কোকেন তদন্তে ডিবিকেই সহযোগিতার নির্দেশ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৭ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৬:২১ অপরাহ্ণ

কোকেনের একটি চালানচট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভোজ্যতেলের ড্রামের ভেতর কোকেন আনার ঘটনা তদন্তে ডিবিকে সহযোগিতার জন্য শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার মামলা তদন্তে পুলিশকে ‘অসহযোগিতা’র অভিযোগ ও ডিবিকে সহযোগিতা করতে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের প্রতি দেয়া আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানী শেষে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলম এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান বলেন, ‘কোকেন আনার ঘটনা তদন্তে ডিবিকে সহযোগিতার জন্য শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার উভয় শুনানী শেষে আদালত এ আদেশ দেন। এই আদেশ কেউ অমান্য করলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দিয়েছেন আদালত।’

এর আগে সোমবার শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হোসাইন আহমেদ চট্টগ্রাম মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অপিল করেন।

আপিল আবেদনে হোসাইন আহমেদ উল্লেখ করেন, ‘জব্দকৃত কনটেইনারের ১০৭টি ড্রাম ঢাকার দু’টি ল্যাবে পরীক্ষার করে ইতোমধ্যে ৯৬ নম্বর ড্রামটিতে দুই পরীক্ষায়ই কোকেনের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কাজ করছেন। এছাড়া কোকেনের নির্দিষ্ট পরিমাণ জানতে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কোকেনের আলামত অন্য কোন সংস্থার হাতে হস্তান্তর করা হলে তদন্ত বিঘ্নিত ঘটবে। সেকারণে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জব্দকৃত কোকেন বন্দর ইয়ার্ডে কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে রাখার আবেদন করা হয়েছে।’

গতকাল রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির সহকারি কমিশনার কামরুজ্জামানের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম ফরিদ আলম কোকেনের আলমত সংগ্রহ করে পুনঃপরীক্ষার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সাথে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে তদন্ত সংস্থা ডিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করতে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া জব্দকৃত কনটেইনারে থাকা ১০৭ টি ড্রাম সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধানে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেয়া হয়েছিল।

এদিকে রোববারের আদালতের আদেশ পেয়ে কোকেনের আলামত সংগ্রহ করতে বন্দরের ৪ নম্বর ইয়ার্ডে যান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার (উত্তর) কামরুজ্জামান। তিনি সকাল ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। তবে একই সময়ে সব সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকায় সিলগালা করা জব্দকৃত কনটেইনারটি খুলতে পারেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি সকালে বন্দরে আলামত সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। এসময় সব সংস্থার লোকজন একসাথে উপস্থিত না থাকায় আলামত সংগ্রহ করা যায়নি। পরে আলোচনার ভিত্তিতে একাজ করা হবে।’

প্রসঙ্গত গত ৬ জুন রাতে বন্দরে কোকেন সন্দেহে একটি কনটেইনার সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এরপর ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সান ফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে উন্নত ল্যাবে একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এরপর ২৮ জুন নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক ওসমান গনি বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১(খ) ধারায় ‘আমদানিকারক’ প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, কসকো বাংলাদেশ শিপিং লাইনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (করপোরেট, বিক্রয় ও বিপণন) এ কে আজাদ, একটি ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল ও খান জাহান আলী ট্রেডার্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তাফা সোহেলকে আটকের পর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এরমধ্যে প্রথম তিনজন ১০ দিন ও সোহেলকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।


আরোও সংবাদ