কেইপিজেডের পাদুকা কারখানা, পাল্টে যাচ্ছে আনোয়ারা

প্রকাশ:| রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

সিদরাতুল মুনত্বাহা মুক্তি
কেইপিজেডের পাদুকা কারখানা
রাশেদা বেগম (২৭)। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। আগে একটি বেসরকারী সংস্থার পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। লোকমুখে শুনেছেন কোরিয় রপ্তানীজাতকরণ অঞ্চলের একটি পাদুকা কারখানায় লোক নেয়া হচ্ছে। যোগাযোগ করে একটি চাকুরী ও নিয়েছেন। এখন তিনি পুরোদস্তুর চাকুরীজীবি। পাখিডাকা ভোরে তিনি যখন কর্মস্থলে যাবার জন্য ঘর থেকে বের হন তখন ঘুমেই থাকেন তার স্বামী ও সন্তানেরা। রাশেদার মত এরকম অনেক নারীই স্বামী-সন্তানকে সন্তানকে ঘুমে রেখে ছুটে যান চাকরীতে, ফেরেন সন্ধ্যায়। দশজন পুরুষের মতই তারা কাটাচ্ছেন ব্যস্ততম দিন। এতে করে বদলে গেছে সাংসারিক জীবন ও কাজ। যে কারণে এ বদলে যাওয়া তা হলো আনোয়ারায় কোরিয় রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (কেইপিজেড) পাদুকা কারখানা ও ব্যাগ প্রস্তুতকারকী কারখানা স্থাপন। কারখানায় নারী শ্রমিক বেশি হলেও কাজের সুযোগ সৃষ্ঠি হয়েছে পুরুষেরও।
জানা গেছে, কোরিয় রপ্তানী প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (কেইপিজেড) ২০০৯ গড়ে ওঠার পরে ২০১১ সালের অক্টোবরে উৎপাদনে যায় ইয়াং ওয়ানের প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী সুজ ইন্ডাস্ট্রিজ লি. (কেএসআইএল) নামক পাদুকা কারখানা। এটি চালুর দু মাসের মাথায় উৎপাদিত পাদুকা রপ্তানি হয় কোরিয়ায়। বর্তমানে বিশ্বের ১২ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে তৈরী পাদুকা। বিশাল কেইপিজেডের এলাকার মধ্যে ৯০ একর জায়গায় অবস্থিত পাদুকা কারখানার ৪টি ইউনিটে বর্তমানে ৪ হাজারের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। কারখানাটিতে এখনও শ্রমিক নিয়োগ চলছে। আর এটি পুরোদমে উৎপাদনে গেলে ৩০ হাজারের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কেইপিজেডটি স্থাপিত হয়। জমি বরাদ্দ দেওয়ার পর কেইপিজেডের একটি প্রতিষ্টান ইয়ং ওয়ান প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সেখানে কারখানা স্থাপনের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলে। আর সেখানে প্রথম চালু করে কর্ণফুলী সু ইন্ডাস্ট্রিজ।
কেইপিজেড সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের বেশ কিছু বহুজাতিক কোম্পানি কেইপিজেডে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কেইপিজেড এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংযোগ না দেওয়ায় ওই বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসছেনা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর কারখানা ঘুরে দেখা গেছে সেখানে ৪টি ইউনিটে চলছে পাদুকা তৈরীর কাজ। একটি ইউনিটে চলছে অদক্ষ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ। তাছাড় আরেকটি ইউনিটে চলছে ব্যাগ তৈরীর প্রশিক্ষণও।
এদিকে, কর্ণফুলী সুজ চালুর সাথে সাথে পাল্টে যেতে শুরু করেছে আনোয়ারার চিরচেনা দৃশ্যপট। কর্মজীবি নারী-পুরুষের পদচারণায় পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্য। শ্রমিকেরা যখন চাকুরীতে যান ও কারখানা থেকে বেরোন তখন জমজমাট হয়ে পড়ে উপজেলার বন্দর কমিউনিটি সেন্টার, চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকা। এসব এলাকার অবস্থা সম্পন্ন লোকেরা ইতিমধ্যে ‘বাড়ীভাড়া’ দিতে শুরু করেছেন। আর তাতে উঠছেন ভিন্ন জেলার শ্রমিকরা।
কর্ণফুলী সুজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ইউনিট ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মো. এনাম এলাহী বলেন, কারখানায় একসাথে প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন দুটোই চলছে, সবাই আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে।
কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) মোবারক হোসেন বলেন, বর্তমানে দক্ষ অদক্ষ মিলে ৪ হাজার শ্রমিক কারখানায় কাজ করছে।
জানতে চাইলে কেইপিজেডের মহাব্যবস্থাপক আফতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরোদমে কেইপিজেড ও পাদুকা কারখানা চালু হলে আনোয়ারার বিশাল পরিবর্তন আসবে। এখানকার লোকেরাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ পাচ্ছে, ভবিষ্যতেও পাবে।
এ ব্যাপারে কেইপিজেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিগ্রেডিয়ার (অব:) মুহাম্মদ হাসান নাসির প্রথম আলোকে পাদুকা কারখানা পুরোপুরি চালু চলে ৩২ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। এটি হবে এশিয়ার বৃহৎ পাদুকা তৈরীর কারখানা।


আরোও সংবাদ