধিমত্তা সহ সব উপাদানের সমন্নয়ে কিন্তু শারীরিক সংঘর্ষ ব্যাতিত এই খেলাটি উদ্ভাবন করেন। এই খেলাটির প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুধুমাত্র খেলার সাবজেষ্টকে অর্থাৎ বলকে কেন্দ্র করে অফেন্স বা ডিফেন্স হয়ে থাকে। এবং এ কারনে এটাই পৃথিবীর একমাত্র খেলা যাতে টিম গেম এর সব উপাদান থাকা সত্বেও এটি ইনজুরী বিহীন খেলা। বর্তমানে ক্রীড়া বিজ্ঞানীরা এই খেলাটিকে “সোল অব এভরী গেম” হিসেবে অবিহিত করছেন।
বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৮৩টি দেশে খেলাটির চর্চা হচ্ছে। বাংলাদেশেও খেলাটি অত্যন্ত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। দেশের প্রায় ১৫টি জেলাতে নিয়মিতভাবে চুকবল খেলার চর্চা হচ্ছে। অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত এবং নবীনতম সদস্য হওয়া সত্বেও চুকবলে দক্ষিন এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের আধিপত্য রয়েছে। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল সম্মানজনক স্থান অর্জন করেছে। বর্তমানে আধুনিক অলিম্পিক এর সুপার পাওয়ার চীন কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম প্রচলিত খেলাগুলোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে এই সুপার পাওয়ার এ পরিণত হয়েছে। শারীরিক সক্ষমতা, ফলাফল ও সার্বিক বিবেচনায় চুকবলে বাংলাদেশের অত্যন্ত উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে।

বাংলাদেশে চুকবল খেলার প্রসার ও এসোসিয়েশনের ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনা বিষয়ে চুকবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম ওয়াহিদ দুলাল বলেন, ২০১৪ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অন্তর্ভূক্তির আবেদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ চুকবল এসোসিয়েশন গঠিত হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা সংগঠনের শক্ত ভিত্তির জন্য নিরবচ্ছিভাবে কাজ করেছি। পাচঁ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং এর নিরীখে কাজ পরিচালনা করছি। আমরা বিশ্বাস করি একটি পরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে লক্ষ্যে পৌঁছানো অধিকতর সহজ।
পরিকল্পনা এবং কার্যকরী বাস্তবায়ন এই মূল বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ চুকবল এসোসিয়েশন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যন্য নজির সৃষ্টি করতে চায়। ইতিমধ্যে আমরা ২টি কোচেস ও রেফারিজ প্রশিক্ষন কর্মসূচী সম্পন্ন করেছি এবং আমাদের ১জন আর্ন্তজাতিক ‘সি’ কোচ ও ৮জন জাতীয় গ্রেড পাস করা কোচ রয়েছে। এছাড়াও ৩জন আর্ন্তজাতিক ’সি’গ্রেড রেফারি এবং ৬ জন জাতীয়গ্রেড পাস করা রেফারি রয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ১৫টি জেলায় খেলাটির চর্চা হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন লীগ আয়োজন করা হচ্ছে।

গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল ২০১৬ চট্টগ্রাম এম. এ. আজিজ ষ্টেডিয়াম এর জিমনেসিয়াম এ ১১টি জেলা দলের অংশগ্রহনে ১ম জাতীয় চুকবল চ্যাম্পিয়ানশীপ অনুষ্ঠিত হয়। ১১টি জেলা দল ৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ১ম লীগের খেলায় অংশগ্রহন করে। পরবর্তীতে তিনটি গ্রুপের শীর্ষ স্থানীয় তিনটি দলকে নিয়ে সুপার থ্রি পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং লীগ টেবিলের শীর্ষ স্থান অধিকারী চট্টগ্রাম জেলা দল চ্যাম্পিয়ান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দল রানার্স আপ এবং ফেনী জেলা দল ৩য় স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করে। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় ঢাকা , সাতক্ষীরা , মাদারীপুর , রাঙ্গামাটি , বান্দরবান , কক্সবাজার , যশোর জেলা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অংশ গ্রহন করে। বাংলাদেশে চুকবল এর অমিত সম্ভবনা বিবেচনায় বাংলাদেশ চুকবল এসোসিয়েশন বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে যুব সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দেশের প্রতি মমত্ববোধ সৃষ্টিতে অভূতপূর্ব ভুমিকা রাখবে এবং জনসম্পৃক্ততা বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে বলে মতব্যক্ত করেন কমিটির সদস্যরা।