কোম্পানির মাধ্যমে মূলধনী মুনাফার কর আদায়ের প্রস্তাব

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

পুঁজিবাজারের কোম্পানি ও অংশীদারী ফার্মের উপর ১০ শতাংশ হারে মূলধনী মুনাফার কর বা ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স কোম্পানির মাধ্যম্যে আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে প্রস্তাব করেছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মূলধনী মুনাফার উপর উৎসে কর কর্তনের জটিলতা নিরসনে ও বাস্তবায়নের বিষয়ে রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লি., চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লি., সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লি. ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন।

বৈঠকে আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩-ও ধারা পরিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেই নিজেদের বিও হিসাবে মূলধনী লাভ হিসেব করে প্রযোজ্য কর বছর শেষ হওয়ার আগে পরিশোধ করে স্টক এক্সচেঞ্জ বা স্টেকহোল্ডারদের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানোর প্রস্তাব করা হয়। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারের সাধারণ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীর উপর কোনো ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স নাই। তবে কোম্পানি ও অংশীদারী ফার্মের উপর ১০ শতাংশ হারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আছে, যা চলতি অর্থবছরে (২০১৪-২০১৫) আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩ও [৫৩ঙ] ধারার অধীনে উৎসে কর্তনযোগ্য।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেয়ার সংরক্ষণের দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) তথ্য অনুসারে বিভিন্ন ডিপিতে (ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টস) সর্বমোট ৭ হাজার ৯৯১টি কোম্পানির বিও অ্যাকাউন্ট আছে। কিন্তু কোনো অংশীদারী ফার্মের বিও অ্যাকাউন্ট নাই।

আইন অনুসারে স্টেকহোল্ডার, ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কাস্টোডিয়ানদের সারা বৎসরের কর্পোরেট ক্যাপিটাল গেইন সুদ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে হিসেব করে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে প্রযোজ্য কোম্পানির ক্ষেত্রে উক্ত উৎসে কর্তন করতে হবে।

কিস্তু স্টেকহোল্ডারগণ মনে করেন, স্টেকহোল্ডারদের পক্ষে কোনো কোম্পানির মূলধনী লাভ হিসাব করে উক্ত কর উৎসে আদায় সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, লিংক অ্যাকাউন্টে একাধিক জায়গায় শেয়ার থাকলে অর্জন ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া সম্ভব নয়।

আগের ৫ বৎসরের পুঞ্জিভূত মূলধনী ক্ষতির সমন্বয় করে (ধারা ৪০) অর্জিত মূলধনী লাভের হিসেব করা স্টেকহোল্ডার কর্তৃক অসম্ভব। একই সঙ্গে স্টেকহোল্ডার অধিকাংশ কোম্পানির এ সংক্রান্ত কাজের সামর্থও নেই।

এছাড়াও, কোম্পানি বিনিয়োগকারীরা যেকোনো সময় বিও হিসেব বন্ধ করে অর্থ তুলে নিতে পারে। কর্পোরেট কর হার সাধারণভাবে অনেক বেশি হওয়ায় (২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ ), কোম্পানি বিনিয়োগকারীরা মূলধনী লাভ হলে রিটার্ন জমা দেয়ার সময় ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে থাকে।

তাই ৫৩-ও ধারা পরিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেই নিজেদের বিও হিসেবে মূলধনী লাভ হিসাব করে প্রযোজ্য কর বছর শেষ হওয়ার আগে পরিশোধ করে স্টক এক্সচেঞ্জ বা স্টেকহোল্ডারদের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানানোর প্রস্তাব করা হয়।