কে এই জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

ইমরান এমি. নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাহাঙ্গীর আলম সদ্য বরখাস্ত নবসৃষ্ট কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এছাড়াও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামীলীগের এডহক কমিটির সদস্য। কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথম বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ার অৎুহাতে সভা পন্ড করে দেন, যার কারণে সম্প্রতি তাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সূত্রে জানায়, এক সময় শিকলবাহা ইউপি মেম্বার ছিলেন জাহাঙ্গীর। পশ্চিম পটিয়া তথা বর্তমান কর্ণফুলী উপজেলায় স্থাপিত বিভিন্ন শিল্প কারখানায় তিনি প্রভাব বিস্তার করে অবৈধভাবে বিপুল অংকের টাকার মালিক হয়েছেন। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে চলাফেরা করেন। সেই সুবাদে শিকলবাহাসহ আশপাশের এলাকায় ‘বাহিনী’ তৈরি করে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন তিনি। পরবর্তী কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের এডহক কমিটি গঠন হলে সেখানে সদস্য হিসাবে জায়াগা করে নেন তিনি। তার ক্ষমতা জনসমামুখে আসেন ২০১৫ সালে পটিয়া থানায় দায়ের করা একটি মামলার পলাতক আসামি জাহাঙ্গীরকে ঐ বছরের ১৩ মে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপরই তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক অবরোধ করে। প্রায় ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ধওে দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশ পথ মইজ্জ্যারটেক সড়ক অবরোধ করে রাখার পর স্থানীয় প্রশাসন জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের জামিনের আশ্বাস দিয়ে সড়কের অবরোধ তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। এরপর থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান। এয়াড়াও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান নির্বাচন করায় তাকে এশবার দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল।
জানা যায়, জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, ডাকাতদের আশ্রয়দাতা, দ্রুত বিচার আইনে কর্ণফুলী, চান্দগাঁও থানায় ডজনখানের মামলা রয়েছে। যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি, জমি দখল, কর্ণফুলী নদীপথে নৌকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম জড়িত ছিল বলেও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। ২০০৫ সালে চান্দগাঁও এলাকায় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন তিনি। ২০০১ সালে মইজ্জ্যার টেক এলাকার চৌকিদার নেছার হত্যা মামলার আসামি। তিনি ’৯৬ সালে শিকলবাহা ইউনিয়নের মেম্বার নির্বাচিত হন। শিকলবাহা এলাকা ছাড়াও নগরীর কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু গোলচত্বর ও চাক্তাই বস্তি এলাকায় জাহাঙ্গীর মেম্বারের দাপট রয়েছে। গোল চত্বর এলাকায় অবৈধ ট্যাক্সি, টেম্পো, মাহিন্দ্রা থেকে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার নামে সংবাদও প্রকাশিত হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি মামলা আছে। এর মধ্যে চারটি পটিয়া, আটটি কর্ণফুলী এবং একটি চান্দগাঁও থানায়। পটিয়া থানায় ২০১২ সালের ২৩ মার্চ দায়ের করা দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন আছে। অন্য কয়েকটি মামলায় তিনি জামিনে আছেন। সর্বশেষ ২০ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের দায়ের করা দাঙ্গা হাঙ্গামার মামলায় তিনি পলাতক আসামি।২০ ডিসেম্বর মামলা দায়ের হওয়ার পরও জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. নেয়ামত উল্লাহ জানান, আসামী জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানের বাড়ী, তাই অধমরা কর্ণফুলী থানাকে ২১ তারিখই বার্তা পাঠিয়েছি আসামীকে গ্রেপ্তার করার জন্য।
পটিয়া থানা থেকে পাঠানো বার্তা পাওয়ার কথা স্বীকার করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ছৈয়দুল মোস্তাফা বলেন, চিঠি পাওয়ার পর পরই আমরা আসামী জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যানকে গেস্খপ্তার করার জন্য অভিযান পরিচালনা করছি নিয়মিত, শুনেছি তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে আমাদেও সোর্সদের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে কর্ণফুলী থানার।