কে কাকে বিয়ে করলেন!

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ০৪:০৩ অপরাহ্ণ

জর্জ ক্লুনি ও আমাল আলামুদ্দিনযেন জেমস বন্ড সিরিজের সিনেমার মতোই টান টান উত্তেজনাকর প্রতিটি দৃশ্য। সম্ভব সবটুকু গ্ল্যামার ছড়িয়ে প্রতিটি ভঙ্গিমার স্থিরচিত্র ছাপা কাগজের পাতায় আর ওয়েবসাইটে। বিয়ের ভেন্যু বেছে নেওয়া থেকে শুরু করে জনসমক্ষে হাজির হওয়া না-হওয়া, হাত নাড়া না-নাড়ার প্রতিটি মুহূর্তই বহু মাপজোখে একের পর এক সাজানো। চারদিকে ঢেউ ছড়িয়ে ভেনিসের গ্র্যান্ড ক্যানাল দিয়ে ছুটে চলেছে স্পিডবোট, পেছন পেছন ধেয়ে আসছে বিশেষ অতিথি, নিরাপত্তা প্রহরী আর দুনিয়ার গণমাধ্যমের আলোকচিত্রীদের নৌযান। এপারে-ওপারে হোটেলের ছাদে স্নাইপারের মতোই ওত পেতে আছে পাপ্পারাজ্জিরাও। হঠাৎ করে দেখলে যে কেউই একে বন্ড ছবির দৃশ্য বলে ভুল করতেই পারেন!

হলিউড তারকা অভিনেতা জর্জ ক্লুনি আর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী আমাল আলামুদ্দিনের বিয়ে এভাবেই হাজির হয়েছে সারা দুনিয়ার গণমাধ্যমে। সবার হইচই, মাতামাতি এমন এক সুরে বাঁধা থাকলেও মার্কিন এক ওয়েবসাইট কিন্তু ক্লুনি-আলামুদ্দিনের বিয়েকে ভিন্ন শিরোনামে, ভিন্ন স্টাইলের খবরে হাজির করেছে। আর রাতারাতিই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তা নজর কেড়েছে লাখো মানুষের।

জর্জ ক্লুনি পেশাগতভাবেই গ্ল্যামার জগতের মানুষ। তিন তিনটা গোল্ডেন গ্লোব আর দুটো অস্কার পুরস্কার আছে এই তারকা অভিনেতার ঝুলিতে। তা ছাড়া প্রায় ২০ বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর থেকেই হলিউডের ‘মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলর’ হিসেবে খ্যাত ছিলেন ৫৩ বছর বয়সী ক্লুনি। তার ওপর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রুপালি পর্দার বাইরেও নিজেকে আন্তর্জাতিক দাতব্য কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে আলোচনায় ছিলেন এই মার্কিনি।

অন্যদিকে, লেবাননি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও লেখক আমাল আলামুদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত নাম। আরবি, ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ৩৬ বছর বয়সী আলামুদ্দিন এর মধ্যেই পেশাগত জীবনে সাফল্যের শিখরে উঠেছেন। আন্তর্জাতিক আইন, অপরাধ আইন, মানবাধিকার, অভিবাসন এবং বন্দী প্রত্যর্পণ আইনের এই প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞের মক্কেলদের মধ্যে আছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, ইউক্রেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া তিমোশেঙ্কো এবং লিবিয়ার সাবেক গোয়েন্দাপ্রধানসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিই। এ ছাড়া লেবানন, সাবেক যুগোশ্লাভিয়া ও কম্বোডিয়াসহ জাতিংসঘের বিভিন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনালেও দায়িত্ব পালন করেছেন আলামুদ্দিন।

কি পেশাগত সাফল্যে, কি সামাজিক প্রতিষ্ঠায়, কি সৌন্দর্য বা গ্ল্যামারে পাত্র বা পাত্রী হিসেবে ক্লুনি-আলামুদ্দিনের কেউই কারও চেয়ে কম যান না। তবুও মূলধারার পশ্চিমা গণমাধ্যম দীর্ঘদিনের চর্চাবশতই হোক কিংবা ‘পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির’ কারণেই হোক রোববারের এই বিয়েকে মোটের ওপর ‘ক্লুনি ওয়েডিং’ বা ‘ক্লুনির বিয়ে’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু ‘পুরুষকে সামনে রেখে নারীকে পেছনে রাখার’ এই রীতি মেনে নেয়নি মার্কিন ওয়েবসাইট ‘বিজনেস উইমেন’। দ্য গার্ডিয়ান ক্লুনি-আলামুদ্দিনের বিয়ের পরদিন এক প্রতিবেদনে মার্কিন ওয়েবসাইটটির খবর এবং ওই খবর নিয়ে তোলপাড়ের কথা জানিয়েছে।

নারী সাময়িকী বিজনেস উইমেন তাদের শিরোনাম করেছে, ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী আমাল আলামুদ্দিন এক অভিনেতাকে বিয়ে করলেন’। খবরের শুরুতেই বলা হয়েছে, আলামুদ্দিন ‘পেশাদার নারীদের প্রবণতার বিপরীতে গিয়ে এক অভিনেতাকে বিয়ে করলেন।’ এদিকে এ বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘তারা আলামুদ্দিনকে সামনে রেখে খবরটি শুরু করেছে… এবং ৬ প্যারা ধরে আলামুদ্দিনের গুণগান গাওয়ার পর প্রকাশ করেছে যে, অভিনেতাটির নাম জর্জ ক্লুনি।’

বিজনেস ইউমেন তাদের প্রতিবেদনে জর্জ ক্লুনি সম্পর্কে লিখেছে, ‘সম্ভবত একজন দারুণ মানুষ, কিন্তু দেখে মনে হয় ভালোবাসায় একটু বেশিই নির্ভরশীল, কেননা দুজনের পরিচয়ের পর থেকে আলামুদ্দিনের একটা ছবি বা ফুটেজও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে ওর পেছনে জড়িয়ে নেই তিনি।’

রোববার ক্লুনি-আলামুদ্দিনের বিয়ের রাত থেকে সোমবার সকালের মধ্যেই লন্ডনজুড়ে আলোচনায় চলে আসে ‘বিজনেস উইমেন’ ওয়েবসাইটটির নাম। রাতারাতিই দুই লাখ ১০ হাজার শেয়ার হয় ক্লুনি-আলামুদ্দিনের বিয়ে নিয়ে তাদের প্রতিবেদনটি। টুইটারে আট হাজার লোক রি-টুইট করে ওই প্রতিবেদনটি। সারা দুনিয়ার গণমাধ্যম যখন একই সুরে কথা বলছিল, তখন এ রকম বহুল আলোচিত খবরের ভিন্ন মাত্রা দেওয়া একটা প্রতিবেদন এবং তার পাঠকপ্রিয়তা সত্যিই দারুণ ঘটনা।


আরোও সংবাদ