৫১ দিন পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল; তিনটি মামলায় আগাম জামিন

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৩:২১ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ ৫১ দিন পর রাজধানী নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ দুপুরে হাইকোর্ট থেকে তিন মামলায় জামিন ও হয়রানির আদেশ পেয়ে নয়াপল্টন কার্যালয়ে যান তিনি। বর্তমান সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তবুও আমরা সংকট নিরসনে এই তথাকথিত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রাজি।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল বলেন,‘ আমরা তো হাওয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে পারি না। যেহেতু একটি তথাকথিত সরকার আছে এই সরকারের সঙ্গেই আলোচনা করতে হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকেই প্রস্তাব আসতে হবে।’

উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ মন্তব্য করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘কী ধরনের ছলচাতুরি করে এই সরকার গঠন করা হয়েছে। কে মন্ত্রী ,এমপি হলো এটা দেখার বিষয় নয়, আপনারা (সাংবাদিক) দেখেছেন কেবিনেটে বিরোধী দলের মন্ত্রীও আছে। সংবিধানেও আছে, একটি কার্যকরী ও শাক্তিশালী বিরোধীদল থাকবে হবে।’

তিনি বলেন,‘ দীর্ঘ আড়াই মাস বিএনপিসহ বিরোধীদল ফ্যাসিবাদী সরকারের কাছে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে। হত্যা, গ্রেপ্তার, মামলা, হামলা, গুম করে বিরোধীদল নির্মূল করার ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেয়নি এবারও মেনে নেবে না। জনগণের প্রচেষ্টায় গণতন্ত্র মুক্ত হবে।’

৮৫ বছরের বেশি বয়সী নেতাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হচ্ছে- এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিলম্বিত করা হচ্ছে বিচার কাজ।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরোধ করে রাখা হয়েছিলো। রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তারের পর থেকে কার্যালয়ে প্রবেশে আরো বেশি বাধার সৃষ্টি করা হয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে পুলিশ দিয়ে কার্যালয় ঘিরে রেখে যে কাজটি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক আচরণ।’

গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজও গণতন্ত্র অবরুদ্ধ। আবার গণতন্ত্র মুক্ত হবে।’

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখা, নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, মিথ্যা মামলায় আটক করাসহ সরকারের বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক আচরণের নিন্দা জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘যে আন্দোলন চলছে, তা দিয়ে দাবি আদায় করা হবে। গণতন্ত্রের বিজয় হবেই।’মির্জা আলমগীর কার্যালয়ে ভাঙচুর হওয়া প্রতিটি কক্ষ ঘুরে ঘুরে দেখেন। প্রায় ১৭ মিনিট তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে বেরিয়ে যান তিনি।

গভীর রাতে কার্যালয়ে ঢুকে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তারের প্রায় ৪৭দিন পর খুলেছে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনির নেতৃত্বে চার নেতা কার্যালয়ে ঢোকেন। এর আগে নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে টানা ৪৭ দিন ওই এলাকায় পুলিশি কড়াকড়িতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় বন্ধ থাকে।

বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে জনির সঙ্গে শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন, যুব দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা খুলে ভিতরে ঢোকেন। এ সময় কয়েকজন কর্মীকেও তাদের সঙ্গে দেখা যায়।

এরপর দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, টাঙ্গাইলের সাধারণ সম্পাদক শামসুর আলম তোফা, যুব দলের পল্লী উন্নয়ন সম্পাদক হাজী ইউসুফ, ছাত্র দলের সহ অর্থ সম্পাদক নূরুল হুদা নূরুসহ কয়েকজন নেতাও কার্যালয়ে যান।
mirza fokrol
নাশকতার তিনটি মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি বোরহান উদ্দিন এবং বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়। এতদিন পলাতক থাকা বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন। পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না করা পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার বা হয়রানী না করতে বলা হয়েছে। মির্জা ফখরুলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র এডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী। নির্বাচনের আগে অবরোধ কর্মসূচিতে বাসে আগুন, পেট্রোল বোমা হামলার অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় এসব মামলা দায়ের করা হয়।


আরোও সংবাদ