কেউ যদি দোষ করে তাহলে ফাঁসি দিন,স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যাবেন না

প্রকাশ:| রবিবার, ২০ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

বন্ধকী স্বর্ণ নিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদেরবন্ধকী স্বর্ণ নিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানি না করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সতর্ক করেছেন চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

রোববার বিকেলে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মহিউদ্দিন তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে, কেউ যদি দোষ করে তাহলে ফাঁসি দিন। কিন্তু অযথা তাদের গ্রেপ্তার করবেন, বন্ধকী স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যাবেন, তাদের উপর জুলুম করবেন, সেটা মানব না।

গত ৬ এপ্রিল কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী নন্দরাম ধরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিজিবি’র একটি টিম বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করে। তারা নন্দরাম এবং তার দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।

এর প্রতিবাদে আয়োজিত এ সমাবেশে নন্দরামের আরেক ছেলে অলক ধর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আমার বাবার পায়ে গুলি করেছে। আমার বৌদিদের শরীরের সব স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে গেছে। এসব দেখে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা আমার মায়ের হাত থেকে স্বর্ণ মোড়ানো শাঁখা খুলে নেয়।

নন্দরামের ছেলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে মহিউদ্দিন বলেন, আপনারা মায়ের হাত থেকে শাঁখা খুলে নিলেন কেন ? আপনাদের কি মা-বোন নেই ?

অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে লুটপাট হয়েছে, তিনি বাধা দেননি কেন ? তার জন্য সরকারের বদনাম হয়েছে।

নন্দরাম ও তার দুই ছেলের মুক্তি দাবি করে মহিউদ্দিন স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বলেন, আপনারা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান। ঢাকায় গিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, সমাবেশ করুন। আপনাদের উপর যে জুলুম চলছে তা সবাইকে ‍জানান।

মহিউদ্দিন বলেন, যুগ যুগ ধরে বন্ধকী ব্যবসা চলে আসছে। একদিনে এটা বন্ধ করা যাবেনা। বন্ধকী ব্যবসা নিয়ে আগে নীতিমালা হোক। কার কাছে কি পরিমাণ স্বর্ণ রাখা যাবে তা নীতিমালায় বলা হোক। তারপর কোন ব্যবসায়ী যদি নীতিমাল ভঙ্গ করলে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের কাছে সোপর্দ্দ করা হোক।

দেশে প্রতিনিয়ত স্বর্ণের চালান আটকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন এক সের, দেড় সের, দুই সের স্বর্ণ ধরা পড়ছে। দশটা চালান আসলে একটা ধরা পড়ে। স্বর্ণের অবৈধ চালান ধরার দিকে নজর না দিয়ে যারা নিরীহ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করছে, তারা সরকারের বদনাম করছে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, স্বর্ণের ব্যবসা যাতে সুন্দরভাবে চলতে পারে, সেজন্য অবশ্যই একটা নীতিমালা দরকার। ব্যবসায়ীরা নিজেরাই প্রথমে একটি খসড়া নীতিমালা করতে পারেন। নীতিমাল চূড়ান্ত হলে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বন্ধকী ব্যবসা বৈধতা পাবে অথবা আইনের আওতায় আসবে।

তিনি বলেন, যারা স্বর্ণের ব্যবসা করেন তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ হিন্দু। আপনারা এবং আওয়ামী লীগ এক ও অভিন্ন স্বত্তা। অনেকে বলেছেন, এসব ঘটনা অব্যাহত থাকলে আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন কিংবা অন্য দেশে পাড়ি জমাবেন। এসব আপনাদের অভিমানের কথা। আওয়ামী লীগ না থাকলে আপনাদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন আরও বাড়বে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীদের কেউ এক আঙ্গুল দেখালে আমরা দু’আঙ্গুল দেখাব। আমাদের কোন জাত নেই। আমরা সবাই এক। আমাদের জাত ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের কেউ অন্যায় করুক, অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করুক তা আমি চাইনা। কিন্তু অযথা ব্যবসায়ীদের কেউ হয়রানি করলে আমরা মাঠে নেমে যাব।

নগর আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ও স্থানীয় কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী বলেন, বন্ধকী স্বর্ণ ব্যবসা হুট করে শুরু হয়নি। যুগ যুগ ধরে এ ব্যবসা করে আসছে। আমানতকারীরা বিশ্বাস স্থাপন করে ব্যবসায়ীর কাছে স্বর্ণ রাখেন। এখানে আমানতকারীর দোষ কি ? স্বর্ণ লুট করে নিরীহ আমানতকারীদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে ?

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মো.নূরুল আবসারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র ধর, জুয়েলার্স সমিতির নেতা সঞ্জীব দত্ত, অ্যাডভোকেট ‍অমল কান্তি ধর, স্বপন কান্তি ধর, বরুণ কান্তি ধর, তড়িৎ ধর প্রমুখ।