কে-নে চলর….

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:২২ অপরাহ্ণ

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া একটি ডায়ালগ “কে-নে চলর” সর্বত্র ব্যবহার করা হচ্ছে । শিক্ষিত- অশিক্ষিত সকলের মুখে মুখে বর্তমানে এটি শোভা পাচ্ছে। কেউ কারোর সাথে দেখা হওয়া মাত্র বলে – কে-নে চ-ল-র। কেউ এ বাক্যটিকে পজেটিভ কিংবা কেউ আবার নেগেটিভ হিসেবে নিচ্ছে। শুনা মাত্র কেউ আবার থমকে যাচ্ছে উত্তরই বা কি হবে তা ভেবে। তবে ক্ষণিক মধুর হাস্যরসের জন্যই অঞ্চলিক ভাষাভাষিরা এ ধরনের আচমকা কিছু ডায়ালগ ব্যবহার করে বলে অনেকের ধারনা। এসব ডায়ালগ হঠাৎ করেই আবির্ভাব হয়। কিন্তু কোত্থেকে তার উৎপত্তিস্থল তা খুঁজে পাওয়া যায় না। কে-নে চলর কথাটি একবার ব্যবহার করলে কোন রকম চলে । কিন্তু একই ব্যক্তিকে বার বার বললে ঘটে যাচ্ছে বিপদ।
তেমনি কক্সবাজার সদরের ঈদগাও বাশঘাটা নামক স্থানে গত কয়েকদিন পূর্বে এক ব্যক্তিকে কে-নে চলর বলায় সে মিস্ত্রী কাজ করে চলছি বলে উত্তর দেয় । কিছুক্ষণ পর একই কায়দায় আবারও বলা মাত্রই শুরু হয়ে যায় মারামারি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনুষ্টিত শালিষী বৈঠকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ধায্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিকদার পাড়ার গিয়াস উদ্দিন বাবুল। অন্যদিকে এ কথাটির বিস্তৃতি ঘটেছে সুদুর সৌদি আরব পর্যন্ত। জালালাবাদের এক প্রবাসী ব্যক্তি সৌদি আরব হতে তার বাংলাদেশে থাকা বন্ধুকে দীর্ঘদিন পর ফোন করে। ফোনে প্রথমেই বলে দোস্ত কে-নে চলর। বাংলাদেশী বন্ধু উত্তর দেয় কোনমতে ছোটখাট ব্যবসা করে চলছি। আবারও বলে কে-নে চলর। কিন্তু পরবর্তী উত্তর সে খুজে পাচ্ছেনা। বারবার বলায় মোবাইলে বেশ কিছুক্ষন চলে বাড়াবাড়ি । পরে বাংলাদেশী বন্ধু টের পেয়েছে আসলেই সেই ডায়ালগ “কে-নে চ-ল-র”। বকাঝকা ও গরম কথাবার্তার কারনে উভয়ের বন্ধৃত্ব একপর্যায়ে নরম হয়ে ফাটল ধরেছে বলে জানিয়েছেন দেশে থাকা বন্ধু জয়নাল আবেদীন।
প্রসঙ্গত ইতোপূর্বে “পাইন্যাআপ” , “প-ড়-ত গিয়ে”, “মার বদিআলম” , “হাট্টা বায়ন”, “জেড়া পউটার দিয়ে” ইত্যাদি চট্ট্রগ্রাইম্যা আঞ্চলিক ডায়ালগ মুখে মুখে প্রচলন ছিল। কালক্রমে এগুলো অটো হারিয়ে যায় নতুন ডায়ালগ অবিস্কৃত হয়। বর্তমানের ডায়ালগ কে-নে চ-ল-র ।


আরোও সংবাদ