কোটি টাকার গাড়ি থানায় গেলেই ভাঙারি

প্রকাশ:| রবিবার, ৯ জুন , ২০১৩ সময় ০৫:৪১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে

আলী আজম –
ঢাকা মহানগরীর থানাগুলো জব্দ হওয়া জরাজীর্ণ গাড়ির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারণে বছরের পর বছর প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন মডেলের দামি গাড়ি থানার আশপাশে পড়ে আছে। কোটি টাকা দামের এসব গাড়ি চোখের সামনেই পরিণত হচ্ছে হাজার টাকার ভাঙারিতে। এদিকে থানার বেশিরভাগ জায়গাজুড়ে জব্দ করা গাড়ির স্তূপ থাকায় পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কয়েক বছর পর মালিক গাড়ি ফিরে পেলেও তা আর ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গাড়ি জব্দ হওয়ার পর সরকারি পরিবহন পুলে দেওয়া যেতে পারে। এতে রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি গাড়িটি ভালোও থাকবে। এ ছাড়া গাড়ি বিক্রি করে সরকার তা ব্যাংকে জমা রাখতে পারে। মামলা শেষ হলে ওই অর্থ হয় মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া হবে কিংবা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা থাকবে। গাড়ি বিক্রির জন্য প্রতিটি অঞ্চলে কমিটি গঠন করতে হবে। এতে গাড়ির মালিক লাভবান হবেন এবং রাষ্ট্রও আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। সরেজমিনে দেখা যায়, রমনা মডেল, মিরপুর মডেল, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী, শাহজাহানপুর ও সবুজবাগ থানাসহ রাজধানীর প্রায় সব থানাতেই জরাজীর্ণ অবস্থায় দামি গাড়িগুলো পড়ে আছে। যেগুলোর উপরে ছাউনি আছে সেগুলোর শরীরে জমেছে পুরু ধুলোর স্তর। ছাউনি ছাড়া গাড়ি রোদ-বৃষ্টিতে মরচে ধরে গেছে। কিছু গাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ১০-১৫ বছরের গাড়িও থানায় রয়েছে। খিলগাঁও থানার সামনে জব্দ করা গাড়ির বিশাল স্তূপ। মিরপুর থানায় শতাধিক গাড়ি যত্রতত্র পড়ে আছে। শ্যামপুর থানার সামনে ২০টির মতো গাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার উপক্রম। যাত্রাবাড়ী থানা ভবনের নিচে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল ধুলোর আস্তর পড়ে নষ্ট হচ্ছে। থানার সাবেক ভবনের পাশেও বেশ কিছু গাড়ি বাইরে থেকে নষ্ট হচ্ছে। সবুজবাগে অর্ধশতাধিক গাড়ি নষ্ট হওয়ার উপক্রম। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন মামলা বা দুর্ঘটনার আলামত হিসেবে গাড়ি জব্দ করা হয়। অনেক সময় চুরি হওয়া গাড়ি উদ্ধারের পর মালিককে ফিরিয়ে দিতে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। জানা গেছে, ডিএমপির থানাগুলোতে প্রায় ৪ হাজার যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক গাড়ি পড়ে আছে। কিছু থানায় জব্দ করা গাড়ি রাখার জায়গা নেই। ফলে সেগুলো পাশের রাস্তা কিংবা অন্যের খালি জায়গায় রাখতে হয়। ঢাকা মহানগরের অর্ধেকের মতো থানাই সীমিত পরিসরের ভাড়া করা জায়গায় চলে, সেখানে জব্দ করা গাড়ি বাড়তি চাপ। এ ছাড়া আগারগাঁও ডাম্পিং স্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে বিভিন্ন মডেলের দামি গাড়ি। বিপুল সংখ্যক রিকশাও ডাম্পিং স্টেশনে আটক রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চোরাই, দুর্ঘটনাকবলিত, কাগজপত্রহীন কিংবা মাদকবাহী গাড়িসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত যানবাহন আটক করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ১০-১২ বছর জব্দ করা গাড়িগুলো থানা কম্পাউন্ডে পড়ে থাকে। এতে বিঘ্ন ঘটে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রমে। তবে গাড়ির মালিকরা বলেছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয়রানির জন্য পুলিশ গাড়ি জব্দ করে। ম্যানেজ করতে না পারলে সাধারণ মামলার ক্ষেত্রেও অনেক সময় রেকার লাগিয়ে পুলিশ গাড়ি নিয়ে যায়। টার্গেট পূরণ করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্বিচারে ডাম্পিং করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, থানার ওপর থেকে জব্দ করা গাড়ির চাপ কমাতে হলে পারস্পরিক সমন্বয় করে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি সম্পন্ন করতে হবে।