কেউ কেউ তৃণমুলের মতবিনিময়কে চাপিয়ে দেওয়া বলে মিথ্যাচার করছে

প্রকাশ:| শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৯:৫৬ অপরাহ্ণ

mohiuddin-alশনিবার দুপুরে নগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর সংসদীয় আসন সমূহে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে তৃণমূলের মতবিনিময় সভায় সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন কেউ কেউ তৃণমুলের এই মতবিনিময়কে চাপিয়ে দেওয়া বলে অভিযোগ করেছেন এটা চাপিয়ে দেওয়া নয়। এখানে কারো মতামতকে আগ্রাহ্য করা হচ্ছে না। অনেকে সময় পেয়েছে আসছেন অনেকে আসেননি। সমস্যা নেই দলের পক্ষ থেকে যাকেই প্রার্থী দেওয়া হোক না কেন নৌকার পক্ষে কাজ করে বিজয় উপহার দেওয়া হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন আসনে প্রার্থী হবেন না, দল যেখানে নির্বাচনের জন্য কাজ করতে বলবে এবং যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে তাকে বিজয়ী করতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন ।এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি অনুষ্ঠানে মেয়র নির্বাচনও করবেন না বলে ঘোষণা দিলে তিনি সংসদ নির্বাচন করবেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়।
তিনি বলেন, আমি সংসদ নির্বাচন করবো বলে অনেকে ভয় পাচ্ছেন। ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। মহিউদ্দিনের প্রার্থীতার প্রয়োজন নেই। পদের প্রয়োজন নেই। জনগনের ভালোবাসা নিয়ে আমি বেঁচে থাকতে চাই।
নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ, নগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেন, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, দক্ষিন জেলা সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সুজন, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম ও রেজাউল করিম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-৮, ৯ ও ১০ তিনটি আসনেই বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করেছিল। কিন্তু তিনটি আসনের কোন প্রার্থীই তৃণমুলের এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন না। তিন আসনের সাংসদ হচ্ছেন যথাক্রমে নূরুল ইসলাম বিএসসি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা.আফছারুল আমিন এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ।

সাবেক মেয়র বলেন, গত নির্বাচনে অনেক প্রার্থী আমার পছন্দের ছিল না। তবুও দলের প্রার্থীদের জন্য কাজ করেছি। চারটি আসনে পরিকল্পিত কাজ করেছি বলেই প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে। ইতিমধ্যে কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। কিছু পরিকল্পনা প্রকাশ করবো, কিছু পরিকল্পনা গোপন থাকবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতি ওয়ার্ডের ৬’শ নেতাকর্মীকে ১২ হাজার ভোট নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য একটি ফরম পূরণ করতে হবে। সেখানে ভোটারের আইডি ও ফোন নাম্বার এবং স্বাক্ষর থাকবে। তাহলে কোন আসনে কত ভোট আমরা পাব তা নিশ্চিত করা যাবে। প্রতি কর্মীকে ২০টি ভোট নিশ্চিত করতে হবে।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, অনেকে সংসদে যাবেন না বলে হাঁক ডাক করছেন। তারা সংসদে যাবেন কি করে? গত নির্বাচনে মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছে। এ লজ্জায় তারা সংসদে যেতে পারেন না। লজ্জাকে ধামা চাপা দেওয়ার জন্য তারা সংঘাত, নৈরাজ্য ও জঙ্গীবাদ সৃষ্টি করছে।

দক্ষিন জেলা সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচন একটি চ্যালেঞ্জ। সুতরাং নৌকার প্রতীককে জিতিয়ে আনতে হবে। চট্টগ্রামের বন্দর ড্রেজিং করার জন্য কোন সরকার উদ্যোগ নেয়নি। এ সরকার এসে ড্রেজিং ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেনসহ চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ করেছে। এ উন্নয়ন অব্যহত রাখতে শেখ হাসিনা যাকে‌ই মনোয়ন দেন তাকেই নৌকায় ভোট দিয়ে জয়ী করে আনতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশে জঙ্গীবাদের সৃষ্টি হবে। দেশের পাঁচ’শ জায়গায় বোমা ফুটবে। আবার বাংলা ভাই, শাইখ আবদুর রহমান সৃষ্টি হবে। সুতরাং মানুষ তা বোঝে। গ্রামীন পর্যায়ের মানুষ নৌকাকেই বেচে নেবে।

মতবিনিময় সভায় নগরীর চারটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের নাম দলীয় নেত্রীর কাছে প্রস্তাবের অনুরোধ জানান এবং তৃণমুলের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

চারটি আসনে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা হলেন- চট্টগ্রাম-৮ (কোতয়ালী) আসন থেকে নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা আজম নাছির উদ্দিন ও চেম্বার পরিচালক মো. ছগির।

চট্টগ্রাম-৯ (ডবলমুরিং-খুলশী ও হালিশহর) নগর সিনিয়র সহ সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেন, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, সৈয়দ মাহমুদুল হক।

চট্টগ্রাম-১০ (বন্দর-পতেঙ্গা) নগর যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদুল আলম সুজন, আলতাফ হোসেন বাচ্চু, নুরুল আলম, মোহাম্মদ আসলাম, হাজী ইকবাল ও সাইফুদ্দীন খালেদ বাহার। চট্টগ্রাম-৭ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) দক্ষিন জেলা সভাপতি মোসলেম উদ্দিন, নগর সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম, চান্দগাঁও থানা যুগ্ম আহবায়ক আবু তাহের।